সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু শয্যায় সৌদি প্রবাসী রাজু পরিবারে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৭ নভেম্বর, ২০২২, ২:২৭ পিএম
চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু শয্যায় সৌদি প্রবাসী রাজু পরিবারে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা

মনিরুল ইসলাম মনির : ছেলে মো. রাজু আহমেদকে কর্মসংস্থান ও রোজগারের জন্য পাঠিয়ে এখন দিশেহারা তার পিতা ও মাতা। চলতি বছরের গত ১১ মার্চ সৌদি আরবে পাড়ি জমান রাজু। ওই দেশে যাওয়ার পর ২ মাস ১৫ দিন কাজ করার পর সড়ক দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে রাজু এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুই যেন তার একমাত্র পথ বলে জানান তারা পিতা ও মাতা।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ধনাগোদা গ্রামে রাজুর বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রাজু আহমেদের মাতা সাজেদা বেগম। এসময় তিনি বলেন, আমার ছেলেকে রোজগারের জন্য পাঠিয়েছিলাম সৌদি আরবে। কিন্তু সে গত ৪ জুলাই এক্সিডেন্ট হয়ে পায়ের ও পিঠের হাড় ভেঙ্গে মারাত্মক জখম হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে মৃত্যু শয্যায় পড়ে আছে।

আমরা ছেলেকে দেশে এনে চিকিৎসা করানো জন্য চেষ্টা করছি, কিন্তু কোন পথ পাচ্ছি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন আমার ছেলেকে যোতে দেশে ফেরত এনে তাকে বাঁচতে সহায়তা করেন।

রাজুর পিতা আবুল হোসেন মৃধা বলেন, দূর্গাপুর গ্রামের বাসেদ মুন্সির ছেল টিটু মুন্সি একদিন আমাকে এসে বলে রাজুকে সৌদি পাঠিয়ে দিতাম। ওখানে ভাল কাজ দিবে এবং ভালো বেতন পাবে। তার কথায় রাজি হয়ে রাজুকে বিদেশে পাঠাই। কিন্তু ওখানে যাওয়ার আড়াই মাস পরেই রাজু সড়ক দূর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে এখন মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছে। কোম্পানী তার ইমাকা না করে দেওয়ায় ওই দেশে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারছে না। এমনি কোম্পানী বা ট্রাভেল এজেন্সীর কোন লোকও তাকে চিকিৎসা করায় না, খোঁজ খবরও নেয় না। বর্তমানে আমার ছেলে রাজু আহমেদ সৌদি আরবের রিয়াদে চিকিৎসার অভাবে ভূগছে। ভিসার দালাল টিটু ও ট্রাভেলের লোকজনের সাথে একাধিক বার কথা বলেও তারা কোন সমাধান করছে না। শুধু বলে কোম্পানী দেখবে। এমতবস্থায় আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। আমি বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবী করছি আমার ছেলেকে যাতে দেশে এনে দেন।

Model Hospital

রাজুর পিতা আবুল হোসেন বাদী হয়ে সম্প্রতি জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক বরাবর একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। পাশাপাশি রাজধানীর মতিঝিল থানায়ও একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কেবিএস ইন্টারন্যাশনাল, আরএল নং ১১১৯, এর মিডিয়া এএসএম সায়েম ও টিটু মুন্সির মাধ্যমে রাজু আহমেদকে (পাসপোর্ট নম্বর বিপি ০৬৫১৬৩৮ সৌদি আরবে পাঠানো হয়। কিছুদিন পার সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে মারাত্মক জখম হয় এবং বর্তমানে চিকিৎসাহীনতায় ভূগছে রাজু।

ওখানে তার চিকিৎসা এবং খাওয়া দাওয়ার করানোর মত কোন পরিচিত লোক নেই। এমনটি কোম্পানীর লোকও তার কোন খোঁজখবর নেয় না। ট্রাভেল্স ও মিডিয়াকে বার বার বলার পরও তারা কোন কর্নপাত করছে না। তাই সরকারের কাছে আবেদন যাতে রাজুকে দেশে আনার ব্যবস্থা করে দেন। বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাঁপ দিয়েও কোন পথ খুঁজে পাচ্ছেন না বলেও তিনি সাংবাদিকদের জানান। আদরের ছেলেকে চিকিৎসার অভাবে ভূগতে দেখে তাদেরও যেন নিশ^াস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ভিসার দালাল এই উপজেলার খালপাড় দূর্গাপুর গ্রামের বাসেদ মুন্সির ছেলে টিটু মুন্সির সাথে কথা বলতে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মুঠোফোনে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না। কিরন নামের এক লোক রাজুকে সৌদি পাঠিয়েছে। আমি শুধু যোগাযোগ করে দিছি।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।