শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে মৃত মানুষ হাঁটাচলা করছে

এস এম ইকবাল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৪, ২:২৭ পিএম
ফরিদগঞ্জে মৃত মানুষ হাঁটাচলা করছে
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মৃত বৃদ্ধ মানুষ হাঁটাচলা করেন। পরিবার সদস্যদের সঙ্গে ভরণপোষণ ও ধর্মকর্ম করেন। রাতে ঘরের বিছানায় ঘুমান। জীবিত বৃদ্ধ শহিদুল ইসলামকে কাগজ-পত্রে মেরে ফেলা হয়েছে। তৈরি হয়েছে মৃত্যু সনদপত্র। তার নামে বরাদ্দকৃত বয়স্ক ভাতার কার্ডটি বাতিল করে সচ্ছল নির্মল চন্দ্র দাসের নামে ইস্যু করা হয়েছে। ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সংঘটিত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ওয়ার্ড মেম্বার, ইউপি চেয়ারম্যান ও সমাজসেবা অফিস।
ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলার গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের জমাদার বাড়ির মৃত আবদুল আজিজের ছেলে তিনি। তার নামে ২০১৬ সালে বয়স্ক ভাতা চালু হয়। এক মাস আগে ভাতা তুলতে গেলে তাকে বলা হয় টাকা জমা হয়নি। দোকানি তাকে স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন।
পরদিন শহিদউল্ল্যা অফিসে গেলে মাঠকর্মী নুরুন্নবী বলেন, ‘আপনার বইতে সমস্যা আছে। এজন্য টাকা যায়নি। ঠিক করে দেবো বলে তিনি বই রেখে দেন।’ তিনি জানান, এরপর বারবার ওই অফিসে বইয়ের জন্য যান। কিন্তু তাকে বই না দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়। গতকাল দুপুরে সমাজসেবা অফিসে গিয়ে জানত চাইলে আগের মতো তালবাহানা শুরু করেন নুরুন্নবী। এক পর্যায়ে শহিদ উল্যার হাতে বইটি ফিরিয়ে দেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, আমি জীবিত মানুষকে যারা মেরে ফেললো তাদের বিচার চাই। আমার বয়স্কভাতা পেতে চাই। আমি এই ভাতার টাকায় ওষুধ কিনতাম। আমরা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাই। কী অপরাধে আমি জীবিত মানুষকে চেয়ারম্যান- মেম্বার মেরে ফেললো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, শহিদ উল্যার নামে মৃত্যু সনদপত্র জমার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্ভার থেকে তার নাম কেটে দেয়া হয়েছে। সেখানে নির্মল চন্দ্র দাস, পিতা. সন্তোষ চন্দ্র দাস, গ্রাম. ধানুয়া, ফরিদগঞ্জ চাঁদপুর এ নাম বসানো হয়েছে। দ্রুত গতিতে নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সমাজসেবা অফিসের রহস্যজনক আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন অভিজ্ঞ জনরা।
এ বিষয়ে ইউপি কার্যালয়ের তথ্য কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মিলন রেকর্ড দেখে বলেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের ৭ তারিখে শহিদ উল্যার মৃত্যু সনদের আবেদন করেছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার ও যুবলীগ সদস্য আহাদ খান জুয়েল এবং ওই তারিখে তিনিই সনদপত্রটি গ্রহণ করেছেন।
মেম্বার জুয়েল বলেন, ভুল হয়ে গেছে, ঠিক করে দেবো। কোন স্বার্থে বা ক্ষুব্ধ হয়ে এ কাজ করা হয়েছে, এমন প্রশ্নে তিনি পুনরায় বলেন, ভুল হয়ে গেছে।
ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য শাহ আলম বলেন, মেম্বার অনলাইনে আবেদন করে আমার কাছ থেকে মৃত্যু সনদে স্বাক্ষর নিয়েছেন। আমি মেম্বারকে বিশ্বাস করেছি। কাজটি ঠিক হয়নি।
এ বিষয়ে সমাজসেবা অফিসের মাঠকর্মী নুরুন্নবী কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি আজই জেনেছি। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। ইউপি চেয়ারম্যান মুত্যু সনদপত্র দিলে আমরা নিয়ম অনুযায়ী অন্য কারও নামে তা পরিবর্তন করে দেই।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital