বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিষ্ক্রিয়

কচুয়ায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের হিড়িক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৪, ৮:৪০ পিএম
কচুয়ায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের হিড়িক

কচুয়ায় নিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ফসলী জমি থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন।

কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক স্থানে অবৈধ ভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের হিড়িক লেগে গেছে।দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের ভূমিকা নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে। অবৈধ ড্রেজার মেশিন বন্ধর জন্য ভুক্তভোগীরা অনেকে অভিযোগ দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না।

বর্তমানে ড্রেজার মালিক ও বালু ব্যবসায়ীদের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বিপুল সংখ্যক ফসলি জমি। এতে করে কৃষি জমি নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে অনেক কৃষক।

এছাড়াও দিন দিন ভূখন্ডের ভারসাম্য হুমকির মুখে রয়েছে। ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ ও কৃষি জমি রক্ষায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।

বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার সাচার ইউনিয়নের বায়েক মোড়ে ৪টি, বজরীখুলা আশ্রায়ন কেন্দ্রের দক্ষিন পাশে ২টি, নয়াকান্দি-রাগদৈল ৩টি। পাথৈর ইউনিয়নের বারৈয়া বাজারের উত্তর পাশে ১টি,বেরকোটা গ্রামে ২টি। বিতারা ইউনিয়নের দুর্ঘাপুর গুঘড়াবিলে ২টি,বাইচারা বাজারের উত্তর পাশে ২টি, শিলাসস্থান বাজারের পশ্চিম পাশে ২টি,নিন্দনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ১টি।

Model Hospital

পালাখাল মডেল ইউনিয়নের ভূইয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে ১টি,আইনপুর-শংকরপুর মাঠে ২টি দোয়াটি ২টি, বাছাইয়া ব্রিকফিল্ডের পূর্বপাশে কচুয়া-সাচার সড়কের পাশে ১টি। পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের মালচোয়া বাজারের নন্দনপুর সড়কের পাশে ১টি,দারাশাহী তুলপাই মাঠে ২টি। কাদলা ইউনিয়নরে মনপুরা কাজী বাড়ির পাশে ১টি। কড়ইয়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও কচুয়া-কালিয়াপাড়া সড়কের পাশে ১টি, আকানিয়া কালু মিয়ার বাড়ির পাশে ২টিসহ কচুয়ার একাধিক স্থানে অর্ধশতাধিক অবৈধ ভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কৃষি জমি নষ্ট করে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন ভূমি দস্যুরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষক জানান, এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার এভাবে বালু উত্তোলনে বাঁধা দিলেও কোন কাজ হয় না। বরং তারা ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ম্যানেজ করে উল্টো কৃষি জমির মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ফসলি জমি নষ্ট করে বালু বিক্রি করছেন। কৃষি জমি রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী অসহায় কৃষকরা।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি ) বাপ্পী দত্ত রনি বলেন, ফসলি জমি নষ্ট করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের লিখিত অভিযোগ পেলে বালু ও ড্রেজার ব্যবায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে পুড়ে যাওয়া বসতঘরের ভগ্নাবশেষ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে একটি নিরীহ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গভীর রাতে ঘটা এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা সূত্রপাত কোথায় থেকে হয়েছে, তা কেউ বলতে না পারায় পুরো এলাকায় গভীর রহস্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৭শে অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের পশ্চিম শ্রীকালিয়া গ্রামের জবর আলি বেপারী বাড়ির প্রবাসী মো. মাসুদ আলমের বাড়িতে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটোয়ারী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে সবাই নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এর মাত্র কিছুক্ষণ পর, আনুমানিক রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে বসতঘরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তাঁদের আর্তচিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভেতর থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, পরিধেয় বস্ত্রসহ সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটার মতো রান্নার চুল্লি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কেট বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থের কোনো সংযোগ বা উপস্থিতি ছিল না। ফলে এত বড় অগ্নিকাণ্ড কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ এটি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।