শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জগন্নাথপুর হাজী এরশাদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের

ফুলেল সংবর্ধনায় বিদায় নিলেন শিক্ষক হাবিব উল্লাহ মজুমদার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৮:১৬ পিএম
ফুলেল সংবর্ধনায় বিদায় নিলেন শিক্ষক হাবিব উল্লাহ মজুমদার
১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জগন্নাথপুর হাজী এরশাদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।
যেটি চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ উপজেলার গন্ধব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে অবস্থিত। ছোট ছোট বাঁশ দিয়ে তৈরি করা টিনের চালায় নির্মিত সেই বিদ্যালয়টি এখন চারতলা ভবনে ডান্ডায়মান।
এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করতে যে মানুষটি মাথায় করে মাটির ওড়া বহন করেছিল সেই মানুষটি আবার শিক্ষকতা করে এই প্রতিষ্ঠানকে দাঁড় করিয়েছিলেন।
তিনি এ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হাবিব উল্লাহ মজুমদার।
এ সিনিয়র এশিক্ষকের বিদায় হলো বৃহস্পতিবার।
শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আয়োজনে সকালে বিদ্যালয় মাঠে অবসরজনিত বিদায় অনুষ্ঠানে তিনি ফুলে ফুলে সিক্ত হলেন।
ফুলেল সংবর্ধনায় তিনি সংবর্ধিত করলে সহকর্মী আর শিক্ষার্থীরা।
একদিনের জন্য প্রিয় নতুন পুরাতন সকল শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় মাঠে আসলেন তাঁকে বিদায় জানাতে।
বিদায় অনুষ্ঠানটি ছিল অনেকটা প্রাণবন্ত। উপহার আর ফুল নিয়ে সাবেক শিক্ষার্থীরা এসে দাঁড়ালেন ঐ শিক্ষকের কাছে।
অবসরজনিত বিদায় জানালেন বিদ্যালয় মাঠে এসএসসির বিদায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সামনে।
অফুরন্ত ভালোবাসায় তিনি বিদায় নিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সৈযদ মুতেজা কামাল।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মিজানুর রহমান সুমন পাটোয়ারি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাঁকৈরতলা জনতা কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুল হক পাটোয়ারী, সাবেক প্রধান শিক্ষক এস এম হোসেন মিয়া, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আনোয়ার হোসেন, বিদ্যুৎসাহী সদস্য এম ইউনুছ উল্যাহ, বিশিষ্ট সাংবাদিক খালেকুজ্জামান শামীম।
শিক্ষক এটি হোসাইন আহমেদ তালুকদার ও নুরুল আমিন মিয়ার প্রাঞ্জল উপস্থাপনায় বিদায় অনুষ্ঠানে সাবেক ছাত্রদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমিন মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক সহকারী পরিচালক সুজন চন্দ্র ঘোষ, হাজীগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ শাকিল, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জিয়াউল ইসলাম, জনতা ব্যাংক হাজিগঞ্জ শাখার সহকারী ম্যানেজার মাসুদ আলম, জাতীয় পার্টির হাজীগঞ্জ উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক জহির হোসাইন টিপু, পল্লী চিকিৎসক হাসানুজ্জামান, আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়াপ্রমুখ।
সবশেষে বিদায়ী শিক্ষক সকলের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রেখে সকলকে ধৈর্য ধারণ করে তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’