ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নৌকা হেরেছে আওয়ামীলীগের কাছে, বিদ্রোহী প্রার্থীর জয়লাভ

সাইফুল ইসলাম সিফাত : হাজীগঞ্জ উপজেলার দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে জন সাধারণের মাঝে চলে নানা জল্পনা-কল্পনা।

Model Hospital

নির্বাচনের ২/৩ দিন আগে নৌকার প্রার্থী ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোটরসাইকেলের সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষ হয়। এনিয়ে মোটরসাইকেল প্রার্থী বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রশাসন পূর্বের ঘটনা এড়াতে নির্বাচনের দিন সর্বাত্মক চেষ্টা করে দিনভর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহন সম্পন্ন করেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টায় পর্যন্ত বিরতিহীন ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে র‌্যাব-বিজিবি, আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এর পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো ইউনিয়নে পুলিশের স্ট্যাকিং ফোর্স আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করেন। এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় সাতবাড়ি ভাঙ্গা কেন্দ্রে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু তাহের (মোটরসাইকেল) ভোট কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত পোলিং অফিসারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেন। এ প্রার্থী আরো কয়েকটি ভোট কেন্দ্রের বিষয়েও আপত্তি তুলেছেন। তবে নারী ভোটের বুথ এর পোলিং অফিসার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন।

দুপুর দেড় টায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হট্টগোল হয়েছে। এরপর প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এই কেন্দ্রটি ব্যতিত আর অন্যকোন কেন্দ্রে হট্রগোল এবং কাহারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেনি। নির্বিঘ্নে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। পুরুষ ভোটারের চেয়ে সবগুলো কেন্দ্রেই নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি ছিলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারনে অনেক কেন্দ্রে বৃদ্ধ ভোটাররাও ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দনীয় প্রার্থীকে ভোট দেন।

মালাপাড়া ভোট কেন্দ্রে ১০৫ বছর বয়সী নুরুন নেসা ভোট দিতে এসেছেন নাতির সাথে।

মালাপাড়া ভোট কেন্দ্রে ১০৫ বছর বয়সী নুরুন নেসা ভোট দিতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তাকে ভোট দিতে সহযোগীতা করেছেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। তিনি বলেন, এই প্রথম মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট দিছি। কলি যুগ আইছে, হেইডা বুইজছি।

ভোট গ্রহনের শুরু থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম তানজীর, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাছান মানিক, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার ওবায়েদুর রহমান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ-ফরিদগঞ্জ সার্কেল) পঙ্কজ কুমার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আক্তার জাহান সাথী, রেশমা খাতুন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জোবাইর সৈয়দ, হাজীগঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জাকির হোসেন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম তানজীর বলেন, সকল কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোট প্রয়োগে ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছেন। এটা আমাদের সকলের সার্বিক সহযোগীতার কারণে সম্ভব হয়েছে।

কাপাইকাফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম তানজীর।

দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর দ্বিতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খোরশেদ আলম বকাউল, বিদ্রোহী প্রার্থী মোটরসাইকেলের আবু তাহের ও টেলিফোন প্রতীকের প্রার্থী কে এম রাসেল প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। যদিও এই ইউনিয়নের প্রথম নির্বাচনে বিএনপি ধানের শীষের প্রার্থী দিলেও দলটি এবার তাদের দলীয় প্রার্থী দেননি। এরপরও এই দলের ৩ নেতা ৩ টি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়েছেন। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন ঘোড়া, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাবুল চশমা ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান কমল আনারস প্রতীক নিয়ে আওয়ামীলীগের প্রার্থীসহ আরো দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন।

ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকার প্রার্থী খোরশেদ আলম বকাউলকে টপকিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী আবু তাহের ২ হাজার ২ শত ৭৯ ভোট পেয়ে পরিষদের দ্বিতীয় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তবে নৌকার প্রার্থী খোরশেদ আলম বকাউল এবারের নির্বাচনে (১৭২৬ ভোট পেয়ে) তৃতীয় স্থানে ছিলেন। আর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিনের ঘোড়া প্রতীকের সাথে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু তাহেরের মোটরসাইকেলের সাথে। তিনি ঘোড়া প্রতীকে ১ হাজার ৭ শত ৮০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কি হবে আর ছবি তুলে!

