শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে শিক্ষার্থীদের নানা চিত্রে দেয়াল এখন রঙিন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০২৪, ১১:০৩ পিএম
চাঁদপুরে শিক্ষার্থীদের নানা চিত্রে দেয়াল এখন রঙিন

কদিন আগেও যেসব দেয়ালে ছিল ঘৃণা ও দ্রোহের বহিঃপ্রকাশ এখন সেসব দেয়ালই নজর কাড়ছে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশার আহ্বানে। ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রং-তুলির রঙিন আঁচড়ে বদলে যেতে শুরু করেছে চাঁদপুরের একেকটা দেয়ালের বুক। দলবেঁধে জরাজীর্ণ ও পুরোনো দেয়ালে থাকা পূর্বের নানা লেখা মুছে রং-তুলিতে বৈষম্যহীন স্বপ্নের বাংলাদেশকে আঁকছেন শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীরা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চিত্র আর আবু সাঈদ-মুগ্ধদের মতো শিক্ষার্থীদের ত্যাগ স্মরণ করতেই দেয়ালে দেয়ালে আঁকা হচ্ছে গৌরবময় নানা গ্রাফিতি। এতে রাঙিয়ে তোলা হচ্ছে বদলে যাওয়া নতুন বাংলাদেশের গল্প ও আন্দোলন অভ্যুত্থানের নানা ঘটনা। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় অংশ নিয়েছেন এই কাজে। ছাত্র আন্দোলনে জড়িতদের ত্যাগ মানুষের মাঝে স্মরণীয় রাখতেই এ উদ্যোগ, বলছেন তারা।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুপাশের দেয়ালে দেয়ালে বিজয় উল্লাসের বিভিন্ন গ্রাফিতি আঁকতে দেখা যায়। আর এতেই নতুনভাবে চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন দেয়াল বদলে গেছে। দেয়াল সাজাতে উৎসাহমূলক নানা চিত্র, ছাত্র আন্দোলনের পটভূমি ও দেশ সংস্কারের নানা স্লোগানে শিক্ষার্থীদের রং-তুলির আঁচড়ে শিক্ষার্থীদের আঁকা শিল্পকর্ম নজর কাড়ছে পথচারীসহ সাধারণ মানুষের।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, একত্রে অনেক সুন্দর সমাজ ও দেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আন্দোলন ও ত্যাগের মহিমা তুলে ধরতেই সবাই মিলে দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Model Hospital

এদিকে দেয়ালে দেয়ালে ‘পানি লাগবে কারো’, ‘স্বাধীন করেছি, সংস্কারও করবো’, ‘আমিই বাংলাদেশ’, ‘আপনি কখনো মনে করবেন না যে, জালিমরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন’ ‘দুর্নীতি রুখে দাও’, ‘নতুন বাংলাদেশ’, ‘আমার স্বাধীনতা’, ‘জাগো বাহে কোনঠে সবাই’, ‘বল বীর, বল বীর, বল উন্নত মম শির’সহ এমন অসংখ্য লিখনি ও আন্দোলনের নানা চিত্রে চাঁদপুরের দেয়াল এখন রঙিন।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।