শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

হক-ভাষানী-বঙ্গবন্ধুর নৌকা কেউ ডুবাতে পারবেনা : রুহুল এমপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২১, ৪:১২ পিএম
হক-ভাষানী-বঙ্গবন্ধুর নৌকা কেউ ডুবাতে পারবেনা : রুহুল এমপি
মনিরুল ইসলাম মনির : চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাড মোঃ নুরুল আমিন রুহুল বলেছেন, নৌকা স্বাধীনতার প্রতিক। হক-ভাষানী-বঙ্গবন্ধু- সোহরাওয়ার্দীর মার্কা নৌকা।এই নৌকা কেউ ডুবাতে পারবেনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ভালো মানুষের হাতে নৌকা তুলে দিয়েছেন।
যিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তার হয়তোবা অভিমান থাকতে পারে। আপনারা নেতৃবৃন্দ তাঁর সাথে কথা বললে হয়তোবা নৌকার বিপক্ষে থাকবে না।কারন তাঁর ছোট ভাই ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গজরা বাজারে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মী ও জনগণের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ঐক্যবদ্ধ ভাবে নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে এবং বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে।
গজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানা উল্লাহ মোল্লার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদুজ্জামান সরকার ওয়াদুদ এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গজরা ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শহীদ উল্লাহ প্রধান,আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জহিরাবাদ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী অ্যাড: মনোয়ারুল ইসলাম,গজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর প্রধান প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন,গজরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এমএ ছাত্তার,প্যানেল চেয়ারম্যান-২ শহীদ উল্লাহ প্রধান, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি কবির হোসেন টিটু,যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. প্রভাত চন্দ্র ভৌমিক, সাংগঠনিক সম্পাদক ছারফুল আমিন, সুদীপ্ত সপ্তবর্নার সভাপতি ও ঝিনাইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এবিএম শামসুল আলম,মতলব উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল লতিফ মিয়াজী, জাহিদ মেম্বার, কবির হোসেন মেম্বার, নুরুল ইসলাম মেম্বার, সুরুজ মিয়া মেম্বার, আওয়ামী লীগ নেতা হারুন ভান্ডারী,অলিউল ইসলাম, আব্বাস আলী প্রধান, ওসমান গনি মুন্সী, আব্দুল হক মোল্লা, জহিরুল ইসলাম মাষ্টার,ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বেপারী, ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র ভৌমিক, যুবলীগের নেতা নজরুল ইসলাম প্রধান, জসিম উদ্দিন প্রধান,শিপন প্রধান,সুমন বেপারী প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’