শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আলমগীর তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক সুজন পোদ্দার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৩:৩৫ পিএম
কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আলমগীর তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক সুজন পোদ্দার

মোঃ রাছেল : সমঝোতার ভিত্তিতে কচুয়া প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

গত ১৪ তারিখে অনুষ্ঠিত কচুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সভায় সমঝোতার মাধ্যমেকমিটি গঠন করার লক্ষে সকলে ঐক্যমত পোষণ করে। ঐক্যমতের আলোকে ৪ সদস্যসের একটি সমঝোতার কমিটি গঠিত হয়।

শুক্রবার বিকালে এক আনন্দঘন পরিবেশে সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে সমঝোতা কমিটি ‘দৈনিক জনকণ্ঠ’ পত্রিকা ও বাংলা ভিশন টেলিভিশনের কচুয়া প্রতিনিধি মো. আলমগীর তালুকদারকে সভাপতি ও ‘দৈনিক আজকের’ পত্রিকা ও ‘দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহ’ পত্রিকার কচুয়া প্রতিনিধি সুজন পোদ্দারকে সাধারণ সম্পাদক করে কচুয়া প্রেসক্লাবের ২০২২-২০২৩সালের (১বছর মেয়াদী) কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া ২০২৩-২০২৪ সালের কমিটির সভাপতি হিসেবে ‘দৈনিক কালের কন্ঠ’ পত্রিকার কচুয়া প্রতিনিধি প্রিয়তুষ পোদ্দার ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে‘দৈনিক যুগান্তর’ পত্রিকার কচুয়া প্রতিনিধি জিসান আহমেদ নান্নুকে নির্বাচিত করা হয়। ঘোষণা করা কমিটিদ্বয়কে সকলে করতালি দিয়ে সমর্থন ও অভিনন্দন জানান।

Model Hospital

সমঝোতা কমিটিতে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন কচুয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবুল হোসেন। সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক ভৌমিক,সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও নির্বাহী সদস্য সনতুষ চন্দ্র সেন।

নব-নির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন,সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি,এনবিআর’র সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম হোসেন, কচুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.শাহাজাহান শিশির, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা খানম, ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলম, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. ইবনে আল জায়েদ, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. হেলাল উদ্দিন,কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইব্রাহিম খলিল, পৌর মেয়র নাজমুল আলম স্বপন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আকতার হোসেন সোহেল ভূঁইয়া, সাধরাণ সম্পাদক ইকবাল আজিজ শাহীন, উপজেলা যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল প্রধান জালাল,কচুয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আলহাজ্ব রুহুল আমিন ও সদস্য সচিব অ্যাড. মাঈন উদ্দিন মাইনু, উত্তর কচুয়া ইউপি চেয়ারম্যান এম আকতার হোসেন, গোহট উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন, পশ্চিম সহদেবপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, কড়ইয়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ছালাম সওদাগর, কচুয়া পৌর কাউন্সিলর কামাল হোসেন অন্তর, কাদলা ইউপি চেয়ারম্যান নূরে-ই আলম রিহাত, গোহট দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন, ঝিলমিল সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ফরহাদ চৌধুরী, আলোর মশাল সংগঠনের সভাপতি আবু সায়েম মৃধা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’