সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব উত্তর সরকারি হাসপাতালে গেলে রোগীর সাথে মনও ভালো হয়ে যায়!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৪:৫৬ পিএম
মতলব উত্তর সরকারি হাসপাতালে গেলে রোগীর সাথে মনও ভালো হয়ে যায়!

মনিরুল ইসলাম মনির : আমাদের দেশে সাধারণভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা সরকারি হাসপাতাল বলতে আমাদের দৃশ্যপটে ভেসে ওঠে একটি নেতিবাচক ভাবনা। পরিবেশ এবং পরিষেবার নিরিখে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক করুণ দশা আমাদের ভাবনায় পরিলক্ষিত হয়।

নোংরা পরিবেশে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, হাসপাতালের অন্দরমহল নোংরা, অপরিচ্ছন্ন, পূতিগন্ধময় তা হাসপাতালে ঢুকলেই দেখতে পাওয়া যায়। পচা, ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হাসপাতালের রোগীরা। বেশির ভাগ ওয়ার্ডের আশপাশে নানা ধরনের বর্জ্য প্রতিনিয়তই ফেলে রাখা হয়। ক্লিনার-সুইপাররা কাজ না করে আড্ডা আর গল্প করে সময় পার করে হাসপাতাল ত্যাগ রেক।

রোগী, নার্স ও ডাক্তারদের বিছানাপত্র এবং অ্যাপ্রোনসহ ব্যবহৃত কাপড়চোপড় নোংরা, দূষিত ও পচা পানিতে ধোয়া হয়। রোগীর মলমূত্র, পুঁজ আর রক্তমাখা এসব কাপড়চোপড়, চাদর, বালিশের কাভার কোনোমতে ধুয়ে শুকানোও হয় নোংরা পরিবেশে। ভালোভাবে পরিষ্কার না করায় জীবাণুসহ নোংরা অবস্থায় চাদর, কম্বল, বালিশের কভার ইত্যাদি রোগীদের ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয় ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু যদি এমন একটি পরিবেশ হয়, যেখানে প্রকৃতির কোলে নান্দনিক এক টুকরো বর্ণিল গালিচার মতো নির্ভার হয়ে আছে একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স! যেখানে কৃষ্ণচূড়ার সবুজ পাতার বেষ্টনীর মাঝে আগুন রাঙা ফুলের পাশে বসে কোকিল ডাকে, নাম না জানা হাজারো পাখির সম্মিলিত কলতান যদি আপনাকে স্বাগত জানায় কেমন অনুভব করবেন? কিংবা নাগাচুয়া, কেশিও জাপানিকা, চেরি, পলাশ, জাকারান্ডা, বকুল, মালবেরি, জারুল সহ অসংখ্য দেশি ও বিদেশি ফল ও ফুলের চারায় বেষ্টিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স! এমন একটি সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে এসে আপনার মানসিক অবস্থা কেমন হবে? নিশ্চয়ই অর্ধেক রোগ ভালো হয়ে যাবে আপনার!

Model Hospital

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে ঠিক এরকম পরিবেশে পরিষেবা নিতে পারবেন যে কেউ। প্রকৃতির নিবিড় কোলে অবস্থিত হাসপাতালটির পরিচ্ছন্ন পরিবেশে এসে আপনাতেই মন ভালো হয়ে যাবে। সরেজমিন মতলব উত্তরের এই সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সেবা নিতে আসা বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলে তাদের এই ভালো লাগার বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা যায়।

ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন থেকে নিজের মামাকে নিয়ে এসেছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাহরিয়ার সফিক। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশের বিষয়ে তিনি জানান, অত্যন্ত মনোরম পরিবেশ, ঢুকতেই কেমন এক সবুজের ধাক্কা লাগে। মন ভালো হয়ে যায়।

একটি এনজিও তে চাকুরি করেন মনিরা বেগম। নিজের ছেলেকে নিয়ে এসেছেন সেবা নিতে।
তিনি জানান, অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে গেলে যেমন অপরিচ্ছন্ন এবং দুর্গন্ধময় পরিবেশে সেবা নিতে হয়, মতলব উত্তর এর ভিন্ন রুপ। এখানে খুব সুন্দর, নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে সবাই সেবা গ্রহন করতে পারছে। মতলব উত্তর সরকারি এই হাসপাতালটির বর্তমান এই শোভাবর্ধক দৃশ্যপটের পেছনের মানুষটি হলেন মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল। কথা হয় তাঁর সাথে।

তিনি জানান, মানুষ যখন হাসপাতালে সেবা নিতে আসে, আমরা সর্বদা চেষ্টা করে থাকি তাদের সাথে হাসিমুখে কথা বলার। প্রকৃতির সাথে মনের যে একটা মিল, সেটা হাসপাতালের আঙ্গিনায় ফুটিয়ে তোলার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। সেজন্য সমগ্র হাসপাতালকে প্রকৃতির কোলে এক টুকরো বর্ণিল গালিচার মতো দৃশ্যমান করার প্রচেষ্টা আমাদের।

ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, আমরা এই কমপ্লেক্সে কেশিও জাপানিকা, চেরি, পলাশ, জাকারান্ডা, বকুল, মালবেরিসহ বিভিন্ন ফল ও ফুলের গাছ রোপন করেছি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় এসব পরিদর্শন করেছেন এবং তারা এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এই যে মানুষের মনের সাথে প্রকৃতির একটা মিল এবং মন ভালো থাকলে শরীরও ভালো থাকে। তাই আমরা চাচ্ছি, একজন মানুষ যেন মানষিক ভাবে সুস্থ থাকে, তার মনটা ভালো থাকে এবং সে যেন আশ্বস্ত ‘ফিল’ করে যে, না এখানে ভালো স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া সম্ভব।

আমরা মতলব উত্তরবাসী এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এরকম একটা পরিবেশে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আসাদুজ্জামান জুয়েল আরো জানান, আমাদের দেশে বর্তমানে দেশী ও বিদেশী বিভিন্ন ফল ও ফুলের চারা পাওয়া যায় যেগুলো হাসপাতালের জন্য খুবই শোভাবর্ধক হিসেবে কাজ করে, প্রচুর অক্সিজেন নির্গত করে, আমাদের নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহন করে এবং ‘অর্ণামেন্ট’ বৃক্ষ হিসেবে আবার এগুলো হাসপাতাল ভবনের ছাদেরও কোনো ক্ষতি করে না।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।