ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ সন্তানকে শিক্ষিত করা; কামরুল হাসান

মোঃ মাসুদ রানা : শাহরাস্তিতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের উদ্যোগে এক ব্যতিক্রমধর্মী অভিভাবক দিবস, সার্টিফিকেট প্রদান এবং টিফিন উৎসব পালন করা হয়েছে।
“আলোকিত হোক, “আসুন আলোকিত করি, এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (২০- শে ডিসেম্বর) সকালে শাহরাস্তিতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের আয়োজনে স্কুল ক্যাম্পাসে এটির অনুষ্ঠিত  হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,ওই স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোহাম্মদ হুমায়ন রশিদের সভা প্রদানে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে আসন অলংকৃত করে বক্তব্য প্রদান করেন চাঁদপুরের সুযোগ্য জেলা প্রশাসন কামরুল হাসান ।
তিনি বক্তব্য বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রয়াসে এ স্কুলটি স্থাপন করা হয়। এই স্কুলে যে শিক্ষার্থীরা পাঠ গ্রহণ করছেন। এটি অভিভাবকের সন্তানের জন্য একটি বিনিয়োগ। যদি আপনার সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বিভিন্ন ট্রেডে চাকরি জুটিয়ে উন্নত জীবন প্রতিষ্ঠা করে এবং অদৃষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে তাহলে এই শিক্ষার সার্থকতা রয়েছে।
সঠিক শিক্ষা ও জীবনের লক্ষ্য ঠিক না করে চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা প্রকৃত অর্থে শিক্ষার্থীদের কোন কাজেই আসে না। কারণ ওই চাপিয়ে দেওয়া ভুল শিক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনে গঠনে কাজে না এসে অর্থ সময় দুটি ব্যয় হয়। এজন্য অভিভাবকদের শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি সময়োপযোগী রোড ম্যাপ প্রণয়ন করে জীবন গঠনে উদ্দেশ্য ঠিক করতে হবে। ওই শিক্ষার্থী সমাজের বোঝা সৃষ্টি হয়। এ জন্য মেধার বিবেচনায় সরকারি চাকরি কে প্রাধান্য না দিয়ে বাস্তবধর্মী উৎপাদন মুখী সৃজনশীল চিন্তায় জীবন গঠনের আহ্বান জানান।
তাহলে মিলবে কাঙ্খিত সফলতা।
একপর্যায়ে তিনি বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় মানুষের সম্প্রীতির ঘাটটির বিষয়টি তুলে বলেন, একসময় মানুষ প্রতিটি মানুষের দুঃখ-কষ্ট ভালোবাসা অভাব অনটন ভাগ করে নিত আজ এগুলি সবই স্বপ্ন। এই প্রতিকূল সমাজ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে যান্ত্রিক জীবনে সম্প্রীতি বাড়াবার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। পরিশেষে তিনি স্কুলের এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্য শেষ করেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল ইসলাম প্রধানীয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ ইমাম হোসেন মজুমদারের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমজাদ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি)ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, এ আর এম জাহিদ হাসান, শাহরাস্তি মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহীদ হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ ইরান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেড এম আনোয়ার।
অন্যান্য মধ্যে শাহরাস্তি উপজেলার সাবেক প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. দুলাল চন্দ্র ঘোষ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ মোঃ ফারুক হোসেন মিয়াজী, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা, রাজনীতিবিদ ও অভিভাবক সদস্য মোঃ সাইফুল করিম মিনার ওই স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থী অভিভাবক এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি সুশীল সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, গণমাধ্যমকর্মীরা  উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সাবেক উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ মারুফ ইউএনওর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল এ বিদ্যালয়। তিনি এ কর্মস্থলে না থাকলেও বিদ্যালয়টি বিয়ামের অন্তর্ভুক্ত। যেটি বর্তমানে এমপিও হওয়ার দ্বার প্রান্তে অবস্থান করছে। ফলাফল রয়েছে সন্তোষজনক।
উল্লেখ্য, আলোচনা সভার শেষে প্রধান অতিথি মান্যবর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান স্কুল প্রাঙ্গণে পিঠা উৎসবের স্টল ঘুরে দেখেন এবং এই উদ্যোগটিকে স্বাগত জানান। পরে বিদ্যালয়ের প্লে শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা শ্রেণী ওয়ারী পিতা মাতা কে নিয়ে বর্ণাঢ্য সাজে শারীরিক কসরতের মাধ্যমে সংগীতের মাধ্যমে শ্রদ্ধা ভক্তি জানান। পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মঞ্চ ডেকে ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত করেন।
ওই সময় শিক্ষার্থীরা ক্লাস উন্নয়নের সার্টিফিকেট হাতে পেয়ে অভিভাবকদের কদম মুচি করে দোয়া প্রার্থনা করে আবেগঘন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। অভিভাবকগণ তাদের প্রিয় সন্তানের এই মুহূর্তকে ভালোবাসা ও দোয়া দিয়ে সিক্ত করেন।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের বলার মতো একটা গল্প ফাউন্ডেশন’র চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোক্তা মিটআপ

জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ সন্তানকে শিক্ষিত করা; কামরুল হাসান

আপডেট সময় : ০৩:৪৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২২
মোঃ মাসুদ রানা : শাহরাস্তিতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের উদ্যোগে এক ব্যতিক্রমধর্মী অভিভাবক দিবস, সার্টিফিকেট প্রদান এবং টিফিন উৎসব পালন করা হয়েছে।
“আলোকিত হোক, “আসুন আলোকিত করি, এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (২০- শে ডিসেম্বর) সকালে শাহরাস্তিতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের আয়োজনে স্কুল ক্যাম্পাসে এটির অনুষ্ঠিত  হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,ওই স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোহাম্মদ হুমায়ন রশিদের সভা প্রদানে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে আসন অলংকৃত করে বক্তব্য প্রদান করেন চাঁদপুরের সুযোগ্য জেলা প্রশাসন কামরুল হাসান ।
তিনি বক্তব্য বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রয়াসে এ স্কুলটি স্থাপন করা হয়। এই স্কুলে যে শিক্ষার্থীরা পাঠ গ্রহণ করছেন। এটি অভিভাবকের সন্তানের জন্য একটি বিনিয়োগ। যদি আপনার সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বিভিন্ন ট্রেডে চাকরি জুটিয়ে উন্নত জীবন প্রতিষ্ঠা করে এবং অদৃষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে তাহলে এই শিক্ষার সার্থকতা রয়েছে।
সঠিক শিক্ষা ও জীবনের লক্ষ্য ঠিক না করে চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষা প্রকৃত অর্থে শিক্ষার্থীদের কোন কাজেই আসে না। কারণ ওই চাপিয়ে দেওয়া ভুল শিক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনে গঠনে কাজে না এসে অর্থ সময় দুটি ব্যয় হয়। এজন্য অভিভাবকদের শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি সময়োপযোগী রোড ম্যাপ প্রণয়ন করে জীবন গঠনে উদ্দেশ্য ঠিক করতে হবে। ওই শিক্ষার্থী সমাজের বোঝা সৃষ্টি হয়। এ জন্য মেধার বিবেচনায় সরকারি চাকরি কে প্রাধান্য না দিয়ে বাস্তবধর্মী উৎপাদন মুখী সৃজনশীল চিন্তায় জীবন গঠনের আহ্বান জানান।
তাহলে মিলবে কাঙ্খিত সফলতা।
একপর্যায়ে তিনি বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় মানুষের সম্প্রীতির ঘাটটির বিষয়টি তুলে বলেন, একসময় মানুষ প্রতিটি মানুষের দুঃখ-কষ্ট ভালোবাসা অভাব অনটন ভাগ করে নিত আজ এগুলি সবই স্বপ্ন। এই প্রতিকূল সমাজ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে যান্ত্রিক জীবনে সম্প্রীতি বাড়াবার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। পরিশেষে তিনি স্কুলের এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্য শেষ করেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল ইসলাম প্রধানীয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ ইমাম হোসেন মজুমদারের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমজাদ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি)ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, এ আর এম জাহিদ হাসান, শাহরাস্তি মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহীদ হোসেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ ইরান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেড এম আনোয়ার।
অন্যান্য মধ্যে শাহরাস্তি উপজেলার সাবেক প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. দুলাল চন্দ্র ঘোষ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ মোঃ ফারুক হোসেন মিয়াজী, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা, রাজনীতিবিদ ও অভিভাবক সদস্য মোঃ সাইফুল করিম মিনার ওই স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থী অভিভাবক এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি সুশীল সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, গণমাধ্যমকর্মীরা  উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সাবেক উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ মারুফ ইউএনওর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল এ বিদ্যালয়। তিনি এ কর্মস্থলে না থাকলেও বিদ্যালয়টি বিয়ামের অন্তর্ভুক্ত। যেটি বর্তমানে এমপিও হওয়ার দ্বার প্রান্তে অবস্থান করছে। ফলাফল রয়েছে সন্তোষজনক।
উল্লেখ্য, আলোচনা সভার শেষে প্রধান অতিথি মান্যবর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান স্কুল প্রাঙ্গণে পিঠা উৎসবের স্টল ঘুরে দেখেন এবং এই উদ্যোগটিকে স্বাগত জানান। পরে বিদ্যালয়ের প্লে শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা শ্রেণী ওয়ারী পিতা মাতা কে নিয়ে বর্ণাঢ্য সাজে শারীরিক কসরতের মাধ্যমে সংগীতের মাধ্যমে শ্রদ্ধা ভক্তি জানান। পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মঞ্চ ডেকে ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত করেন।
ওই সময় শিক্ষার্থীরা ক্লাস উন্নয়নের সার্টিফিকেট হাতে পেয়ে অভিভাবকদের কদম মুচি করে দোয়া প্রার্থনা করে আবেগঘন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। অভিভাবকগণ তাদের প্রিয় সন্তানের এই মুহূর্তকে ভালোবাসা ও দোয়া দিয়ে সিক্ত করেন।