শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

দখল-দুষণে ডাকাতিয়া নদী, অস্তিত্ব হারানোর আশংকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১:৪৯ পিএম
দখল-দুষণে ডাকাতিয়া নদী, অস্তিত্ব হারানোর আশংকা

এস. এম ইকবাল : চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ নৌপথে অতিমাত্রায় কচুরিপানা জটে নৌযান চলাচল করতে পারছেনা। ফলে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছে। এদিকে দখল আর দুষণের কারণে আশপাশের পরিবেশ বিষ ভাষ্পে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ফরিদগঞ্জ-চাঁদপুর নৌপথের দুরত্ব প্রায় ১৮ কি.মি.। পুরো নৌপথটি ডাকাতিয়া নদী ও সিআইপি ভেড়ি বাধেঁর ভিতরে অংশে পড়েছে। বর্তমানে জটিল আকার ধারণ করেছে কচুরি পানা। নদীটি কচুরিপানা দিয়ে এমনভাবে বেষ্টিত যে পায়ে হেঁটে নদী পার হওয়া সম্ভব । আবহমান কাল থেকে চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ নৌপথটি দিয়ে চাঁদপুর থেকে ৩/৪ শ‘ মণ মালামাল নিয়ে এক একটি নৌকা চান্দ্রা, টুবগী, গাজীপুর হয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরে আসত । বর্তমানে এ নৌপথে মাত্রাতিরিক্ত কচুরি পানা জটে নৌপথটি বন্ধ হয়ে গেছে।

নৌচালক / নৌকার মাঝিদের মধ্যে মোঃ জহির মাঝি, খালেক মাঝি, মালেক মাঝি, হারুন মাঝি, শাহাজান মাঝি, জানান, ৭০/৮০টি নৌকা এ পথে আবহমান কাল থেকে চলে আসলেও কচুরিপানার কারণে এখন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি। তাই এখন আর পাল তোলা নৌকার দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যের দেখা ডাকাতিয়া নদীতে মিলছেনা। তাছাড়া ঢাকা-ফরিদগঞ্জ লঞ্চ যোগাযোগও দীর্ঘ সময় চালু ছিল। এ নৌপথটি পুণ:রুদ্ধার হলে চাঁদপুর- ফরিদগঞ্জে লঞ্চ যাতায়াতের সুযোগ পেতো এ অঞ্চলের লোকজন।

ব্যবসায়ীরা জানান, স্থল পথে মালামাল বহনে ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল আর নৌপথে অনেক কম খরচ ও ঝুঁকিমুক্তভাবে মালামাল বহন করা যায়। তাই ব্যবসায়ী ও পরিবেশ বিধদের দাবী , ডাকাতিয়া নদীর কচুরি পানা অপসারণ পূর্বক নৌপথের পুন:রুদ্ধার ও পরিবেশ দুষণের হাত থেকে নদী তীরের জন বসতিকে রক্ষা করার।

Model Hospital

সরকার প্রতি বছর ডাকাতিয়া নদীতে জেলে পরিবারগুলোর কথা চিন্তা করে মাছের পোনা অবমুক্ত করছে। কচুরিপানা পঁচে পানি দুর্গন্ধ হয়ে মাছে মড়ক লেগে কোটি কোটি টাকার মৎস্য সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। প্রতিবছর পানি দূর্গন্ধ হয়ে হাজার হাজার দেশীয় প্রজাতির মাছ, বোয়াল, পাবদা, টেংরা, পুঁটি, শোল, মলা ঢেলা, রুই, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে সাবাড় হচ্ছে।

এ নদীর ফরিদগঞ্জ অংশের বেশ কিছু অংশ দখল ও দুষণের কবলে পড়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। উপজেলা সদর বাজারের উত্তর অংশে কেরোয়া ব্রীজের দু’পাড়ের দু’পাশ ময়লা-আর্বজনা ফেলে বিশাল অংশ ভরাট করেছে দখলবাজরা এবং সেকদী এলাকায় একটি নিচু ব্রীজ ও চান্দ্রা বাজারে নদী ভরাট করে ১নং বালিথুবা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভবন নির্মান হওয়ায় নদীতে স্থায়ী প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হয়েছে। সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত ভাবে নদীর মাঝখান ভরাট করে ভূমি অফিস নির্মান করে সরকারের অর্থের অপচয় করা হয়েছে। স্থানীয়রা নদীটি স্বচল রাখতে জরুরী ভিত্তিতে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা এবং সেকদী এলাকার নিচু ব্রীজটিও অপসারণ দাবী জানান। এ ছাড়াও টুবগী এলাকায় অনুমোদন ছাড়া একটি ব্রিক ফিল্ড এর আবর্জনায় নদী দূষণ করা হচ্ছে। নতুন ভাবে নদীর বিভিন্ন অংশে নিজেদের মত করে দখল করে নিচ্ছে দখলদাররা। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে নদী দখল মুক্ত করা দরকার মনে করছেন সচেতন মহল।

উপজেলা মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার রুমা জানান, কচুরিপানা অপসারনের জন্য সরকারের বড় ধরণের প্রকল্প দিয়ে পানি, মাছ ও পরিবেশ দুষণমুক্ত ও জেলে পরিবারকে টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা নেয়া দরকার। তবে বরাদ্দ সাপেক্ষে সমস্যা সমাধান করা যাবে।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি মো. কামরুল হাসান জানান, ডাকাতিয়া নদীর কচুরি পানা অপসারনে উদ্যোগ নিতে জেলা মৎস্য অফিস ও নৌপুলিশকে ২১ সেপ্টেম্বর জেলা মাসিক সমন্বয় সভায় বলা হয়েছে। তিনি আরোও বলেন, নদীটি এভাবে পড়ে থাকলে ৮/১০ বছরের মধ্যেই অস্তিত্ব হারাবে। আমি পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে বরাদ্দ চেয়ে পত্র পাঠাবো। বরাদ্দ পেলে নদীটি পুন:রূদ্ধার করে নৌচলাচলের উপযোগী করা ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

শাহমাহমুদপুরকে মডেল ইউনিয়ন গড়তে চান দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৫ পিএম
শাহমাহমুদপুরকে মডেল ইউনিয়ন গড়তে চান দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে আসন্ন ইউপি নির্বাচনী মাঠে থাকতে চান দুইবারের সাবেক সফল চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ। ভোটারদের সমর্থন ও ভালোবাসা নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলে এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
স্বপন মাহমুদ চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। তিনি এর আগে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা ১০ বছর শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নিজের দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বপন মাহমুদ প্রিয় চাঁদপুরকে বলেন, অতীতে টানা ১০ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে এলাকার উন্নয়নে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে চাই। এমনকি ঐ সময়কালীন বিভিন্ন হামলা-মামলার শিকার হয়েও শাহমাহমুদপুরের মাটি ছেড়ে যাইনি। এই ইউনিয়নের মানুষের কাছেই থেকেছি। সকল শ্রেনী পেশার মানুষের কাছাকাছি থেকে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। এতে করেই তৎকালীন সরকারের সময় জেলা ও উপজেলায় শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মাননা অর্জন করেছি। পাশাপাশি আমার রাজনৈতিক দলের দুঃসময়েও দলের সকল কর্মকান্ডে জড়িত থেকে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।
এদিকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অসংখ্যবার কারানির্যাতিত স্বপন মাহমুদের প্রত্যাশা, তাঁর দল বিএনপি বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার সুবাদে দলীয় সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি মনে করেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামো এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
তিনি শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নকে শুধু সাধারণ একটি ইউনিয়ন হিসেবে নয়, বরং চাঁদপুর জেলার মধ্যে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, জনসেবার মান বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
স্বপন মাহমুদের মতে, জনপ্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের পাশে থাকা এবং এলাকার সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করা। তাই আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি ভোটারদের সমর্থন ও আস্থাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চান।
দীর্ঘ ১০ বছরের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে আবারও জনগণের সেবা করার প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান স্বপন মাহমুদ। তবে তাঁর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন ভোটারদের সমর্থন ও নির্বাচনে বিজয়। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে শাহমাহমুদপুরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে স্বপন মাহমুদের মডেল ইউনিয়ন গড়ার পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন ভাবনা ভোটারদের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলে, তা নির্ভর করবে তাঁর নির্বাচনী অবস্থান ও জনসমর্থনের ওপর।