রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুর সদরে আধুনিক মডেল মসজিদে প্রথম জুম্মায় মুসুল্লীদের ঢল

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৪, ৭:০২ পিএম
চাঁদপুর সদরে আধুনিক মডেল মসজিদে প্রথম জুম্মায় মুসুল্লীদের ঢল

ক্যাপশন: শুক্রবার (২২ নভেম্বর)' জুম্মার নামাজের মধ্য দিয়ে চাঁদপুর সদর মডেল মসজিদের আনুষ্ঠানিকভাবে নামাজ আদায় করা শুরু হয়েছে।

নবনির্মিত আধুনিক চাঁদপুর সদর উপজেলার মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সে জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মসজিদে নামাজ আদায় শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) নামাজ শুরু উপলক্ষ্যে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা মডেল মসজিদে প্রথম নামাজ আদায়ে শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহন করেন।

উপজেলা মডেল মসজিদে অনুষ্ঠিত প্রথম জুম্মার নামাজে ইমামতি করেন মসজিদের খতিব ও ইমাম মাও. মাহদী হাসান।

উদ্বোধনী জুম্মার নামাজে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাখাওয়াত জামিল সৈকত, মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বাহার মিয়া।

Model Hospital

এ সময় চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল এমরান খান, শহর জামায়াতের আমীর অ্যাড. শাহজাহান খান, চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রৌকশলী মোঃ আলী নূর, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ পরিচালক আসাদুজ্জামান ভূইয়া, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম আহসান উল্ল্যাহ, জি এম শাহীন, দৈনিক চাঁদপুর জমিন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক রোকনুজ্জামান রোকন, শহর জামায়াত নেতা সাইফুল ইসলাম সবুজ, আবুল হোসেন ঢালী প্রমুখ।

মডেল মসজিদে অনুষ্ঠিত প্রথম নামাজ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শেষে মুসল্লিদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তবারক বিতরণ করা হয়।

জানা যায়, চাঁদপুর সদরের মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি ৩ তলাভীতে চাঁদপুর-রায়পুর মহাসড়কের পশ্চিম পাশে চাঁদপুর জেলা নির্বাচন অফিসের দক্ষিণে জেলা পরিবার পরিকল্পনা ও জেলা পরিসংখ্যান অফিস সংলগ্নে দৃষ্টিনন্দন সদর উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মান করা হয়। এই মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রয়েছে অজুখানা, ইসলামিক রিচার্জ সেন্টার, ইমাম ও মুয়াজ্জিনের থাকার জন্য পৃথক রুমের ব্যবস্থা, সব নারী-পুরুষ মিলে এক হাজার লোকের নামাজের পৃথক ব্যবস্থা, নারীদের আলাদা অজু ও নামাজ পড়ার ব্যবস্থা।

ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, লাইব্রেরি, হজ্ব যাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ সেন্টার, ইসলামী গবেষণা ও দাওয়া কার্যক্রম, হেফজখানা, শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম, অতিথিশালা, পবিত্র কোরআন হেফজ, শিশু শিক্ষা, মৃত ব্যক্তির গোসলের ব্যবস্থা, এবং গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা রাখা হয়েছে।

১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
১২৯ বছরের জীবনের অবসান! মতলবের প্রবীণ বারেক বেপারীর বিদায়, বয়স নিয়ে চাঞ্চল্য

দীর্ঘ ১২৯ বছরের জীবনের অবসান। পৃথিবীর আলো-বাতাসে এক শতাব্দীরও বেশি সময় কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি বারেক বেপারী। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১২৯ বছর। তাঁর দীর্ঘায়ু নিয়ে এলাকায় রয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীতে মেয়ের বাসায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বারেক বেপারী মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মুদাফর গ্রামের মৃত লতিফ বেপারীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রোববার বাদ আসর মুদাফর ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর দৌহিত্র হাফেজ মো. হাফিজ উদ্দিন।

Model Hospital

১২৯ বছরের জীবন, স্থানীয়দের মুখে দীর্ঘায়ুর গল্প

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারেক বেপারী প্রায় ১২৯ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। তাঁদের দাবি, এত দীর্ঘ জীবন পাওয়ায় তিনি ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের একজন। তবে তাঁর বয়সের পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও যাচাইকৃত কোনো নথির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১২৯ বছর বয়সের বিষয়টি স্থানীয়দের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মানবজীবনে শতবর্ষ পেরিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের জ্যাঁ লুইস কালমঁ ১২২ বছর ১৬৪ দিন বেঁচে ছিলেন, যা কোনো মানুষের সর্বোচ্চ যাচাইকৃত আয়ু হিসেবে স্বীকৃত।

বারেক বেপারীর জীবনও স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘায়ুর এক বিস্ময়কর গল্প হয়ে থাকবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেন চিরবিদায়ের পথে। রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, স্বজনদের ভালোবাসা আর দীর্ঘ জীবনের নানা গল্প।

দীর্ঘ জীবনের পথচলা থেমে গেল, কিন্তু স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন বারেক বেপারী।

তাঁর মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।