ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সম্পত্তিগত বিরোধে চাঁদপুরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের উপর হামলার অভিযোগ

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ভরঙ্গারচর গ্রামে সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান হাওলাদারের সন্তান মোঃ রিপন হাওলাদারের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একই বাড়ির ৬-৭ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার একমাত্র সন্তান রিপন হাওলাদার (৫৫) ও তার স্ত্রী শাহানাজ বেগম (৪২) গুরুতর আহত হয়ে ২৫০ শয্যা চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
শনিবার (৬ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে ভরঙ্গারচর হাওলাদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত রিপন হাওলাদার ও শাহনাজ বেগমের ছেলে শাওন জানায়, আমাদের বাড়ির কালাম হাওলাদারের ছেলে মোখলেস হাওলাদার (৬০) ও তার স্ত্রী ফুলু বেগম (৫০) এবং তাদের তিন সন্তান সুমন হাওলাদার (২৮), মিনহাজুল হাওলাদার (২২), বিলকিস আক্তার (২১), ফারুক হাওলাদারের স্ত্রী সহিদা বেগম (৪৫) ও তার ছেলে সৈকত হাওলাদার (৩০) তারা ঘটনার দিন দুপুরে আমাদের বসতঘরের জায়গাটি নাকি তাদের দাবী করে বসত ঘর ভাঙ্গতে আসে।
এসময় আমার বাবা-মা বাধা দিলে তখনই তারা মারধর করার এক পর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে দা দিয়ে মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করেছেন।
তিনি আরো বলেন, হামলা করার সময় চিৎকার করে বলে আজকেই নাকি মেরে ফেলবে। বাড়ির লোকজন না থাকলে আজকে তারা ৬-৭ জন মিলে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আমার বাবা-মাকে মেরে ফেলতো। এর আগেও একবার এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। এক প্রশ্নের জবাবে শাওন রায়হান বলেন, তারা হলো ৬-৭ জন। আর এদিকে শুধু আমার বাবা-মা দুইজন। কাদের জোড় হবে আপনি বুঝেন। তবে এ ঘটনায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
মাহবুব হাওলাদার নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমি দুপুরের খাবার খেতে বসে ডাক চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পেয়ে উঠানে গিয়ে দেখি দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়াঝাটি চলতেছে। তখন তাদেরকে ঝগড়াঝাটি বন্ধ করতে বলে চলে আসি। পরে জানতে পারি হাতাহাতিতে দুই পক্ষের লোকজনই কমবেশি আহত হয়েছেন।
অভিযুক্তদের একজন মোখলেস হাওলাদারের ছেলে সুমন হাওলাদার জানান, তাদের ঘরের চালের বৃষ্টির পানি নেমে আমার কাকির মাটি ভেঙ্গে যায়। এজন্য তিনি একদিক থেকে অন্যদিকে বৃষ্টির পানি নামার জন্য কাঁচি দিয়ে জায়গা করে দিচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা আমার চাচি সাহিদা বেগমকে মারধর করেন। পরে আমি দুপুরে বাড়িতে এসে দেখি রিপন ভাই ও তার স্ত্রী সহ আমাদের পরিবারের সাথে কথা কাটাকাটি চলে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যেই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আমাদের পরিবারের লোকজন আহত হলে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাই।
ঘটনার বিষয়ে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার শাহাদাত হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করতে তার মোবাইলে একাধিকবার কল দিলে রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ট্যাগস :

কনের পরিবারের ইচ্ছেপূরণে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করতে এলেন লালমনিরহাটের মামুন

সম্পত্তিগত বিরোধে চাঁদপুরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের উপর হামলার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:৫১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুলাই ২০২৪
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ভরঙ্গারচর গ্রামে সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান হাওলাদারের সন্তান মোঃ রিপন হাওলাদারের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একই বাড়ির ৬-৭ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার একমাত্র সন্তান রিপন হাওলাদার (৫৫) ও তার স্ত্রী শাহানাজ বেগম (৪২) গুরুতর আহত হয়ে ২৫০ শয্যা চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
শনিবার (৬ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে ভরঙ্গারচর হাওলাদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত রিপন হাওলাদার ও শাহনাজ বেগমের ছেলে শাওন জানায়, আমাদের বাড়ির কালাম হাওলাদারের ছেলে মোখলেস হাওলাদার (৬০) ও তার স্ত্রী ফুলু বেগম (৫০) এবং তাদের তিন সন্তান সুমন হাওলাদার (২৮), মিনহাজুল হাওলাদার (২২), বিলকিস আক্তার (২১), ফারুক হাওলাদারের স্ত্রী সহিদা বেগম (৪৫) ও তার ছেলে সৈকত হাওলাদার (৩০) তারা ঘটনার দিন দুপুরে আমাদের বসতঘরের জায়গাটি নাকি তাদের দাবী করে বসত ঘর ভাঙ্গতে আসে।
এসময় আমার বাবা-মা বাধা দিলে তখনই তারা মারধর করার এক পর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে দা দিয়ে মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করেছেন।
তিনি আরো বলেন, হামলা করার সময় চিৎকার করে বলে আজকেই নাকি মেরে ফেলবে। বাড়ির লোকজন না থাকলে আজকে তারা ৬-৭ জন মিলে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আমার বাবা-মাকে মেরে ফেলতো। এর আগেও একবার এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। এক প্রশ্নের জবাবে শাওন রায়হান বলেন, তারা হলো ৬-৭ জন। আর এদিকে শুধু আমার বাবা-মা দুইজন। কাদের জোড় হবে আপনি বুঝেন। তবে এ ঘটনায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
মাহবুব হাওলাদার নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমি দুপুরের খাবার খেতে বসে ডাক চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পেয়ে উঠানে গিয়ে দেখি দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়াঝাটি চলতেছে। তখন তাদেরকে ঝগড়াঝাটি বন্ধ করতে বলে চলে আসি। পরে জানতে পারি হাতাহাতিতে দুই পক্ষের লোকজনই কমবেশি আহত হয়েছেন।
অভিযুক্তদের একজন মোখলেস হাওলাদারের ছেলে সুমন হাওলাদার জানান, তাদের ঘরের চালের বৃষ্টির পানি নেমে আমার কাকির মাটি ভেঙ্গে যায়। এজন্য তিনি একদিক থেকে অন্যদিকে বৃষ্টির পানি নামার জন্য কাঁচি দিয়ে জায়গা করে দিচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা আমার চাচি সাহিদা বেগমকে মারধর করেন। পরে আমি দুপুরে বাড়িতে এসে দেখি রিপন ভাই ও তার স্ত্রী সহ আমাদের পরিবারের সাথে কথা কাটাকাটি চলে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যেই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আমাদের পরিবারের লোকজন আহত হলে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাই।
ঘটনার বিষয়ে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার শাহাদাত হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করতে তার মোবাইলে একাধিকবার কল দিলে রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।