বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় মাদরাসা প্রিন্সিপালের লালসার শিকার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৭:৫৫ পিএম
কচুয়ায় মাদরাসা প্রিন্সিপালের লালসার শিকার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী

ছবি: মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষক কাজী আসাদ গ্রেফতার।

৯ বছর বয়সি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে কচুয়া হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসা ও কচুয়া আইডিয়াল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল কাজী আসাদ (৫৫) কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

রবিবার তাকে পৌরসভাধীন কাজী বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও কচুয়া পৌরসভাধীন হাট কচুয়া গ্রামের কাজী বাড়ির মৃত কাজী আবদুল ওয়াদুদ এর ছেলে। এই ঘটনায় ধর্ষিতার মা কচুয়া থানায় গতকাল রবিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী২০২০) এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৫।

মামলা সূত্রে জানাযায়, কচুয়া দক্ষিন ইউনিয়নের আকানিয়া গ্রামের ধর্ষনের শিকার শিশুটি কচুয়া সরকারি পাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসার ৩য় শ্রেণির ছাত্রী। সে মাদ্রাসার হোস্টেলে থেকে আবাসিক ছাত্রী হিসেবে লেখাপড়া করে আসছিল।

Model Hospital

গত ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় শিশুটি খাবার পানি আনার জন্য প্রতিষ্ঠানের নীচ তলায় গেলে ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল কাজী মো. আসাদ উল্যাহ তার কক্ষে ডেকে নিয়ে শিশুটিকে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে।

পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার সহপাঠী ও পরিবারকে ধর্ষণের বিষয়ে খুলে বললে শিশুর মা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। শিশুটির শারীরিক
অবস্থা পর্যবেক্ষনে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে।

দীর্ঘ ১০ দিন চিকিৎসা শেষে গতকাল রবিবার শিশুটির মা কচুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী২০২০) এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে কচুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ জিয়াউল হক বলেন, শিশু ধর্ষনের অভিযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কচুয়া থানাধীন হাটকচুয়া এলাকা হইতে উক্ত মামলার আসামী কাজী আসাদকে গ্রেফতার করে বিধি মোতাবেক যথাযথ পুলিশ পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

গ্রেফতার কৃত কাজী আসাদের এক স্ত্রী তিন ছেলে এক মেয়ে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

চাঁদপুরের মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করায় তাকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ওই শিক্ষকের নাম মোঃ জুয়েল তালুকদার। তার বাড়ী হাজীগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দসার গ্রামে। তার পিতার নাম আলী আজম। মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। এক বছর আগে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি।

জানা গেছে, শিক্ষক জুয়েল তালুকদার তার নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যাঙ্গ করে এবং কুরুচিপূর্ণ ও সমালোচনামুলক একাধিক পোস্ট করেন ওই শিক্ষক। বিগত কয়েক মাস যাবৎ ‘জুয়েল তালুকদার ‘ নামের ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছাড়াও বিএনপির সাবেক মহাসচিব বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি দিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নজরে আসলে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃস্টি হয় এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।

তাৎক্ষণিক মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কেএম ইশমাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক জুয়েল তালুকদারকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Model Hospital

মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান বলেন, ‘ওই শিক্ষক সরকারের সুবিধা ভোগ করে তার ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা করে আসছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।’

মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি শোয়েব আহমেদ সরকার বলেন,‘ওই শিক্ষক মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অন্তরালে সরকারের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান তিনি।’

ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে জুয়েল তালুকদার বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি পরবর্তীতে ডিলিট করে দিয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি কেএম ইশমাম বলেন, ‘শিক্ষককে বাধ্যতামুলক ছুটির পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ কার্যদিসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।’