বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

স্মৃতিসৌধে কি আমি ফুল পাহারা দেবো; ফরিদগঞ্জ ইউএনও তাছলিমুন নেছা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ২:১৪ পিএম
স্মৃতিসৌধে কি আমি ফুল পাহারা দেবো; ফরিদগঞ্জ ইউএনও তাছলিমুন নেছা

এস এম ইকবাল : ফরিদগঞ্জে বিজয় দিবসে স্মৃতি সৌধে ছাত্রলীগের এক গ্রুপের ফুলের ডালা ভেঙ্গে ফেলেছে অপর গ্রুপ। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল দুর্বল। স্মৃতি সৌধে মানুষের অংশ গ্রহণ ছিল হাতেগোণা। শৃংখলার অভাব ছিল কুচকাওয়াজ মাঠে। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের এক অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে চলে গেছেন।

অপরদিকে, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানও মাঠ থেকে বের হয়ে চলে গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উপজেলা সদরের স্মৃতিসৌধে পুষ্পডালা অর্পণের জন্য অনেকের সাথে উপস্থিত হন ছাত্রলীগ ফরিদগঞ্জ উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ।

সভাপতি বাকিবিল্লার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ফুলের ডালা হাতে স্মৃতি সৌধের দিকে এগিয়ে যান। ওই সময়ে সাংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান, এমপি’র ঘোষিত ছাত্রলীগ উপজেলা কমিটির সভাপতি কামরুল হাসান পাটওয়ারী ওই ডালা টেনে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলেন।

ওই সময়ে তিনি বলেন, তোরা কিসের ছাত্রলীগ। তোরা ভুয়া।

Model Hospital

এর আগে মুহাম্মদ শফিকুর রহমান এমপি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছলিমুন নেছা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজুন নাহার, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তছলিম, থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল মান্নান, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক আবদুছ ছোবহান লিটন উপস্থিত ছেলেন। তবে, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উপজেলা কমিটির অধিকাংশজন উপস্থিত ছিলেন না। ফুলের ডালা ভেঙ্গে ফেলার পর পুষ্পস্তবক অর্পণ না করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ ছাত্রলীগের ওই অংশ নীরবে চলে যান।

ঘটনার সময়ে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করেন। দুপুরে স্মৃতিসৌধের বেদি ফাঁকা দেখা যায়। সেখান থেকে ফুলের ডালাগুলো কে বা কারা নিয়ে গেছে। এ সব ঘটনায় স্মৃতিসৌধে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

এদিকে, সকাল ৯ ঘটিকায় স্থানীয় এ.আর. হাই স্কুল মাঠে কুচকাওয়াজ মাঠে সালাম গ্রহণ শেষে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলামস রোমান মাঠ ত্যাগ করেন। অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান না দেওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আহম্মদ এর নেতৃত্বে এক অংশ মাঠ ত্যাগ করেন। তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে শোনা যায়।

ফুলের ডালা টেনে ভেঙ্গে ফেলার ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বাকিবিল্লাহ বলেন, যারা আমাদের হাত থেকে ফুলের ডালা ভেঙ্গেছে তারা ছাত্রলীগ পরিচয় দেয় কিভাবে? তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় দিবসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা নীরবে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গন ত্যাগ করেছি।

ফুলের ডালা ভেঙ্গে ফেলার বিষয়ে এমপি ঘোষিত অংশের উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুল হাসান পাটওয়ারী বলেন, ভুল কথা। আমরা কারও ডালা ভাঙ্গিনি। শুনেছি, আমরা ফুলের ডালা দিয়ে চলে আসার পর তারা নিজেরা নিজেরা ঝগড়া লেগে ডালা ভেঙ্গে ফেলেছে।

এদিকে, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান ও সাধারণ আবদুছ ছোবহান লিটন কুচকাওয়াজ মাঠে বিশৃংখলার অভিযোগে মাঠ ত্যাগ করেছেন। তাদের সঙ্গে সকল সংবাদকর্মীরাও মাঠ ত্যাগ করেন।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান বলেছেন, ভাই, এমপি, দলীয় নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের লোকজনসহ আপনার সবাই উপস্থিত ছিলেন। আপনাদের সামনেই সব কিছু ঘটেছে। ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের হাত থেকে পুষ্পমাল্য ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। কেউ কোন কথা বলেনি। ছাত্রলীগের কমিটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুমোদিত। আমরা শুধু আওয়ামী লীগ করি এমন না। আমরা আওয়ামী পরিবারের বংশধর, তথা জাতির জনক ও শেখ হাসিনার পরিক্ষিত কর্মী।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়াম্যান আবু সাহেদ সরকার বলেন, জাতীয় দিবসে ছাত্রলীগের ফুলের ডালা ভেঙ্গে ফেলাটি খুবই দুঃখ জনক। তিনি আরো বলেন, আমাদের বর্তমান সরকারের (নৌকা প্রতিকে নির্বাচিত) এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র থাকা কালিন দুপুরে শহীদ বেদী থেকে ফুলের ডালা সরিয়ে ফেলা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায়না।

এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় গুরে দেখি হাতে গোনা কয়েকটি দোকান পাট ছাড়া তেমন কোথায়ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে দেখা যায়নি। আমি তাৎক্ষনিক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় আমি বিষয়টি ওসি সাহেবকে অবগত করেছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছলিমুন নেছা বলেছেন, আমি তো একা মানুষ আমার সব দিকটা দেখতে হয়। স্মৃতিসৌধে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মাইকে বারংবার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। আমরা সেখান থেকে চলে আসার পর কি হয়েছে, আমি জানি না। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেওয়ার জন্য সংসদ ভবনে পূর্ব নির্ধারিত অনুষ্ঠান ছিল। তারা আগে থেকে সেখানে চলে যাওয়ার কথা। এর মধ্যে কি হয়েছে, আমি বলতে পারি না।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, স্মৃতিসৌধে কি আমি ফুল পাহারা দেবো।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital