শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী আলহাজ্ব আইয়ুব আলী পাটওয়ারী গনসংযোগ 

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মার্চ, ২০২৪, ৯:২৬ পিএম
কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী আলহাজ্ব আইয়ুব আলী পাটওয়ারী গনসংযোগ 
আসন্ন কচুয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে  চেয়ারম্যান পদে  প্রার্থী হিসেবে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আইয়ুব আলী পাটওয়ারী নির্বাচনের লক্ষ্যে গণসংযোগ ও কুশল বিনিময় করেছেন।
রবিবার  উপজেলার পালাখাল মডেল ইউনিয়নের পালাখাল বাজারের বিভিন্ন দোকানপাটে গিয়ে ব্যবসায়ীদের নিকট দোয়া চেয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় সহ বাজারে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কুশল বিমিময় করেন।
গনসংযোগ কালে তিনি বলেন, আমি তৃতীয়  উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সকল  জনগণের সমর্থনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছি। ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সকল শ্রেণীর জনগণের সমর্থনে বিপুল সংখ্যক ভোটে বিজয়ী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হব ইনশাল্লাহ। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসছি, আমি টানা ১৫ বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সাংগঠনিক কাজের সাথে জনগণের কাছে থেকে সেবা মূলক কাজ করেছি।
বর্তমান চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমার প্রাণপ্রিয় নেতা কচুয়ার অভিভাবক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ আশা করি আমাকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সমর্থন দিবে এই উদ্দেশ্যে আমি কচুয়ার প্রতিটি গ্রামের জনগণের কাছে গিয়ে দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি।
গণসংযোগ ও কুশল বিনিময় কালে পালাখাল মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিব মজুমদার জয়, পশ্চিম সহদেবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন, সহ-সভাপতি ইউনুছ পাটওয়ারী,সাবেক সভাপতি বিল্লাল হোসেন, ইউপি সদস্য শাহজাহান, আওয়ামী লীগ নেতা তৌহিদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান সর্দার, ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ডালিম সরকার,রোবেল হোসেন,উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সৌরভ, সোহাগ হোসেন,পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য তাজুল ইসলামসহ দলীয় সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’