সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

বিনামূল্যে সহস্রাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ প্রদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ২:৪২ পিএম
বিনামূল্যে সহস্রাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ প্রদান

মনিরুল ইসলাম মনির : অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চাঁদপুরের মতলব উত্তরে নিশ্চিন্তপুর আমির হোসেন মিয়াজী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন কর্তৃক বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে নিশ্চিন্তপুর গ্রামে মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন করা হয়। ক্যাম্পে ১১৫ জন গুনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেবা দিয়েছেন এবং প্রায় ১০ সহস্রাধিক মানুষ চিকিৎসা সেবা এবং ওষুধ গ্রহণ করেন।

বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম আয়োজন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও আমির হোসেন মিয়াজী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডা. শামীম আহমেদ।

উদ্বোধন করেন নিশ্চিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মো. মোশারফ হোসেন, নিশ্চিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মো. মোজাফফর হোসেন।

Model Hospital

আমির হোসেন মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন এর সহ-সভাপতি শাহিন কাদির জমাদারের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, দৈনিক আজকের পত্রিকার মহাব্যবস্থাপক এবিএম জাকারিয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস এম আলী আহাম্মদ, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. সাইফুল ইসলাম সোহেল, অমির হোসেন মিয়াজী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মিয়াজী মাসুদ রানা। পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত মাওলানা মোঃ শাহআলম।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা হাজেরা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। এই ধরনের মেডিকেল ক্যাম্প আমাদের মতো অসহায় মানুষের খুব উপকারে আসে। আগামী দিনগুলোতেও যেন এমন চিকিৎসা সেবার আয়োজন করা হয়।

নিশ্চিন্তপুর কেেজর প্রভাষক আল-আমিন পারভেজ বলেন, গ্রামের অবহেলিত মানুষের চিকিৎসা সেবা দেয়ার এই মহান উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। পাশাপাশি মেডিকেল ক্যাম্পের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা একান্ত জরুরি।

গ্রামের অসহায় মানুষের মধ্যে ঔষধ বিতরণের জন্য বিশিষ্ট ডাক্তার, সমাজের বিত্তবান মানুষদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজক এবং ঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও আমির হোসেন মিয়াজী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডা. শামীম আহমেদ। তিনি বলেন, এভাবে চিকিৎসা সেবা দিতে পারলে এলাকার অনেক মানুষ উপকৃত হবে।

তিনি আরো বলেন, গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিটত করতে আমার বাবার নামে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মেডিকেল ক্যাম্পে পাঠাগারের ৩০ জন ভলান্টিয়ার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোগীদের সিরিয়াল ঠিক রাখা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সহযোগিতায় নিয়োজিত ছিলেন।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।