সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

আন্তজার্তিক নার্সেস দিবসে চাঁদপুরে র‌্যালী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ মে, ২০২৩, ৭:০৮ পিএম
আন্তজার্তিক নার্সেস দিবসে চাঁদপুরে র‌্যালী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ। এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে ধারণ করে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে চাঁদপুরে আন্তজার্তিক নার্সেস দিবস ২০২৩ উদযাপিত হয়েছে। ১২ মে শুক্রবার সকালে চাঁদপুর নার্সিং ইনস্টিটিউট ও চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের যৌথ আয়োজনে নার্সেস দিবস উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়।
র‌্যালীটি নার্সিং ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে বের হয়ে শহরের কয়েকটি সড়ক পদক্ষীন করে পুনরায় সেখানে গিয়ে তা শেষ। র্যালী শেষে হলরুমে শুরু হয় আলোচনা সভা, কেক কাটা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আলোচনায় সভা প্রধানের বক্তব্য রাখেন, আড়াই,শ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল  হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহাবুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম সোহেল। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অন্যান্যদের মাঝে আর বক্তব্য রাখেন, নার্সিং ইনস্টিটিউটের সুপারিনটেনডেন্ট সানজিদা আলম, ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ মোসাম্মৎ জয়নব বেগম, চাঁদপুর লেডি প্রতিমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোরশেদা ইয়াসমিন, সেইভ দা  চিলড্রেনের প্রতিনিধি ডা. মৌরি আফসানা, ইউ এন এফ পি এ,র প্রতিনিধি ডা. শামীমা নাসরিন, চাঁদপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর খাদিজা বেগম প্রমুখ।
চাঁদপুর নার্সিং ইনস্টিটিউট এর শিক্ষার্থী মনোরঞ্জন সরকার, লিলি মারমা ও  নার্স আফসানা বেগমের যৌথ পরিচালনায়, এসময় আড়াই,শ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত অন্যান্য নার্স এবং নার্সিং ইনস্টিটিউটের সিনিয়র নার্সরা ও বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ে বিভিন্ন রচনা পাঠ, নিত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ডা. এ কে এম মাহবুবুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, আমি প্রথমেই স্মরণ করছি বাংলার ৩০লাখ  শহীদদের। যাদের তাজা রক্ত এবং মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌমত্ব দেশ পেয়েছি। কারণ তারা দেশটি স্বাধীন করেছে বলেই আজকে আমরা এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি।
তিনি বলেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক কাজ করে চলেছেন। মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে এটি সরাসরি তারই অবদান। তার সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণেই এগিয়ে চলছে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন। করুণা কালীন সময়েও তিনি স্বাস্থ্য খাত নিয়ে ব্যাপক কাজ করেছেন। এজন্য অবশ্যই আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি।
নার্সদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যে প্রফেশন নিয়ে কাজ করছেন, সেটাকে পেশা হিসেবে না নিয়ে, সেবা হিসেবে কাজ করতে হবে। আমাদের যে নীতি ও আদর্শ রয়েছে সকলকে সেই নীতি ও আদর্শকে মেনে চলতে হবে। সরকারি হাসপাতালের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে এই নার্সরা। কারণ আপনারা শত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও নিরলসভাবে মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, আপনারা রোগীদেরকে যে সেবা দিচ্ছেন, এই সেবার কাজটাও কিন্তু একটা এবাদত। আমরা সবাই সরকারের অধীনস্থ চাকরি করি। এর জন্য এখানে অনেক সম্মান রয়েছে।  সে সম্মান বজায় রেখেই আমাদেরকে সেবা করতে হবে। একই সাথে নতুনদেরকে সুযোগ করে দিতে হবে। আমরা একই পরিবারের হয়ে মিলেমিশে কাজ করবো।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।