শাহরাস্তিতে বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকরা মানববন্ধন শেষে শিক্ষা উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিবাদকারি শিক্ষকরা দুটি সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন শেষে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ইয়াসির আরাফাত বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
ওই স্মারকলিপিতে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ মাধ্যমিকস্তরে শিক্ষা ক্ষেত্রে চলমান বৈষম্য দূরীকরণ, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ জাতীয়করণ, শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন, সরকারি শিক্ষকদের পদায়ন বন্ধ, জাতীয়করণের পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষা প্রশাসনের মাধ্যমে কার্যক্রম চালু রাখার দাবি জানান।
ওই সময় দাবি জানানো শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, উপস্থিত শিক্ষকরা তাদের বক্তব্যে, একটি উন্নত আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষো সুষম সুস্থ্য-পরিচ্ছন্ন মানবিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য সার্বজনীন শিক্ষার গভীর ও ব্যাপক প্রয়োজন। প্রাথমিক শিক্ষা হলো মৌলিক শিক্ষা। এই শিক্ষা সবাইকে গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা মানবসম্পদ সৃষ্টি করে না।
অন্যদিকে উচ্চ শিক্ষা পেশাদারী শিক্ষা প্রদান করে এবং উচ্চতর জীবিকার সম্ভাবনাময় পেশাদাররা দেশের বাইরে চলে যায়।
শুধুমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে যথার্থ জনসম্পদ সৃষ্টি হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় বিগত সরকার পরিকল্পিতভাবে মাধ্যমিক শিক্ষাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছে।
জুলাই-আগস্ট ২০২৪ এর বিপ্লবের মধ্যদিয়ে ছাত্র-জনতা বৈষম্য বিরোধী দেশ গড়ার যে স্বপ্ন আমাদের দেখিয়েছে তাতে আমরাও নতুন করে স্বপ্ন দেখছি, আপনার গতিশীল নেতৃত্বে মাধ্যমিক শিক্ষা আবার জেগে উঠবে।
এ স্বপ্নযাত্রায় আমরাও আপনার সহযাত্রী হতে প্রস্তুত।
এ সময় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ আরো কিছু দাবি তুলে ধরেন যেমন, মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ, একই শিক্ষাগত যোগ্যতা, একই বই পড়ানো, একই বোর্ডের আওতায় পরীক্ষা অথচ সরকারি ও বেসরকারি নাম দিয়ে আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদার মধ্যে বিরাট বৈষম্য তৈরি করে রাখা হয়েছে যা শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নে প্রধান অন্তরায় তা দূরীকরণ, শিক্ষার সকল অংশীজনের প্রাণের দাবী মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ। শিক্ষা বিভাগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একাডেমিক ও প্রশাসনিক। শিক্ষকেরা একাডেমিক কাজে দক্ষ। তাদের সকল প্রশিক্ষণ প্যাডোগোজি কেন্দ্রিক। ক্লাস রুমের শিক্ষা-শিখনে তারা দক্ষ।
অন্যদিকে শিক্ষা প্রশাসনে দীর্ঘ ৩১ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের সকল প্রশিক্ষণ প্রশাসনিক। শিক্ষকতা ও প্রশাসন ভিন্ন চরিত্রের ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের, কাজের ধরণ ভিন্ন, চর্চা বা অনুশীলন ভিন্ন। শিক্ষকরা প্রশাসনে অনভিজ্ঞ, জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপ-পরিচালক পদে তাঁদের পদায়ন করা হলে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শূন্যতা যেমন সৃষ্টি হয় তেমনি ক্লাসরুম শিক্ষকতায় অভিজ্ঞ একজন শিক্ষককে উল্লেখিত পদসমূহে পদায়ন করা হলে বিভিন্ন বিধি-বিধান সম্পর্কে পূর্ব জ্ঞান না থাকার কারণে অফিসের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অধঃস্তন পদের লোকজনের পরামর্শ দ্বারাই পরিচালিত হতে হয়। প্রশাসনিক দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে তাঁদের সমস্যা হয়।
এছাড়াও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকগণকে পদায়ন করা হলে প্রশাসনিক অনভিজ্ঞ সিনিয়র শিক্ষকের অধীনে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রধানগণকে কাজ করতে হবে, এতে শিক্ষাঙ্গণে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। সে কারণে উপজেলা, জেলা, অঞ্চল ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখায় ৩১ বছর শিক্ষা প্রশাসনে কাজের দক্ষতা সম্পন্ন ৬ষ্ঠ গ্রেড অফিসার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের পদোন্নতি ও পদায়নের জোর দাবী করছি।
শিক্ষার মাঠ প্রশাসনে কাজ করা ১০-২২ বছরের দক্ষ, অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত SESIP এর জনবল রাজস্বখাতে স্থানান্তরের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করন। বহুমাত্রিক সমস্যায় মাধ্যমিক শিক্ষা জর্জরিত। স্কুল, মাদ্রাসা, সরকারি, বেসরকারি, ইংরেজী ভার্সন এরকম নানা ধরণের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এদের মধ্যে বৈষম্য প্রকট। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে একটি শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের দাবি জানান।
এ সময় শাহররাস্তি মাধ্যমিক শিক্ষক সমাজকল্যাণ সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক আক্তার হোসেনের সঞ্চালনায় সংগঠনের সভাপতি প্রধান শিক্ষক বাড়ি বানিয়াচৌঁ জেবি উবির প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক পঞ্চনগর উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রহিম, এবং বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদারেছীন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া অন্যান্য মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আহমেদ নগর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আমিনুল ইসলাম,ফরিদ উদ্দিন উবির প্রধান শিক্ষক মোঃ সিদ্দিকুর রহমান,শুচিপাড়া উবির মো: হাবিবুল্লাহ , খেড়িহর উবির মো: শামসুল হুদা,ফটিক খিরা এসএ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর শিক্ষক জসীমউদ্দিন বিএসসি, জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ জহিরুল আলম,টামটা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এর শিক্ষক এইচএম বদিউজ্জামান ভূঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য প্রদান করেন।
এছাড়া অত্র উপজেলার প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধানগনসহ শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।