সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

অধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যাপক আবুল কালামের চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজে যোগদান

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৪, ১০:২৩ পিএম
অধ্যক্ষ হিসেবে অধ্যাপক আবুল কালামের চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজে যোগদান

শাহরাস্তির ঐতিহ্যবাহী চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজের কলেজ শাখার অধ্যক্ষ পদে অধ্যাপক মো.আবুল কালাম যোগদান করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে পরিচালনা পর্যদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরিচালনা পর্ষদ সদস্য নাজমীর হোসেন মজুমদার, মো.হুমায়ুন কবির, স্কুল শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো.নাজির আহমেদ এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতে তিনি এ দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

পরে সকাল থেকে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, হেলপিং হ্যান্ড স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা,এলাকার বিশিষ্ট জন তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন।

ওই সময় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ পাকের অশেষ রহমত ও দয়ায় আমি এ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছি।

আমার বর্ণাঢ্যময় শিক্ষকতা জীবনের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা এই কলেজ প্রতিষ্ঠানে নিবেদন করব।

Model Hospital

এ ছাড়া পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান দাতা সদস্য ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান এবং প্রাক্তন সদস্যদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি তার দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

উল্লেখ,  মো.আবুল কালাম ১৯৯০ সালের প্রথম দিকে লাকসামের নীলকান্ত কলেজে (বর্তমানে নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজ) রসায়ন বিদ্যা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।পরবর্তীতে ১৯৯২ সলে শাহরাস্তির সূচীপাড়া ডিগ্রি কলেজে একই পদে যোগদান করে ২০০২ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে একই পদে থেকে ২০২৪ সালের ২১ জানুয়ারী অবসর গ্রহন করেন। ঐ সময়ে তিনি সূচীপাড়া ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শাহরাস্তি চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহন করছেন অধ্যাপক মো.আবুল কালম।

তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ রোভার স্কাউটস শিক্ষক, উপজেলার শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক ও জেলার শ্রেষ্ঠ বিতর্ক শিক্ষকের মর্যাদা লাভ করেন। এ বছর ২২ জানুয়ারি চেড়িয়ারা স্কুল এন্ড কলেজে একাডেমিক এডভাইজার হিসেবে যোগদান করেন এবং ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার অধ্যক্ষ পদে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

তার স্ত্রী মনোয়ারা খানম সূচীপাড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে এ বছরের ১ ফ্রেরুয়ারী ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহন করেন।

তিনি ২ সন্তানের জনক। বড় ছেলে ডা.মোনতাসির কালাম নাবিল লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।

ছোট ছেলে মো. মোবাশ্বির কালাম নাহিন হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।

ওইসময় শাহরাস্তি প্রেসক্লাব সভাপতি হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, সাবেক প্রাণীসম্পদ অফিসার ডাঃ দুলাল চন্দ্র ঘোষ, সহ-সভাপতি মো: মাসুদ রানা, সাধারন সম্পাদক নোমান হোসেন আখন্দ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমাজ কল্যাণ সমিতি সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাশার পাটোয়ারী, শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন  শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রভাষক মোহাম্মদ আলী(উচ্চতর গনিত),  প্রভাষক কাউসার আলম (সমাজ কর্ম), প্রভাষক শামসুদ্দিন (ব্যবস্হাপনা), প্রভাষক রত্না রাণি দেবনাথ (পৌরনীতি ও সুশাসন), প্রভাষক রিক্তা রাণি দেবনাথ(ইংরেজি), প্রভাষক হাফিজুর রহমান (অর্থনীতি), প্রভাষক সোনিয়া আক্তার (উৎপাদন ব্যবস্হাপনা ও বিপনন), প্রভাষক সালমা আক্তার (হিসাব বিজ্ঞান) প্রভাষক সাদিয়া আফরিন (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি), প্রভাষক জাকির হোসেন (বাংলা), প্রভাষক ইমরাতুল জান্নাত (জীব বিজ্ঞান)।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।