শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর ৫০বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা

নাটক আমাদের ঐতিহ্যের অংশ : জাহিদুর রহমান রোমান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৩, ১০:৩৮ পিএম
নাটক আমাদের ঐতিহ্যের অংশ : জাহিদুর রহমান রোমান

চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী নাট্য সংগঠন বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর ৫০বছর পূর্তি উপলক্ষে সপ্তম দিনে আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৭অক্টোবর (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা ৭টায় চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের কৃতিসন্তান ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জাহিদুর রহমান রোমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, চাঁদপুর বর্ণচোরো নাট্যোগোষ্ঠীর ৫০বছর পথ চলা। এ সংগঠনকে ৫০বছর টিকিয়ে রাখা খুবই কঠিন কাজ ছিল। যখন এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা হয়, তখন চাঁদপুর একটি মহকুমা ছিল। তখনকার সময় এপার ওপার বাংলার নাটক মঞ্চস্থ করা হতে। আমার অনেক মঞ্চ নাটকের স্মৃতি আছে। চাঁদপুরের টাউন হল এক সময় মানুষে পরিপূর্ন হয়ে যেত মঞ্চ নাটক দেখতে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংগ্রামে, ভাষা আন্দোলনে মঞ্চনাটক বিরাট ভূমিকা রেখেছে। এরপর আমরা টিভি নাটকে চলে এসেছি। তখনকার সময় আমাদের আগে কোথাও কেউ নেই, সকাল সন্ধ্যা শিরোনামে অনেক মজাদার নাটক ছিল। আমরা যখন ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে যেতাম, তখন ইদের নাটক দেখতে পারতাম না। বর্তমানে নাটকের জৌলুস কমে গেছে।

Model Hospital

তিনি আরো বলেন, আমাদের বাংলাদেশের সাংস্কৃতিতে নাটকের অনেক কদর আছে। মুনির চৌধুরীর কবর নাটকটি লিখেছেন কারাগারে বসে। নাটকের তখন বিরাট প্লাটফর্ম ছিল। ৫০বছর বর্ণচোরা নাট্য সংগঠন তাদের প্লাটফর্ম ধরে রেখেছে। আমি বর্নচোড়া সংগঠনের সকলকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। আমি দুইটা জায়গায় সময় দেই বেশি, রাজনীতি ও খেলাধূলায়। আমার কর্মকান্ড স্টেডিয়াম কেন্দ্রিক। নাটক আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। আমরা ঘুরে ফিরে আবার মঞ্চ নাটকে আসব।

চাঁদপুর বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নেতা শরীফ চৌধুরী পরিচালনায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী বক্তব্যে বলেন, আজকে বর্ণচোরা যে আয়োজন করেছে এটি একটি ভালো উদ্যোগ। ৫০বছর একটি সংগঠন টিকে থাকা বড় অজন । চাঁদপুরে শিল্পী তৈরিতে এ সংগঠন ভূমিকা অপরিসীম। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শরীফ চৌধুরী জাতীয় পর্যায় নাটক করেছেন, ওনি বেশ কয়টি টেলিভিশনে নাটক করেছেন। ১১দিন ব্যাপী আন্তজার্তিক নাট্যোৎসব চলছে। আশা করছি ১১দিন সফল ভাবে এ উৎসব সম্পন্ন হবে। শুকদেব রায় ও শরীফ ভাই এ সংগঠনটি এগিয়ে নিচ্ছে। এ সংগঠন চাঁদপুর এবং জাতীয় পযায়ে ব্যাপক পরিচিত পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, গালাক্সী রিসোট লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর রোটারিয়ান মনিরুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক গোপাল সাহা, চতুরঙ্গের মহাসচিব হারুন আল রশিদ, বর্ণচোরা নাট্যোগোষ্ঠীর উপদেষ্টা ও চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন রাসেলসহ অন্যান্যরা।

নাট্যোৎসব অনুষ্ঠানে বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠী সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জাহিদুর রহমান রোমান, অনুষ্ঠানের সভাপতি চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী ও বিশেষ অতিথি গালাক্সী রিসোট লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর রোটারিয়ান মনিরুল ইসলাম কে উৎসব স্মারক প্রদান ও উত্তরীয় পরিয়ে দেন সংগঠনের শিল্পিগণ।

পরে ভারতের কোলকাতা গোবরডাঙ্গা নকসা পরিবেশনায় নাট্যকার আশিস দাসের নির্দেশনায় বিনোদিনী নাটক মঞ্চস্থ করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’