শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

রেলওয়ে বিরাট অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত

আন্ত:নগর মেঘনা এক্রপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল॥ সহস্রাধিক যাত্রী চরম দূর্ভোগের শিকার

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৪, ৭:৪২ পিএম
আন্ত:নগর মেঘনা এক্রপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল॥ সহস্রাধিক যাত্রী চরম দূর্ভোগের শিকার

চাঁদপুর-চট্রগ্রামের মধ্যে নিয়মিত চলাচলকারী ৭৩০আপ আন্ত:নগর মেঘনা এক্রপ্রেস মেইল ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় ট্রেনটির ১৮টি বর্গির প্রায় সহস্রাধিক যাত্রী নিয়ে চট্রগ্রামে আড়াই ঘন্টা বিলম্বে পৌছে। এতে করে ট্রেনে থাকা নারী,পুরুষ,শিশু,কিশোর,কিশোরী,বৃদ্ধ ও বৃদ্ধাসহ শত শত যাত্রী চরম দূর্ভোগ পৌহাতে হয়েছে। বিলম্বের ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিরাট অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে রেলসূত্রে জানা যায়। সেই একই ট্রেনটি বিকেল ৬টায় চট্রগ্রাম থেকে চাঁদপুরের উদ্দের্শে ছেড়ে আসে।

চাঁদপুর ষ্টেশন সূত্রে ও প্রত্যাক্ষ দর্শীদের সাথে আলোচনা কালে জানা যায়,চাঁদপুর-চট্রগ্রামের মধ্যে প্রতিদিনের ন্যায় চলাচলকারী ১৮টি বর্গির যাত্রী নিয়ে ৭৩০ নাম্বার আপ আন্ত:নগর মেঘনা এক্রপ্রেস ট্রেনটি শুক্রবার(২২ নভেম্বর) সকাল ৫টায় চাঁদপুর হতে চট্রগ্রামের উদ্দের্শে যাত্রা করে। পথিমধ্রে শহরের কোট ষ্টেশনে বিরতী দিয়ে যাত্রী উঠানামা করে। সেখান থেকে ট্রেনটি রেলপথ দিয়ে লাকসাম থেকে চট্রগ্রাম অভিমূখে ছেড়ে যায়।

ট্রেনটি ২মিনিট চলার পর হঠাৎ ইঞ্জিনে যান্ত্রীক ক্রটি দেখা দিয়ে ইঞ্জিনটি বিকল হয়ে পড়ে। ট্রেনের চালক ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে ইঞ্জিনটি সচল করতে ব্যর্থ হয়। এ সময় ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় চাঁদপুর শহরের মিশন রোড রেল গেইট এলসি-৮-এ ও ছায়াবানী রেল গেইট এরসি-৮–বি সড়ক পথের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বিভিন্ন যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে কয়েক ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যাপক যানযটের সৃস্টি হয়ে চাঁদপুরের শত-শত মানুষ দূর্ভোগে পড়ে হয়রানির শিকার হয়।

পরে চাঁদপুর স্টেশন মাস্টার মারুফ হোসেনের মাধ্যমে রেলওয়ের লাকসাম জংশনে খবর পাঠান হয়। সেখান থেকে রিলিফ ট্রেনের ইঞ্জিন চাঁদপুর এসে ট্রেনটিকে বিপরীত দিক থেকে চালিয়ে চাঁদপুর স্টেশন থেকে প্রায় ২ঘন্টা ৩০ মিনিটে বিলম্বে পুনরায় চাঁদপুর স্টেশন থেকে সকাল প্রায় ৭টা ৩০মিনিটে চট্রগ্রামের উদ্দের্শে চাঁদপুর ত্যাগ করে।

Model Hospital

এদিকে ইঞ্জিন ক্রটির কারনে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট ট্রেন বিলম্ব করায় দক্ষীনঞ্চলিয় শত-শত যাত্রীসহ এ অঞ্চলের যাত্রীরা শীতে ও বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে চরম দূর্ভোগ পৌহাতে হয়েছে। বেশী দূর্ভোগের শিকার হয় শিশু,মহিলা ও বুদ্ধরা। এ সময় অনেক যাত্রী বিলম্বের কারনে ট্রেনের টিকেটের টাকা ফেরত না’পেয়েও সড়ক পথে চট্রগ্রামের উদ্দের্শে চলে যেতে দেখা যায়।

অপরদিকে ট্রেনটি ২ঘন্টা ৩০মিনিট বিলম্বের কারনে চাঁদপুর-লাকসাম ও লাকসাম চট্রগ্রাম রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনে অপেক্ষমান শথ-শত যাত্রীরা বিকল্প পথ সড়ক পথে চট্রগ্রামের উদ্দের্শে চলে যেতে বাধ্য হয়। যার ফলে সরকার তথা রেলওযে বিরাট অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে রেলওয়ের চট্রগ্রাম বিভাগীয় এক জন কর্মকর্তা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ট্রেনে অবস্থানরত যাত্রী সাগর, অন্তু ও রাফি জানান, আমরা কয়েকজন বন্ধু একসাথে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। ট্রেনটি ছাড়ার ২ মিনিটের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন ট্রেনের বিলম্বের কারনে আমরা চট্রগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন পাবনা। এতে আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হলো।

চাঁদপুর স্টেশন মাস্টার মারুফ হোসেন জানান,মেঘনা ট্রেনটি সঠিক সময়ে চাঁদপুর থেকে চট্রগ্রাম ছেড়ে যায়। যান্ত্রীক ক্রটির কারনে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। আমি চট্রগ্রাম বিভাগীয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে বিষয়টি অবগত করে তাদের নির্দেশে লাকসাম থেকে রিলিফ ট্রেনের ইঞ্জিন এনে চাঁদপুর থেকে প্রায় আড়াই ঘন্টা বিলম্বে চট্রগ্রাম যাত্রা করে। তবে যাত্রীরা শীতের কারনে সকালে কিছুটা হলেও হয়রানির শিকার হয়েছে।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।