নৌকা হেরেছে আওয়ামীলীগের কাছে, বিদ্রোহী প্রার্থীর জয়লাভ

আপডেট সময় : ০২:৩৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ ২০২৩

সাইফুল ইসলাম সিফাত : হাজীগঞ্জ উপজেলার দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে জন সাধারণের মাঝে চলে নানা জল্পনা-কল্পনা।

Model Hospital

নির্বাচনের ২/৩ দিন আগে নৌকার প্রার্থী ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোটরসাইকেলের সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষ হয়। এনিয়ে মোটরসাইকেল প্রার্থী বেশ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রশাসন পূর্বের ঘটনা এড়াতে নির্বাচনের দিন সর্বাত্মক চেষ্টা করে দিনভর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহন সম্পন্ন করেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টায় পর্যন্ত বিরতিহীন ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে র‌্যাব-বিজিবি, আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এর পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো ইউনিয়নে পুলিশের স্ট্যাকিং ফোর্স আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করেন। এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় সাতবাড়ি ভাঙ্গা কেন্দ্রে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু তাহের (মোটরসাইকেল) ভোট কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত পোলিং অফিসারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেন। এ প্রার্থী আরো কয়েকটি ভোট কেন্দ্রের বিষয়েও আপত্তি তুলেছেন। তবে নারী ভোটের বুথ এর পোলিং অফিসার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন।

দুপুর দেড় টায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হট্টগোল হয়েছে। এরপর প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এই কেন্দ্রটি ব্যতিত আর অন্যকোন কেন্দ্রে হট্রগোল এবং কাহারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেনি। নির্বিঘ্নে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। পুরুষ ভোটারের চেয়ে সবগুলো কেন্দ্রেই নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি ছিলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারনে অনেক কেন্দ্রে বৃদ্ধ ভোটাররাও ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দনীয় প্রার্থীকে ভোট দেন।

মালাপাড়া ভোট কেন্দ্রে ১০৫ বছর বয়সী নুরুন নেসা ভোট দিতে এসেছেন নাতির সাথে।

মালাপাড়া ভোট কেন্দ্রে ১০৫ বছর বয়সী নুরুন নেসা ভোট দিতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তাকে ভোট দিতে সহযোগীতা করেছেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। তিনি বলেন, এই প্রথম মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট দিছি। কলি যুগ আইছে, হেইডা বুইজছি।

ভোট গ্রহনের শুরু থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম তানজীর, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাছান মানিক, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার ওবায়েদুর রহমান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ-ফরিদগঞ্জ সার্কেল) পঙ্কজ কুমার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আক্তার জাহান সাথী, রেশমা খাতুন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জোবাইর সৈয়দ, হাজীগঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জাকির হোসেন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম তানজীর বলেন, সকল কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোট প্রয়োগে ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছেন। এটা আমাদের সকলের সার্বিক সহযোগীতার কারণে সম্ভব হয়েছে।

কাপাইকাফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম তানজীর।

দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর দ্বিতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খোরশেদ আলম বকাউল, বিদ্রোহী প্রার্থী মোটরসাইকেলের আবু তাহের ও টেলিফোন প্রতীকের প্রার্থী কে এম রাসেল প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। যদিও এই ইউনিয়নের প্রথম নির্বাচনে বিএনপি ধানের শীষের প্রার্থী দিলেও দলটি এবার তাদের দলীয় প্রার্থী দেননি। এরপরও এই দলের ৩ নেতা ৩ টি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়েছেন। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন ঘোড়া, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাবুল চশমা ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান কমল আনারস প্রতীক নিয়ে আওয়ামীলীগের প্রার্থীসহ আরো দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন।

ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকার প্রার্থী খোরশেদ আলম বকাউলকে টপকিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী আবু তাহের ২ হাজার ২ শত ৭৯ ভোট পেয়ে পরিষদের দ্বিতীয় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তবে নৌকার প্রার্থী খোরশেদ আলম বকাউল এবারের নির্বাচনে (১৭২৬ ভোট পেয়ে) তৃতীয় স্থানে ছিলেন। আর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিনের ঘোড়া প্রতীকের সাথে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু তাহেরের মোটরসাইকেলের সাথে। তিনি ঘোড়া প্রতীকে ১ হাজার ৭ শত ৮০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।