সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

মুসুল্লিদের ক্ষোভ

গোপালকান্দি মধ্যপাড়া জামে মসজিদের অজুখানা ভাংচুরের অভিযোগ

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ মে, ২০২৩, ১১:৩৪ পিএম
গোপালকান্দি মধ্যপাড়া জামে মসজিদের অজুখানা ভাংচুরের অভিযোগ

মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের গোপালকান্দি মধ্যপাড়া বাইতুল আমান জামে মসজিদের অজুখানা ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় মুসল্লিদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর মুসল্লিরা ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করে।

অজুখানা ও প্রস্রাবখানা ভাঙ্গার বিষয়টি থানা পুলিশ জেনে মুসল্লিদের উত্তেজিত না হওয়ার অনুরোধ করেন। ঘটনাস্থল উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রমিজ উদ্দিন পরিদর্শন করেছেন।

কুয়েত সরকারের সোসাইটি ফর সোস্যাল এণ্ড টেকনোলজিক্যাল সাপোর্ট- বাংলাদেশ অনুদানে নির্মিত সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের গোপালকান্দি মধ্যপাড়া বাইতুল আমান জামে মসজিদের জমির সীমানা নিয়ে বিরোধে অজুখানা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য বৃহস্পতিবার (১১ মে) ভেঙ্গে ফেলে আবদুল জব্বার বেপারী। মসজিদের পাশেই আবদুল জব্বার বেপারী অজুখানা ও প্রস্রাবখানা নির্মান করার উদ্যোগ নেন। এ নিয়ে মুসুল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

Model Hospital

মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. খোকন বেপারী জানান, আবদুল জব্বার বেপারী মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিকাশের গড়মিল হওয়ায় তাকে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এ নিয়ে তিনি রাগে অজুখানা ও প্রস্রাবখানা ভাংচুর করে।

আবদুল জব্বার বেপারী জানান, এ মসজিদের জমি আমার বাবা দান করেছে। মসজিদের পাশেই অজু ও প্রস্রাবখানা নির্মিত হয়। প্রস্রাবখানার প্রস্রাব পাশের পুকুরের পানিতে সরাসরি গিয়ে পড়ে। এ পুকুরে গোসল করা সহ নিত্যদিনের কাজে পানি ব্যবহার করা হয়। তাই মুসুল্লিদের সাথে আলোচনা করে প্রস্রাবখানা অন্যত্র পাকা করে করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তাই পুরোনো প্রস্রাবখানা ভেঙ্গে ফেলা হয়।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনা শোনার পরপরই এসআই রমিজ উদ্দিনকে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করা হয়। মুসুল্লিদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।