শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বাবার সমাধিতে মাঠের কোণে দাঁড়িয়ে শিশু সাদিয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২২, ৫:১৯ পিএম
বাবার সমাধিতে মাঠের কোণে দাঁড়িয়ে শিশু সাদিয়া
:: মনিরুজ্জামান বাবলু ::  বাবার ছোট মেয়ে সাদিয়া। পাঁচ বোন। দুই বোন স্বামীর বাড়িতে। দুই বোন পড়াশোনা করছে।  আর সাদিয়া সবেমাত্র একটি মাদ্রাসায় ভর্তি হলো। তার বাবা না ফেরার দেশে চলে গেল। মৃত্যু একটি বিশ্বাস যোগ্য শব্দ।  সেটা বুঝার বয়স হয়নি সাদিয়ার। কিন্তু বাবার জানাজা শেষে দাফন হয়। তারপর দোয়া হয়। ওই মূহুর্ত পর্যন্ত সাদিয়া নিরবে জানাজার মাঠের এককোণে দাঁড়িয়।
সাদিয়ার বাবা আবু তাহের মিসবাহ।  পেশায় একজন শিক্ষক।  শখের বশে তিনি লেখালেখিতে জড়িয়ে পড়েন। হাজীগঞ্জ উপজেলা শহরের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক মানবসমাজ পত্রিকায় সাংবাদিকতার হাতেখড়ি। হাজীগঞ্জ আল কাউসার মাদ্রাসার একজন শিক্ষক।
দীর্ঘ দিন তিনি নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সদায় হাস্যজ্বল মানুষটি পাঁচ কন্যা ও স্ত্রীসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীদের রেখে যান।
মানুষ আর জীবন। পরস্পর একটি শব্দ।  সেই জীবন বেঁচে থাকা পর্যন্ত ছয়টি মৌলিক চাহিদার প্রধান খাদ্য। সাদিয়া ও তার পরিবারের মুখে খাদ্য দেয়ার একমাত্র যোগানদাতা ছিলেন আবু তাহের মিসবাহ। পরিবারের সূর্য-চাঁদ বলতে সবই ছিলেন তিনি। পরিবারের সেই আলোকবর্তিকা নিভে গেলে নিশ্চিত অন্ধকার।
সাদিয়ার ভবিষ্যত সেই অন্ধকারে।  সাথে সাদিয়ার মা ও চার বোন। সাদিয়া হয়তো বাবাকে চিরতরে হারিয়েছে – সেটা উপলব্দি করতে পারেনি। দিনের আলো শেষে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে বাবা কেন আসেনা?- সেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে মা-বোনের চোখে টলমল জল ঝরাবে।
সোমবার দিবাগত রাতে আবু তাহের মিসবাহর ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে কল এসেছিল।  সাইলেন্ট থাকায় ধরতে পারিনি। ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে উঠে মোবাইল দেখে বুঝে গেলাম – কোন বিপদ সংকেত।
নামাজ পড়েই মিসবাহকে শেষ বিদায় জানাতে বাড়ীতে হাজির। সাদিয়ার বোনদের – ‘বাবা আর নাই গো’ বিলাপে কান্নাকাটিতে সমবেদনা জানানোর বাসা খুঁজে পাইনি।
শুধু সাদিয়াকে কোলে নিয়ে কিছুক্ষণ বসে ছিলাম তাহের মিসবাহর মৃতদেহের পাশে। দাফন শেষ পর্যন্ত ছিলাম। শেষের দৃশ্যটি ছিল সাদিয়ার। তড়িঘড়ি করে ক্যামেরা বন্দী করলাম সাদিয়ার ছবিটি।
সাদিয়ার অপূরণীয় শূন্যতা পূর্ণ হোক সমাজের স্নেহমাখা আদরে।
লেখক : সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী 

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital