ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই : মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন

ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা তথা ইসলামী শিক্ষা অন্যান্য শিক্ষার তুলনায় গুরুত্ব অপরিসীম । নিঃসন্দেহে ইসলামী শিক্ষায় সর্বোত্তম শিক্ষা।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে ইলম দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দিবেন বহুগুণ।” (সূরা মুজাদালা : ১১)
রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।” (সহীহ বুখারী ২/৭৫২)
হাদীস শরীফে এসেছে, “আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির চেহারা উজ্জ্বল করে দিন, যে আমার কোনো হাদীস শুনেছে। অতঃপর  অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।” (সুনানে আবু দাউদ ২/৫১৫)
ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা  এক প্রকার ইবাদতও বঠে। হাদীস শরীফে এসেছে, ইলম শিক্ষা করার জন্য পথ চলা, হাঁটা, কষ্ট করা ইত্যাদিও ইবাদাত। এগুলির মর্যাদা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত বেশি। (বুখারি-১/৩৭, মুসলিম-৪/২০৭৪)।
ইলম অর্জনকারীর জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিজেই জিম্মাদার। হাদীসে এসেছে, “যে ইলম অনুসন্ধানে বের হয় সে ফিরে আসা পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায় থাকে।” (জামে তিরমিযী ২/৯৩)
নৈতিকতা সমৃদ্ধ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে সকল ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ নিজ ধর্মীয় শিক্ষার সুনিশ্চিত করতে হবে। আপসোস!  ৯০% – ৯৫% মুসলিম দেশে শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক  শিক্ষা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে তরুণ প্রজন্ম সহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ নানা ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা না থাকায় তরুণ প্রজন্ম বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এমন অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতেই হবে। অথচ ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা তথা ইসলামী শিক্ষার বাধ্যকতার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন, “ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ।” (ইবনে মাজাহ: ২২৪)
বর্তমানে মাধ্যমিকের সিলেবাসে ধর্মীয় শিক্ষা  রাখলেও পরীক্ষা না হওয়ার সিদ্ধান্তে  শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে গুরুত্ব কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে গেছে।  সত্য বলতে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামী শিক্ষাকে অনেকটাই গুরুত্বহীন করে দেয়া হয়েছে। দেশের ভবিষ্যত ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নাস্তিক্যবাদের দিকে ঠেলে দিতেই ইসলামী শিক্ষা নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে সুকৌশলে। জাতীয় শিক্ষাক্রমে ইসলামবিরোধী ও হিন্দুত্ববাদী শিক্ষা সংযোজন করে ইসলামী শিক্ষা বিনাশ করার চক্রান্তে মেতে উঠেছে। কৌশলে নাস্তিক্যবাদী সিলেবাস বাস্তবায়নে  মরিয়া হয়ে উঠছে।
বর্তমানে সমাজের প্রায় সর্বস্তরে এখন মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবক্ষয় বিদ্যমান।যা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে রাষ্ট্র।আমাদের  শিক্ষাব্যবস্থায়, বিশেষ করে পাঠ্যক্রমে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার দুর্বলতাই এর মূল কারণ বলে মনে করেন দেশের প্রথম সারির ইসলামী চিন্তাবিদ,  শিক্ষাবিদ  ও সচেতন  নাগরিকগণ। আগামী প্রজন্মকে সৎ,সাহস, সুনাগরিক, নীতিবান ও দ্বীনদার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধে জাতীয়  শিক্ষা কার্যক্রমের প্রাইমারি স্তর থেকে সর্বোচ্চ মাস্টার্স পর্যন্ত তথা শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষার বিকল্প নেই।
লেখক : সংগঠক ও কলামিস্ট। 
সদস্য, চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র। 
প্রচার ও প্রকাশনা সচিব, বাংলাদেশ মুসলমান ইতিহাস সমিতি।
ট্যাগস :

মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ

সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই : মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন

