বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ৭ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এমপি মমিনুল হক

ধর্ম ভিন্ন হলেও সব নাগরিকের অধিকার সমান: প্রকৌশলী মমিনুল হক এমপি

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫২ পিএম
ধর্ম ভিন্ন হলেও সব নাগরিকের অধিকার সমান: প্রকৌশলী মমিনুল হক এমপি
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য লায়ন প্রকৌশলী মমিনুল হক এমপি  শাহরাস্তি পৌর এলাকার সাতটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, পূজার সার্বিক খোঁজখবর গ্রহণ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তিনি একে একে মেহের কালীবাড়ি, পালপাড়া, নিজমেহার দক্ষিণপাড়া, ছিখটিয়া ঠাকুরবাড়ি, ছিখটিয়া কবিরাজবাড়ি, উপলতা পুরোহিতবাড়ি ও নাওড়া ঠাকুরবাড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে এমপি মমিনুল হক বলেন, সব মানুষ সমান। সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। ধর্মীয় বিশ্বাস ও উপাসনার ধরন ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা সমান। ধর্মের ভিন্নতাকে বিভেদের কারণ না করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করতে হবে। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন এবং সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবেন।
তিনি আরও বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের উদ্যোগ ও অর্থায়নে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। এটি একটি ব্যয়বহুল ধর্মীয় উৎসব। অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পূজার আয়োজন ও মণ্ডপের উন্নয়নকাজে সমস্যা দেখা দেয়। এ অবস্থায় ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সব ধর্মের মানুষের উৎসব নির্বিঘ্নে পালনে সহযোগিতা করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।
এমপি বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর উন্নয়নে এ বছর মোট তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে । সরকারি সহায়তার আওতায় প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি তার  ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ১০ হাজার টাকা করে সহযোগিতা করা হয়েছে বলপ জানান । তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীও দুর্গাপূজায় সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছেন। এ ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপহার হিসেবে শাড়ি ও কাপড় প্রদান করা হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ সামাজিক হয়রানি, জমি দখল, ব্যবসায়িক ক্ষতি কিংবা অন্য কোনো সমস্যার শিকার হলে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করতে হবে। তাঁদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট রেখে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার  (ইউএনও) মনিরা খাতুন বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দ ও ভক্তদের যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসব উদযাপনে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। পৌর প্রশাসক হিসেবে তিনি প্রতিটি পূজামণ্ডপে পাঁচ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করেন।
এমপির সঙ্গে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামছুজ্জামান, শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আয়েত আলী ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন, হান্নান ফিলিং স্টেশন এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হান্নান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম পাটোয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ বেলায়েত হোসেন সেলিম, আব্দুল মান্নান, মোঃ মনিরুজ্জামান, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আলী আজগর মিয়াজী, সদস্য সচিব এহতেশামুল হক গণি, পৌর যুব দলের আহবায়ক জাকির হোসেন নয়ন, সদস্যসচিব আলী আজগর মোল্লা,উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন,পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক মাজারুল ইসলাম জুয়েল, সদস্য সদস্যসচিব সোলেমান। উপজেলা ও পৌর যুবদল, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।
এ সময় উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবু নিখিল চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অমৃত মজুমদার টুটন, বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দ, পুরোহিত ও ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এ বছর শাহরাস্তি উপজেলায় ১৯টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও পূজা উদযাপন কমিটি সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

রুয়েটের বাসে প্রধানমন্ত্রী; ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী শনাক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
রুয়েটের বাসে প্রধানমন্ত্রী; ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী শনাক্ত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্নাইপার সংক্রান্ত একটি মন্তব্য ঘিরে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মন্তব্যটিকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতারা। তারা মন্তব্যটির বিষয়ে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে ওই মন্তব্যকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকাল তিনটার দিকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান। এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে করে রাজশাহীর নগরীতে প্রবেশ করেন। এ সময় রাস্তার দুধারে অসংখ্য মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান। চলন্ত বাস থেকে প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে জবাব দেন।

তবে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরকালে ব্যবহৃত বাস নিয়ে একটি পোস্ট দেয়া হয়। সেখানে লেখা হয় ‘সবই বুঝলাম! রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই? রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কী জানেন রাজশাহীবাসী?’ এই পোস্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী রুয়েটের বাসের ছবি সংযুক্ত করা হয়।

পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে এমডি আবু বকর সিদ্দিক নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয় ‘ইস! একটা বড় সুযোগ। ছিল শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’। এই মন্তব্যটির ভাষা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতারা।

Model Hospital

তাদের মতে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এমন মন্তব্যের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে মন্তব্যটির উদ্দেশ্য ও এর সঙ্গে কোনো বাস্তব হুমকির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যিনি এমন কথা বলেছেন তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। তার ভাষ্য, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আলী আশরাফ মাসুম বলেন, ফেসবুকে এ ধরনের মন্তব্য দেখে আমরাও উদ্বিগ্ন হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্তব্যটি তার প্রতি হুমকির ইঙ্গিত বহন করে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে একজন একটি মন্তব্য করেছেন যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক অপরাধমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরমধ্যে মন্তব্যকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে।