শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিএনপি ফিরিয়ে নিতে চায় জ্বালাওপোড়াও খুন ধর্ষণ আর লুন্ঠনের রাজত্বে ; শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২২, ৩:০১ পিএম
বিএনপি ফিরিয়ে নিতে চায় জ্বালাওপোড়াও খুন ধর্ষণ আর লুন্ঠনের রাজত্বে ; শিক্ষামন্ত্রী
সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : ৫ ডিসেম্বর সোমবার চাঁদপুর স্টেডিয়াম মাঠে সদর উপজেলা ও চাঁদপুর পৌর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন২০২২ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন, শিক্ষামন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ডা. দীপু মনি এমপি।
তিনি বলেন, আজ দেশে অস্থিতিশীল করার লক্ষে একটি মহল কাজ করে যাচ্ছে। দেশ যেখানে সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে চলমান সেখানে ব‍্যহত করা অপচেষ্টা করে যাচ্ছে বিএনপি। বতর্মানে বিএনপি যা করছে তা শেখ হাসিনা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য করে যাচ্ছে । তারা আবার সেই তাদের আমলের বাংলা ভাইয়ের রাজত্বে দেশকে ফিরিয়ে নিতে চায়। ফিরিয়ে নিতে চায় জ্বালাওপোড়াও, খুন, ধর্ষণ, আর লুন্ঠনের রাজত্বে। আমি আপনাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই শেখ হাসিনা সরকার উন্নয়নের জন্য কি করেননি এই দেশে। যেমন বতর্মানে দেশে কোন গৃহহীন নেই। যারা গৃহহীন ছিল গত মুজিব বর্ষে প্রত‍্যেককে এই সরকার ঘর উপহার দিয়েছে। বতর্মানে ইউক্রেন ও রাশিয়া যুদ্ধ চলমান এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারনে একটা অলিখিত বিশ্বমন্দা চলছে। এই পরিস্থিতিকে শেখ হাসিনা আমাদের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তির জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এখনো যদি অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করেন আল্লাহর রহমতে আমাদের দেশ ভালো আছে।
তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা বারবার আমাকে নৌকা দিয়ে পাঠাচ্ছেন আর আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে যে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিচ্ছেন, চেষ্টা করছি আপনাদের সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও চেষ্টা করে যাব এই চাঁদপুরের উন্নয়নে। আজকের সম্মেলনে যারা নেতৃত্বে আসবেন তাদের হাত ধরে সুসংগঠিত হবে আওয়ামী পরিবার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি।
তিনি বলেন, চাঁদপুর জেলা ইলিশের জন্য বিখ্যাত। আবার বিখ্যাত কিছু মানুষের জন্য। আওয়ামী লীগ সরকারে সবসময় একাধিক মন্ত্রী থাকে এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ও এই চাঁদপুরের অনেকেই স্থান করে নেয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যে উন্নয়ন করেছে তা কোন সরকার করতে পারেনি। আপনাদের এই চাঁদপুরের উন্নয়ন দেখুন, দীপু মনি সংসদ হওয়ার আগের উন্নয়ন দেখেন আর এখনকার উন্নয়ন দেখেন। উন্নয়নের দিক দিয়ে এই সরকারের ধারেকাছেও কেউ নেই। তিনি আরো বলেন, এই সম্মেলনে যে মানুষ এসেছে তা কোন জেলা এমনকি বিভাগীয় কোন সম্মেলনে হয়না। চাঁদপুরের মানুষ সবদিক দিয়েই আন্তরিক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান।
অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্যে রাখেন, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল।
বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্যে রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও সমাজকল‍্যান বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, জেলা আওয়ামী লীগে সহ-সভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রব ভূইয়া, চাঁদপুর পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েল।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আরশাদ মিয়াজী।
সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে চাঁদপুর সার্কিট হাউজে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে নয়া কমিটি ঘোষণা করেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ। এতে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন সাবেক সভাপতি নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আলী এরশ্বাদ মিয়াজী, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রাধা গোবিন্দ গোপ, সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বাবুল। অথ্যাৎ সাবেক সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকরাই পূনরায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’