শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘোলঘর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে : ডাঃ জে আর ওয়াদুদ টিপু

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪, ৯:১১ পিএম
ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে : ডাঃ জে আর ওয়াদুদ টিপু

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডাঃ জে আর ওয়াদুদ টিপু বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বছরের প্রথম দিনে সরকার শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দিচ্ছে।

শনিবার (০২ মার্চ) ঘোলঘর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের এই দেশ। স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস আমাদের সন্তানদের জানাতে হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি তাদের নৈতিক শিক্ষা দিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কারণ একটা সময় আমাদের এই শিক্ষার্থীরাই দেশের নেতৃত্ব দিবে।

জে আর ওয়াদুদ টিপু বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি আলোকিত মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। খেলাধুলাসহ সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা সৃষ্টিশীল প্রজন্ম গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। খেলাধুলা মানসিক বিকাশ ও শরীর গঠনে সহায়তা করে। ক্রীড়ার মাধ্যমে খেলোয়াড় সুলভ মনোভাব তৈরির দ্বার উন্মুক্ত হয়। ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে।

Model Hospital

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাড. হুমায়ুন কবির সুমনের সভাপতিত্বে ও বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মধ্য তরপুরচন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মিরাতুজ্জামান মুক্তা, বিষ্ণুদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলফুর রহমান, ১৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন মাস্টার, সমাজসেবক আলী আহমেদ।

ঘোলঘর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডাঃ জে আর ওয়াদুদ টিপু।

ক্রীড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রেজাউল করিম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এডভোকেট কবির হোসেন চৌধুরী, তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম শেখ, চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সদস্য জাহাঙ্গীর কবির কিশোর, মোল্লা শাহজাহান, পৌর যুবলীগের সদস্য আল আমিন বকাউল, ওমর ফারুক আজমির, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ন আহবায়ক আব্দুল হান্নান ঢালী, যুবলীগ নেতা আবু জাফর মোল্লা, রিয়াদ খান, ১৫ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন চৌধুরী, ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান সজিব, সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত খান শুভ, ছাত্রলীগ নেতা মমিন হোসেন মাসুম।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’