বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হানারচরে ইসলামী আন্দোলনের গণসমাবেশে জেলা নেতৃবৃন্দ

ইউনুস সরকারের প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসর আছে কিনা খতিয়ে দেখা দরকার : জয়নাল আবদিন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৯:০৯ পিএম
ইউনুস সরকারের প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসর আছে কিনা খতিয়ে দেখা দরকার : জয়নাল আবদিন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা নেতৃবৃন্দ বলেছেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ওবায়দুল কাদেরের দেশত্যাগ আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। ইউনুস সরকারের প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসর আছে কিনা খতিয়ে দেখা দরকার। প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া কোনো অবস্থাতেই খুনিদেরনদেশত্যাগ সম্ভব নয়।
৫ আগস্ট পরবর্তী সময় সেনা হেফাজতে থাকা আওয়ামী খুনিরা কোথায় এ প্রশ্ন আজ দেশবাসির। অবিলম্বে খুনি হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ফ্যাসিস্ট সরকারের পলাতক সকল আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
আজ শুক্রবার বিকাল ৩টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৩ নং হানারচর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে গণসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সভাপতি শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবদিন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সিনিয়র সহসভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজামাল গাজী সোহাগ, প্রচার ও দাওয়াহবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা হেলাল আহমাদ, সদর উপজেলা সভাপতি ডা. বেলাল হোসাইন, ইসলামী যুব আন্দোলন চাঁদপুর জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, সদর উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শাব্বির আহমাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা সভাপতি শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবদিন বলেন, এ সরকারের প্রতি দেশের জনতার এতো সমর্থন রয়েছে যা অতীতে কোনো সরকারের প্রতি ছিলো না। তাহলে খুনিদের বিচার ও প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে ভয় কিসের? কোনো চাপের কাছে এ সরকার মাথা নত করবে না এটাই জনতার আকাঙ্ক্ষা। জনতার আকাঙ্খা পূরণে সরকার আরও আন্তরিক হবে এটা সরকারের প্রতি জনতার প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর হামলা রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ভারতের বাড়াবাড়ি অতিমাত্রায় পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশে নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের ওপর বিএসএফ পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে আসছে। সময় এসেছে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার। তিনি আরও বলেন, শুধু সীমান্ত হত্যা নয়, ভারত আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়েও বেশি নাক গলাচ্ছে। যা শিষ্টাচার বহির্ভূত।
প্রতিবেশি হয়ে থাকার পরিবর্তে ভারতের খবরদারিসুলভ আচরণ স্বাধীন দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। রক্তে কেনা স্বাধীনতা নিয়ে কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। প্রধান অতিথি আরও বলেন, আগামি নির্বাচন যেনতেনভাবে করলে ফ্যাসিবাদেরই জয় হবে। যা দেশের মানুষ মেনে নেবে না। গণমানুষ এখন পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চায়। আগামি  নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে আয়োজন  করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা মাকসুদুর রহমান বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং সকল নিহতদের রাষ্ট্রীয় বীর হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে। আহতদের অনেকেই চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছে।  এটা প্রত্যাশা ছিলো না। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে নিয়ে আসতে হবে। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণ করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের সাথে গোটা দেশের জনগণের ম্যান্ডেট রয়েছে, স্বতঃস্ফূর্ত সাপোর্ট রয়েছে। আপনারা সাহসিকতার সাথে সকল খুনিদের খুঁজে বের করে আনুন।
হাসিনাসহ পলাতক সবাইকে দেশে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল এখন ফ্যাসিবাদের সুরে কথা বলছে। কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেয়া হচ্ছে।
আমরা পরিস্কার বলতে চাই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান সংবিধান মেনে হয়নি। দেশের মানুষই এখন নির্ধারণ করবে দেশ কোন গতিতে চলবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের মেসেজ শুধু বাস্তবায়ন করবে। তিনি আরও বলেন,  রোমহষর্ক বিডিয়ার ট্রাজেডির বিচার কোন অবস্থায় আছে জাতিকে তা জানাতে হবে। নির্দয় নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের শিকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এতগুলো অফিসার হত্যার মধ্য দিয়ে মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অকার্যকর করার নীলনকশারই অংশ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনতার প্রত্যাশা হলো বিডিয়ার ট্রাজেডিসহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার দ্রুত শেষ করা।
১৩নং হানারচর ইউনিয়ন সভাপতি হাফেজ মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা মজিবুর রহমান, হাফেজ মনিরুজ্জামান, মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ আবু সাইদ বেপারি প্রমুখ।
বক্তারা গণমানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আগামিতে ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

চাঁদপুরের মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করায় তাকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ওই শিক্ষকের নাম মোঃ জুয়েল তালুকদার। তার বাড়ী হাজীগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দসার গ্রামে। তার পিতার নাম আলী আজম। মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। এক বছর আগে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি।

জানা গেছে, শিক্ষক জুয়েল তালুকদার তার নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যাঙ্গ করে এবং কুরুচিপূর্ণ ও সমালোচনামুলক একাধিক পোস্ট করেন ওই শিক্ষক। বিগত কয়েক মাস যাবৎ ‘জুয়েল তালুকদার ‘ নামের ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছাড়াও বিএনপির সাবেক মহাসচিব বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি দিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নজরে আসলে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃস্টি হয় এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।

তাৎক্ষণিক মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কেএম ইশমাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক জুয়েল তালুকদারকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Model Hospital

মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান বলেন, ‘ওই শিক্ষক সরকারের সুবিধা ভোগ করে তার ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা করে আসছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।’

মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি শোয়েব আহমেদ সরকার বলেন,‘ওই শিক্ষক মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অন্তরালে সরকারের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান তিনি।’

ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে জুয়েল তালুকদার বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি পরবর্তীতে ডিলিট করে দিয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি কেএম ইশমাম বলেন, ‘শিক্ষককে বাধ্যতামুলক ছুটির পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ কার্যদিসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।’