রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত

মতলব দক্ষিণের অটোচালক রহিম হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৪, ৮:৩০ পিএম
মতলব দক্ষিণের অটোচালক রহিম হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত মতলব দক্ষিণের অটোচালক আব্দুর রহিম বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন।
গত ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার মাছুয়াখাল গ্রামের মন্টু হাজীর ছেলে সজিব হাজীর নেতৃর্তে প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজন নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে রহিমকে আহত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার শাশুড়ি নাজমা বেগম। একমাত্র মেয়ের জামাইয়ের এ অবস্থায় দিশেহারা দিনমজুর রহিমের শ^শড়-শাশুড়ী। দরিদ্র হওয়ায় জামাইর চিকিৎসা করানো এখন কষ্ট হচ্ছে তাদের।
আহত রহিম উপজেলার পয়ালী গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে। সে উপজেলার মাছুয়াখাল এলাকায় তার শশুর বাড়িতে দীর্ঘ ১০ বছর যাবত বসবাস করে আসছেন।
জানা যায, গত ৩১ জুলাই রহিমের শাশুড়ী নাজমা বেগমের সাথে একই বাড়ির মন্টু মিয়ার স্ত্রী রাজিয়া বেগমের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার সূত্র ধরে ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় রাজিয়ার ছেলে সজিব ও তার সহযোগী প্রায় ৩০/৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল হামলা করে আব্দুর রহিমের উপর। হামলাকারীদের ভয়ে আত্মরক্ষায় রহিম ঘরের ভিতর দরজা বন্ধ করে থাকলে সেখান থেকে দরজা ভেঙ্গে মারতে মারতে বাড়ির পাশে রাস্তায় নিয়ে যায়।
পরে অজ্ঞান অবস্থায় সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। বর্তমানে আব্দুর রহিম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
রহিমের শাশুড়ি নাজমা বেগম জানান, রাজিয়ার ছেলে সজীবের নের্তৃত্বে ৩০/৪০ জনের একদল সন্ত্রাসী এসে আমার মেয়ের জামাইকে ঘরের দরজা ভেঙ্গে জোরকরে মারতে মারতে রাস্তায় অজ্ঞান অবস্থায় পেলে চলে যায়। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। এখনো সজিব ও তার সহযোগীরা হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সজীবের মা রাজিয়া বেগম। তিনি জানান, ঘটনার দিন আমার ছেলে ঢাকায় ছিল। এই ঘটনার সাথে আমার ছেলে জরিত নাই।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।