শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

আমন ক্ষেতে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি, ফসল রক্ষায় পাহারা

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৪, ৯:২৫ পিএম
আমন ক্ষেতে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি, ফসল রক্ষায় পাহারা

মতলব উত্তর উপজেলায় আমনের মাঠে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি বসায় ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাখি তাড়াতে দিনভর জমি পাহারা দিচ্ছেন কৃষকরা। কেউ কেউ জমির চারদিকে জাল পেতে রেখেও ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন।

জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলায় এবার অনাবৃষ্টির কারণে রোপা আমন চাষে কিছুটা দেরি হয়েছে। এজন্য কৃষকরা কম সময়ে ফসল তুলতে আগাম জাতের ধান চাষ করেছেন। এসব জমির ধান এখন আধা পাকা, পাকতে শুরু হয়েছে কোথাও কোথাও।

এদিকে জমিগুলোতে দিনভর ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ুই, বাবুইসহ নানা জাতের পাখি এসে বসছে, পাখির দল ধান কিছুটা খেয়ে যাচ্ছে, ধানগাছ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্তও করছে।

উপজেলার দেওয়ানজিকান্দি গ্রামের কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ গ্রামের হাওরে এবার শতাধিক হেক্টর জমিততে আগাম জাতের রোপা আমন চাষ হয়েছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেশি পরিমাণ পাখি এসে বসায় ধানের ক্ষতি হচ্ছে।

Model Hospital

বিভিন্ন ধানক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, ফসল রক্ষায় কৃষকরা নানা পদ্ধতি অবলম্ব করছেন। কেউ কেউ জমির চারদিকে জাল দিয়ে ঘেরাও করেছেন, কেউ কেউ টিনের সাহায্যে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে পাখি তাড়াচ্ছেন, অনেক আবার দিনভর জমিতে বসে পাহারা দিচ্ছেন।

আদুরভিটি গ্রামের শাহাবুদ্দিন, সফিক, চাঁন মিয়া মেম্বার জানান, জমির ধান পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ুই ও বাবুই পাখি জমিতে বসে ধান খেয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় ধান গাছ ভেঙে পড়ে মরে যাচ্ছে। ধান কাটার আগ পর্যন্ত এমন চলতে থাকলে ব্যাপকভাবে ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বনসহ দিনভর জমি পাহারা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, পাখিদের খাদ্য সংকট থাকায় তারা আগাম জাতের রোপা আমনের জমিতে এসে বসছে।

এ অবস্থা মোকাবিলার জন্য নেট জাল দিয়ে জমি মুড়িয়ে রাখার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।