রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তি চিশতিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা’র, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত

মোঃ রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৪, ৬:২৪ পিএম
শাহরাস্তি চিশতিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা’র, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ঠাকুরবাজারে অবস্থিত শাহরাস্তি চিশতিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বেলাল আহমেদের বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি তদন্ত করেছে।

২০১৫ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে একের পর এক মনগড়া সিদ্ধান্ত, অদূরদর্শিতা ও নানা অনিয়মের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিতর্কিত।

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক অভিভাবক ও শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন উপজেলা প্রশাসকের কাছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের নির্দেশনা দেন।

উক্ত তদন্ত কার্যক্রমে মাদ্রাসার সকল শিক্ষক, কর্মচারীর উপস্থিতি যাবতীয় প্রমাণাদি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে অভিভাবক সদস্য শিক্ষক ও এলাকাবাসী, পৃথক পৃথক সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তদন্ত কমিটি। উক্ত তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইয়াসির আরাফাত। তদন্ত কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়শা আক্তার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু ইসহাক, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আলী আশরাফ খান।

Model Hospital

উপজেলা অফিস সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ মোঃ বেলাল হোসেনের অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শাহরাস্তি, চাঁদপুর এর স্মারক নং-৬৭৭।

মঙ্গলবার থেকে চলা এই তদন্ত আজ বৃহস্পতিবার এসে শেষ হয়। এখন চূড়ান্ত রিপোর্ট মোতাবেক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পরেই জানা যাবে অধ্যক্ষ বেলাল হোসেনের ভাগ্যে আসলে কি ঘটতে যাচ্ছে?

এ বিষয়ে মাদ্রাসা গভর্ণিং বডির অভিভাবক সদস্য মো: আব্দুল কাইয়ুম রিপন জানান শাহরাস্তি চিশতিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা’র অধ্যক্ষ মোঃ বেলাল হোসেন দীর্ঘ বছর যাবৎ মাদ্রাসায় ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতি করে আসছেন। তিনি একক স্বেচ্ছাচারিতা মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছেন। তিনি কাউকে কোন তোয়াক্কা করেন না, তাই তিনি এককভাবে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতি করেছেন।

আমরা প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ অনিয়ম ও দূর্নীতিকারী অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি করছি এবং এ দূর্নীতিকারী অধ্যক্ষ বেলাল হোসেন যতদিন মাদ্রাসায় থাকে ততদিন মাদ্রাসার ব্যাপক ক্ষতি হবে বলেও তিনি জানান।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।