শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে শ্বশুর বাড়ি থেকে ধর্ষক আটক!

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৩, ১০:৩৮ পিএম
ফরিদগঞ্জে শ্বশুর বাড়ি থেকে ধর্ষক আটক!

ফরিদগঞ্জে স্বামীর বন্ধু কর্তৃক গৃহবধু ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণা পূর্বক রাতে ঘরে আশ্রয় চেয়ে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে বলে গৃহবধু অভিযোগ করেছেন। নির্যাতনের শিকার গৃহবধু কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন।

উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ওই ঘটনায় শনিবার রাতে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, চরমথুরা গ্রামের মুনছুর খানের ছেলে মুছা খান রণি (২৫)। গৃহবধুর স্বামীর সাথে ছোট বেলায় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। এ সুবাদে বাড়িতে প্রায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। দুই বছর আগে বন্ধু বিয়ে করেন। বিয়ের পরও বাড়িতে যাতায়াত করত মুছা খান। প্রায় এক বছর আগে বন্ধু প্রবাসে যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়। তখন তার পাশে থেকে সহায়তা করে মুছা।

এরপর, মাঝেমধ্যে বন্ধুর বাড়ির খোঁজ খবর নিতো ও খাওয়া দাওয়া করতো। গৃহবধুকে বলেছে বন্ধুর অনুপস্থিতিতে আপনি আমার মা-বোনের মতো। এতে, গৃহবধু ও তার স্বামীর বিশ্বাস আরও বেড়ে যায়।

Model Hospital

১৪ই আক্টোবর রাত আনুমানিক ৯ ঘটিকা। মুছা, প্রবাসী বন্ধুকে ইন্টারনেটের সাহায্যে জানায়, পূর্বের একটি মামলায় পুলিশ তার বাড়ি হানা দিয়েছে। রাতে সে বন্ধুর বাড়ি থাকতে চায়। এতে, স্বামী রাজি হয়ে স্ত্রীকে জানালে তিনি মুছাকে বাড়ি থাকেত দেন। রাতে খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ার ভান ধরে মুছা।

গৃহবধু ৮ মাসের সন্তান বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। মুছা রাতে কৌশলে মাঝের দরজা খুলে অপর কক্ষে যায়। সে গৃহবধুর মুখ বেঁধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। শত কান্না কাটিতেও ছাড় পাননি তিনি। এরপর, গৃহবধুর বাঁধন খুলে পায়ে ধরে ক্ষমা চায় ও কাউকে না জানানোর অনুরোধ করে। কিন্তু, গৃহবধুর কান্না থামছে না। এক পর্যায়ে, মুছা রাতেই দরজা খুলে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। পরদিন সকালে তার মা কল দিলে সব ঘটনা মাকে জানায়। এতে, ক্ষুব্ধ মা জামাতাকে জানালে তিনি অভয় দিয়ে থানায় মামলা করতে বলেন।

এদিকে, অভিযোগ পেয়ে পুলিশ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে শনিবার গভীর রাতে ১০ জনের ফোর্স নেমে পড়ে। তারা রাত প্রায় চার ঘটিকায় মুছাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

গতকাল রোববার দুপুরে পুলিশ থানায় গৃহবধুর অভিযোগ পুনরায় শুনে। এরপর, মুছাকে জিজ্ঞেস করলে হুবহু স্বীকারোক্তি দেয়। কিছুক্ষণ পর, গৃহবধুর সামনে হাজির করলে তিনি দেখেই মুছার গালে সজোরে থাপ্পর বসিয়ে দিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। চিৎকার করে বলেন, তুই আমাকে মা-বোন বলেছিলি। মা-বোনকে তুই ধর্ষণ করিস নাকি।

এ ব্যপারে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলাম রোববার বিকালে বলেন, প্রাথমিকভাবে বুঝা যাচ্ছে অভিযোগটি নিখাদ। এতে, সন্দেহ থাকার সুযোগ খুঁজে পাচ্ছি না। অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে মুছাকে আইনের আওতায় সোপর্দ করা হবে। তিনি জানান, এ ব্যপারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’