বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত মুক্তির আশা নেই

মতলব উত্তরে লোডশেডিং ও তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জুন, ২০২৩, ৮:০৪ পিএম
মতলব উত্তরে লোডশেডিং ও তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

ভ্যাপসা গরম ও প্রচন্ড লোডশেডিং এ অতিষ্ঠ হয়ে শিশুরা গাছের ছায়ার নিয়েছে, ছবিটি গতকাল (৪ জুন) রবিবার দুপুরে উপজেলার দেওয়ানজিকান্দি এলাকা থেকে তোলা।

মতলব উত্তর উপজেলায় গত কয়েকদিনের প্রচন্ড তাপদাহ ও লোডশেডিং এ জনজীবন বিপর্যস্থ ও দুর্বিষহ হয়ে ওঠেছে। হুমকির মুখে রয়েছে শিশু স্বাস্থ্য। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক ও শিক্ষার্থীরা এবং উৎপাদন মুখী কল-কারখানার মালিকরা। পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কারণে লোডশেডিং এর প্রভাব বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

তীব্র গরমে পুড়ছে জনপদ, মাঠ-ঘাট ও শষ্যের ক্ষেত। কোথাও স্বস্তির বাতাস নেই। সর্বত্র গরম আর গরম, কখনও প্রচন্ড, আবার কখনও ভ্যাপসা গরম। বৈশাখ শেষ, জ্যৈষ্ঠ মাসও শেষের পথে তবুও বৃষ্টির দেখা নেই। ভ্যাপসা গরমের তান্ডব চলছে জনপদে, সূর্যের প্রখরতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুপুর হতে না হতেই সড়ক বাজারে লোক কমে যাচ্ছে। একটু প্রশান্তির জন্য গাছতলায় ঠাই নিচ্ছে মানুষ। অসহনীয় তাপ, রৌদ্রযন্ত্রনা সেই সাথে পানি সঙ্কটে জনজীবনকে আরও এক ধাপ বিপর্যয়ের মুখে নিক্ষিপ্ত করছে।

প্রাকৃতিক গরমের সাথে যোগ হয়েছে লোডশেডিং। লোডশেডিং এর কারণে লেখাপড়া করতে পারছে না শিক্ষার্থীর। হাসপাতালগুলোতে অসুস্থ রোগীরা কাতরাচ্ছে।

বিপর্যস্ত জনজীবনের পাশাপাশি উৎপাদন কমে যাচ্ছে কলকারখানা গুলোতে। অনাবৃষ্টি এবং লোডশেডিং এ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ইরিধানের চাষ, ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির, বীজতলা শুকিয়ে যাচ্ছে। বীজতলা সেচের মাধ্যমে উর্বর রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। অধিকাংশ এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। গরমে কেবলমাত্র জনজীবনেই অস্থিরতা আনছে না, নানান ধরনের গরমজনিত এবং পানি বাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

Model Hospital
ভ্যাপসা গরম ও প্রচন্ড লোডশেডিং এ অতিষ্ঠ হয়ে শিশুরা গাছের ছায়ার নিয়েছে, ছবিটি গতকাল (৪ জুন) রবিবার দুপুরে উপজেলার দেওয়ানজিকান্দি এলাকা থেকে তোলা।

যেখানে বেশি ক্ষীতগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। শিশুদের একটু আরাম দেয়ার জন্য একটু ছায়াতল ঠান্ডা জায়গা খুজছে অভিভাবকরা। এদিকে বাজারে দেখা মিলছে না চার্জার ফ্যান ও সৌর বিদ্যুতের ।

অতি গরম হিটস্টোকের কারণ হিসেবে জানান দিচ্ছেন চিকিৎসকরা, আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৃষ্টিপাত হলে তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য আগামী দিনগুলোতে অধিক পরিমাণ তাপদাহ আসছে, তাপদাহ জনজীবনের দুরবস্থার সব ক্ষেত্রই বিস্তৃত করেছে। তাপদাহ আর রৌদ্রের প্রখরতা হতে মুক্ত থাকতে হিটস্ট্রাক, পানিবাহিত ও গরম জনিত রোগের কবল হতে মুক্ত রাখতে সূর্যের প্রখরতা ভেদ করে বাইরে নয়, ঘাম ঝরানো নয়, সহনীয় ঠান্ডা আবহাওয়ায় নিজেকে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ এবং চিকিৎসকগণ।

উপজেলার দেওয়ানজিকান্দি গ্রামের জসিমউদ্দীন জানান, গত কয়েকদিন ধরে শোডশেডিং আর গরমের কারণে ঘুমাতে পারছেন না। ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচেই বসে থাকতে হয় আমাদের। কারেন্ট যাওয়া-আসার মধ্যে থাকছে। তিনি বলেন, একবার কারেন্ট গেলে দেড় ঘণ্টা খবর নেই। আসলে আবার ৪০ মিনিট থাকছে। গড়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৩ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এভাবে থাকা খুব কঠিন।

টরকী গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম জানান, আমি ফ্রিল্যান্সিং করি। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে তার কাজেও সমস্যা হচ্ছে। এই উদ্যোক্তা জানান, এখন লোডশেডিং অত্যাচারের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। একবার কারেন্ট এসে ফ্যান চালু না হতেই আবার চলে যাচ্ছে। কম্পিউটারে কাজ শুরুই করা যাচ্ছে না। লোডশেডিং দেখে মনে হচ্ছে আমরা ২০ বছর পিছিয়ে গেছি।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।