সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মডেল ঘোষণার পর থেকেই বেড়েছে সেবার মান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৩, ৩:২৯ পিএম
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মডেল ঘোষণার পর থেকেই বেড়েছে সেবার মান

সরকার সারাদেশে প্রতিটি জেলায় একটি করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’কে মডেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘোষণার অংশ হিসাবে ‘হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’ জেলার মডেল হিসাবে মনোনীত হয়।

চাঁদপুরের ৮টি উপজেলার মধ্যে হাজীগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্সকে ‘মডেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’ হিসেবে ঘোষণা করায় ইতিমধ্যে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা, সেই সাথে বেড়েছে সেবার মান। কিন্তু রোগীর সংখ্যা অনুযায়ী বাড়েনী বেডিং ব্যবস্থা। তাই বর্তমানে ৫০ শয্যা বেড়ে ১০০ শয্যা উন্নতি করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৃষ্টি কামনা করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী।

সেবার মধ্যে এএনসি ও পিএনসি সেবা, নরমাল ডেলিভারি ও সিজারিয়ান কার্যক্রম সেবা, প্যাথলজিক্যাল সেবা, আউটডোর ও ইনডোর সেবা, এনসিডিসি সেবা, সর্বপরি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মদক্ষতা, কাজের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেকে ‘মডেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’ হিসেবে ঘোষণা করে।

আর এ সবই সম্ভব হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএসও ডা. মো. গোলাম মাওলা ও আরএমও ডা. মো. জামাল উদ্দিনের অক্লান্ত মেধা পরিশ্রমের কারনে। কারন দুইজনই ২০২১ সালে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর বেড়েছে স্বাস্থ্য সেবার মান।

Model Hospital

হাসপাতাল সৃত্রে জানাযায়, প্রতিমাসে গড়ে ১৮ থেকে ২০ হাজার রোগি চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। এর মধ্যে উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের পাশপাশি পাশ্বর্র্বতী উপজেলা কচুয়া, শাহরাস্তি, ফরিদগঞ্জ, মতলব ও লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার একাংশের জনগণকে প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল চিকিৎসকরা।

হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবাগ্রহীতার মধ্যে থেকে দৈনিক গড়ে ৬০-৭০ জন রোগী ভর্তি থাকে। আর প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৫০০/৬০০ রোগী একং জরুরি বিভাগে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগি চিকিৎসা সেবা নেন। এছাড়া এনসিডিসি কর্নার চালু হওয়ায় ডায়াবেটিক, কিডনি, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগিদের ভিড় বাড়ছে।

এসব মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রমে প্রতিনিয়ত চলছে এএনসি ও পিএনসি সেবা, নরমাল ডেলিভারি, প্যাথলজিক্যাল সেবা, আউটডোর ও ইনডোর সেবা, এনসিডিসি সেবা কার্যক্রম। যে কারনে বেড়েছে সেবার মান ও রোগীর সংখ্যা।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী মানিক হোসেন, সাইফুল ও মাজুদা বেগম বলেন, আমাগো এই হাসপাতালের সেবা আগের থেকে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এসে সত্যিই আনন্দিত খুশি এবং ডাক্তারের কথা বার্তা ও ওষুধপত্র পেয়ে অনেক আনন্দিত। এজন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনেক ধন্যবাদ জানাই তিনি আমাদের স্বাস্থ্য সেবা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত সব চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, স্যানিটারী ইন্সপেক্টর, এমটি ইপিআই, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, পরিসংখ্যানবিদ, স্বাস্থ্য সহকারী সহ সবাই স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে একমত হয়ে কাজ শুরু করি। তার পর নতুন পরিবেশ সৃষ্টি করে এনসিডিসি, নরমাল ডেলিভারি, প্যাথলজিক্যাল সেবা চালু করা হয়। তাছাড়া নানান ক্ষুদ্র ও জটিল সমস্যার সমাধান করে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম মাওলা জানান, মডেল কমপ্লেক্সে সুবিধা পেয়ে ইতোমধ্যে চাহিদার প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রপাতির পেয়ে কাজ করেছি। আমরা চাই মডেল কমপ্লেক্সে হিসাবে পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি সেবার মান বৃদ্ধি করতে। আমরা সবাই মিলে যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি, তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে আরো যাবে। যা কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে অনেকটা এগিয়েছে। বর্তমানে এ মডেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যা বেড়ে ১০০ শয্যা উন্নতি করা হলে আর তেমন কোন সমস্যা থাকছেনা।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।