শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হলো ‘আমিও জিততে চাই’ ডিআইউডিসি বিতর্ক মহাযজ্ঞ ১৪৩১

পারভেজ মোশারফ (ডিআইইউ): প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৪, ১০:২৭ পিএম
ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হলো ‘আমিও জিততে চাই’ ডিআইউডিসি বিতর্ক মহাযজ্ঞ ১৪৩১

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং ক্লাব (ডিআইইউডিসি) আয়োজনে শুরু হয়েছে ” ‘আমিও জিততে চাই’ ডিআইউডিসি বিতর্ক মহাযজ্ঞ ১৪৩১”, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে সাভারের ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে তিনদিন ব্যাপী এ আয়োজন শেষ হবে ২৬ অক্টোবর হবে।

ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে এ আয়োজনে সহায়তা করছে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল। আয়োজকরা মনে করছেন “আমিও জিততে চাই” ক্যাম্পেইনের অধীনে এই ফেস্টিভ্যাল শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন সুযোগ তৈরি করবে, যেখানে তারা জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করবে এবং নিজস্ব সৃজনশীলতা দেখাতে পারবে।

বিতর্ক উৎসবের উদ্দেশ্য তরুনদের ক্ষমতায়ন, নাগরিক সচেতনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রচার করা। এ উৎেসবে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলের ৬৪টি বিতর্ক দল অংশ নিয়ে সাংস্কৃতিক ও ইন্টারেক্টিভ কার্যক্রমে যোগ দিচ্ছে। তিনদিনব্যাপী এ আয়োজনে যুবদের কণ্ঠস্বর নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরার জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরাও উপস্থিত থাকবেন।

বৃহস্পতিবার এর উদ্বোধন করেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি চিফ অব পার্টি আমিনুল এহসান। ২৪ অক্টোবর উদ্বোধনী দিনে স্কুল-কলেজ পর‌্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন। দ্বিতীয় দিন ২৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিতর্ক, কর্মশালা, থিয়েটার পারফরম্যান্স এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে। তৃতীয় ও শেষ দিন ২৬ অক্টোবর, ফাইনাল রাউন্ড, শো ডিবেট, নীতি সংলাপ এবং পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে উৎসব শেষ হবে।

Model Hospital

বিতর্ক মহাযজ্ঞের প্রধান বিচারক সুমিত কর্মকার বলেন, “বিতর্ক সমাজের সঠিক ও ভুল দিকগুলো তুলে ধরে, স্থবির ধারণাকে নাড়া দেয় এবং নতুন চিন্তার জন্ম দেয়।” নাসির উদ্দিন, প্রাক্তন সভাপতি (এনএসইউডিসি) আরও যোগ করেন, “বিতর্ক সমাজের অন্ধকার কোণগুলো আলোকিত করে এবং বিভিন্ন মতামতকে একত্রিত করে জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।”

উৎসবের প্রধান ইভেন্ট হবে পার্লামেন্টারি ডিবেট প্রতিযোগিতা, যেখানে ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় দল এবং ৩২টি স্কুল দল সাতটি রাউন্ডে অংশ নেবে। বিতর্কের বিষয়গুলো হবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, সড়ক নিরাপত্তা এবং জাতিগত অধিকার নিয়ে। অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে “আমিও জিততে চাই” শিরোনামে এক মিনিটের ভিডিও বার্তা চাওয়া হবে, যেখানে ভবিষ্যত বাংলাদেশকে তারা কিভাবে চায় তা প্রকাশ পাবে। সেরা তিনটি ভিডিও বিশেষ স্বীকৃতি পাবে। এছাড়া ‘ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র: যুব প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক নীতি সংলাপ, থিম্যাটিক কর্মশালা, থিয়েটার পারফরম্যান্স এবং কুইজ প্রতিযোগিতা হবে। প্রাক্তন বিতার্কিক ও পেশাজীবীদের নিয়ে শো ডিবেটও আয়োজন করা হবে, যেখানে যুব সম্পর্কিত নীতি বিষয়ে আলোচনা হবে।

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের এসপিএল প্রকল্পের অধীনে ‘আমিও জিততে চাই’ ক্যাম্পেইন বিতর্ক প্রতিযোগিতা ছাড়াও দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলা ও ক্যাম্পাসে নাট্য প্রদর্শনী ও আলোচনার মাধ্যমে নাগরিক প্রত্যাশা তুলে ধরতে কাজ করছে। এতে করে তরুণসহ সমাজের নানা শ্রেনি পেশা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’