শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীকে সেবা দিতে ”নোয়াখালী হোস্ট” এর যাত্রা শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৪:৪৬ পিএম
বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীকে সেবা দিতে ”নোয়াখালী হোস্ট” এর যাত্রা শুরু

বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীকে তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি ভিত্তিক সেবা দেয়ার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করলো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান  “নোয়াখালী হোস্ট’। বর্তমান সময়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতি ক্ষেত্রেই অনলাইন ভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েই চলছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রচার-প্রসার থেকে শুরু করে প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হচ্ছে অনলাইন ভিত্তিক প্রযুক্তি।

বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের ব্যবসায়ী, স্থানীয় উদ্যোক্তা, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানসহ  প্রযুক্তি প্রেমীদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ভিত্তিক সেবা দেয়ার লক্ষে নোয়াখালী হোস্ট কাজ করবে। এছাড়াও এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে সচেতনা গড়ে তুলতে কাজ করবে বলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

 প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা সাংবাদিক হারুন অর রশিদ জানান, জেলা উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সময় উপযোগী প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটালাইজড করার লক্ষে নোয়াখালী হোস্ট সাশ্রয়ী মূল্যে, স্বল্প সময়ে, সঠিক সেবা প্রদান করবে। স্থানীয়দের হাতের নাগালে থেকে বিশ্বস্ততার সাথে প্রযুক্তি ভিত্তিক সেবা ও পণ্য পৌঁছে দেওয়াই নোয়াখালী হোস্ট এর লক্ষ।

”নোয়াখালী হোস্ট” ডোমেইন নেম রেজিষ্ট্রেশন, ওয়েব হোস্টিং, ওয়েব ডিজাইন/ডেভেলপমেন্ট, ই কমার্স ডেভেলপমেন্ট, মোবাইল এপস ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তাসহ প্রযুক্তি প্রেমী মানুষদের অনলাইন ভিত্তিক প্রযুক্তি ও পন্য সমূহ সরবরাহ করবে। আরো বিস্তারিত জানা যাবে তাদের ওযেব সাইটে: noakhalihost.com  (বিজ্ঞপ্তি)

Model Hospital

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’