আপডেট সময় : ০৯:০১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মার্চ ২০২৪
ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা তথা ইসলামী শিক্ষা অন্যান্য শিক্ষার তুলনায় গুরুত্ব অপরিসীম । নিঃসন্দেহে ইসলামী শিক্ষায় সর্বোত্তম শিক্ষা।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন, “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে ইলম দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দিবেন বহুগুণ।” (সূরা মুজাদালা : ১১)
রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।” (সহীহ বুখারী ২/৭৫২)
হাদীস শরীফে এসেছে, “আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির চেহারা উজ্জ্বল করে দিন, যে আমার কোনো হাদীস শুনেছে। অতঃপর  অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।” (সুনানে আবু দাউদ ২/৫১৫)
ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা  এক প্রকার ইবাদতও বঠে। হাদীস শরীফে এসেছে, ইলম শিক্ষা করার জন্য পথ চলা, হাঁটা, কষ্ট করা ইত্যাদিও ইবাদাত। এগুলির মর্যাদা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত বেশি। (বুখারি-১/৩৭, মুসলিম-৪/২০৭৪)।
ইলম অর্জনকারীর জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিজেই জিম্মাদার। হাদীসে এসেছে, “যে ইলম অনুসন্ধানে বের হয় সে ফিরে আসা পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায় থাকে।” (জামে তিরমিযী ২/৯৩)
নৈতিকতা সমৃদ্ধ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে সকল ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ নিজ ধর্মীয় শিক্ষার সুনিশ্চিত করতে হবে। আপসোস!  ৯০% – ৯৫% মুসলিম দেশে শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক  শিক্ষা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে তরুণ প্রজন্ম সহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ নানা ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা না থাকায় তরুণ প্রজন্ম বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এমন অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতেই হবে। অথচ ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা তথা ইসলামী শিক্ষার বাধ্যকতার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন, “ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান) অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ।” (ইবনে মাজাহ: ২২৪)
বর্তমানে মাধ্যমিকের সিলেবাসে ধর্মীয় শিক্ষা  রাখলেও পরীক্ষা না হওয়ার সিদ্ধান্তে  শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে গুরুত্ব কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে গেছে।  সত্য বলতে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামী শিক্ষাকে অনেকটাই গুরুত্বহীন করে দেয়া হয়েছে। দেশের ভবিষ্যত ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নাস্তিক্যবাদের দিকে ঠেলে দিতেই ইসলামী শিক্ষা নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে সুকৌশলে। জাতীয় শিক্ষাক্রমে ইসলামবিরোধী ও হিন্দুত্ববাদী শিক্ষা সংযোজন করে ইসলামী শিক্ষা বিনাশ করার চক্রান্তে মেতে উঠেছে। কৌশলে নাস্তিক্যবাদী সিলেবাস বাস্তবায়নে  মরিয়া হয়ে উঠছে।
বর্তমানে সমাজের প্রায় সর্বস্তরে এখন মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবক্ষয় বিদ্যমান।যা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে রাষ্ট্র।আমাদের  শিক্ষাব্যবস্থায়, বিশেষ করে পাঠ্যক্রমে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার দুর্বলতাই এর মূল কারণ বলে মনে করেন দেশের প্রথম সারির ইসলামী চিন্তাবিদ,  শিক্ষাবিদ  ও সচেতন  নাগরিকগণ। আগামী প্রজন্মকে সৎ,সাহস, সুনাগরিক, নীতিবান ও দ্বীনদার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধে জাতীয়  শিক্ষা কার্যক্রমের প্রাইমারি স্তর থেকে সর্বোচ্চ মাস্টার্স পর্যন্ত তথা শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষার বিকল্প নেই।
লেখক : সংগঠক ও কলামিস্ট। 
সদস্য, চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র। 
প্রচার ও প্রকাশনা সচিব, বাংলাদেশ মুসলমান ইতিহাস সমিতি।