শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

জনপ্রতিনিধিদের অবহেলায় খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ

হাইমচরের ঈশানবালার এক রাস্তায় সহস্রাধিক মানুষের দুর্ভোগ

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০২৪, ১০:৫৩ পিএম
হাইমচরের ঈশানবালার এক রাস্তায় সহস্রাধিক মানুষের দুর্ভোগ
হাইমচর উপজেলার ৪নং নীল কমল ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ডের একমাত্র চলাচলের রাস্তাটি নিদারুণ অবহেলায় হাঁটাচলার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। জনপ্রতিনিধিদের অবহেলায় রাস্তাটি মেরামতের অভাবে এখন বৃষ্টি হলেই কাদা পানিতে একাকার হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। যার খেসারত দিচ্ছে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ছোট-বড়ো, বয়োবৃদ্ধ, শিশু বাচ্চা ও মহিলাদের হাট-বাজারে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এ কাঁচা রাস্তা। স্কুল ও মাদরাসা শিক্ষার্থীরাও এ রাস্তায় যাতায়াত করে। কিন্তু কাঁদা পানিতে একাকার হয়ে চলাচলের অযোগ্য হওয়ায় এখানকার সর্বসাধারণের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
২ জুলাই মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নীল কমল ইউনিয়নের ঈশানবালা বাজার থেকে টেকের বাজার যাওয়ার এ রাস্তাটির প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মিটার পর্যন্ত কাঁদা পানিতে একাকার। চলাচলের অযোগ্য প্রায় ৪০০ মিটার রাস্তা। সাধারণ মানুষের বাজারে যাওয়া আসা কিংবা কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া উভয়ই ব্যাহত হচ্ছে এ রাস্তার ভোগান্তিতে।
জানা যায়, এ কাঁচা রাস্তাটি সংস্কার করার দাবি নিয়ে স্থানীয়রা কয়েকবার ইউপি সদস্য ফারুক মেম্বারের কাছে যান। তিনি বারংবার আশ্বস্ত করলেও ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি ২ নং ওয়ার্ডে বসবাস করা ভুক্তভোগী জনসাধারণের। বর্ষা মৌসুম এলেই এ রাস্তাটি নিয়ে বিপাকে পড়েন এখানে বসবাস করা সহস্রাধিক মানুষ। যথাসম্ভব দ্রুত এ রাস্তাটি মেরামত করে চলাচলের উপযুক্ত করতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
২নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ফারুক মেম্বার দৈনিক শপথকে জানান রাস্তাটি কয়েকবার-ই সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু বর্ষা মৌসুম এলেই পানি ও কাঁদা একাকার হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ঈশানবালা বাজার থেকে আধা কিলোমিটার পর্যন্ত ইটের সলিং করা হলেও সমস্যা থেকে পরিত্রাণ মিলেনি। পরে রাস্তাটির ব্যাপারে উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। তারা এসে রাস্তার মাপ নেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমাদেরকে জানান।
এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান সউদ আল নাছের বলছেন, রাস্তাটি পিচ ঢালাই হবে। কাজটি প্রসেসিং এ রয়েছে। সরকারি কাজ, তাই ধীর প্রক্রিয়ায় কাজ শুরু হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
তিনি দৈনিক শপথকে জানান, আমরা উন্নয়ন তহবিলে ৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। ইতিপূর্বে মেম্বার নিয়ে বসে রাস্তাটির বিষয়ে কথাও বলেছি। এ রাস্তা পাকাকরণের পূর্বে হাঁটাচলার উপযুক্ত করতে কিছুটা মেরামত কাজ করবো, সম্ভব হলে সমস্ত রাস্তাটি সাময়িক চলাচলের জন্য ইটের সলিং করে দেওয়া হবে।

শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

চাঁদপুরের শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন বলেন, শতবর্ষ পূর্তি একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবের আয়োজন। এ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় ও সফল করতে এখন থেকেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ এবং আয়োজন বাস্তবায়নে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা জরুরি। তিনি সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও পরামর্শ দেন।আলোচনা শেষে বিভিন্ন ব্যাচ থেকে দুজন করে সাবেক শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের সুবিধাজনক সময়ে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

Model Hospital

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ঈমাম হোসেন বলেন, ‘শতবর্ষ পূর্তি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবের বিষয়। সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চাই।

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মরহুম সিদ্দিকুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের সব প্রয়াত ও  শিক্ষকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।যে কয়জন জীবিত শিক্ষক রয়েছে তাদের সম্মাননা দেওয়া বিষয়ে অভিমত তুলে ধরা হয়।

একই সঙ্গে শতবর্ষের এই প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার পেছনে যাঁরা ভূমি, অর্থ, শ্রম ও নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে অবদান রেখেছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বিশেষভাবে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বক্তব্য দেন। প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমান স্যার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও প্রিয় পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও আদর্শ শিক্ষক। আমরা তাঁর অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি চাই।

সভায় শতবর্ষ উদযাপন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬ আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় সাবেক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।