শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ)

মান অভিমান থাকতে পারে কিন্তু তা নৌকার সাথে বেঈমানী করে নয় : মুহম্মদ শফিকুর রহমান

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৯:১২ পিএম
মান অভিমান থাকতে পারে কিন্তু তা নৌকার সাথে বেঈমানী করে নয় : মুহম্মদ শফিকুর রহমান
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে নৌকা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শফিকুর রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহষ্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শফিকুর রহমান।
এসময় তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির জন্য অনকে গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে কিছু বিদেশী শক্তি আমাদের উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্থ করতে এবং নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য কথিত জুজুর ভয় দেখাচ্ছে। অন্যদিকে স্বাধীনতা বিরোধ বিএনপি জামাত জোট ও তাদের দোসররা নির্বাচনে আসলে পরাজয় নিশ্চিত জেনে এখন অগ্নীসন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষ হত্যা শুরু করেছে। এদের থেকে দেশকে রক্ষার একমাত্র উপায় জনগণের ভোটে আমাদের নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যম। তাই ৭ জানুয়ারী আমাদের বিজয়ী হওয়া অতিব জরুরী। পরাজিত শক্তি বিএনপি জামাতের প্রেত্মাতা যারা আমাদের মাঝে ঘাপটি মেরে বসে থেকে আওয়ামীলীগের প্রতিক, শেখ হাসিনার প্রতিক, স্বাধীনতার প্রতিক এবং জাতির পিতার প্রতিক নৌকাকে পরাজিত করতে উঠেপড়ে লেগেছে তাদের বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, জনগণ আওয়ামীলীগের গত ১৫ বছরের উন্নয়নের জানেন, তাই নেতাকর্মীদের প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে ৭জানুয়ারী ভোট কেন্দ্রে এসে নৌকায় ভোট প্রদান করার জন্য আহ্বান জানতে হবে। আমাদের মধ্যে মান অভিমান থাকতে পারে কিন্তু তা অবশ্যই নৌকার সাথে বেঈমানী করে নয়।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ উপ কমিটির সদস্য ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খাজে আহমেদ মজুমদার ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের যৌথ পরিচালনায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মোঃ মাহফুজুর রহমা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মোহাম্মদ হোসেন মিন্টু , ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মিরাজ, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুন নাহার অনি, পৌরসভার  সাবেক প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ হোসেন, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবু সুফিয়ান শাহীন, যুগ্ম আহবায়ক আল-আমিন পাটওয়ারী, উপজেলা কৃষক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো: শাহীন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ এর সহ-সভাপতি আহসান হাবিব নেভী, বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন বকাউল, বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই মজুমদার, সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা শারাফত উল্লাহ, সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পারভেজ আহমেদ, গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামী সহ-সভাপতি আমির হোসেন মাষ্টার, গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আবুল কাশেম আজাদ, গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুর সাবের আলম তালুকদার প্রমুখ।
এসময় আওয়ামীলীগ , যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’