বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

জাহাজে ৭ খুন : চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে কান্নার রোল

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৬:৫৭ পিএম
জাহাজে ৭ খুন : চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে কান্নার রোল

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে পণ্যবাহী জাহাজে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭ জন৷ প্রথমে জাহাজ থেকে পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া একজন ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

এদিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে মরদেহগুলো। এমন হত্যাকাণ্ড আগে দেখেনি কেউ। মরদেহ চিহ্নিত করতে হাসপাতালে স্বজনরা ভিড় করেছেন। তাদের কান্নায় আকাশ ভারী হয়ে উঠেছে। ডাকাত নাকি পূর্ব শত্রুতার জেরে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা নিয়ে এখনো রয়েছে ধুম্রজাল।

Model Hospital

নিহত আমিনুল মুন্সির ভগ্নিপতি এনায়েত হোসেন তুষার বলেন, জাহাজে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানতে পারি। প্রথমে এই খবর বিশ্বাস হচ্ছিল না। সকালে হাসপাতালে এসে মরদেহ শনাক্ত করি। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যা। তা না হলে এভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হতো না। যদি ডাকাতরা এই কাজ করতো, মানিব্যাগ, মোবাইল ও অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করতো। আমাদের দাবি, দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক যাতে দেশে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

শেখ সবুজের ছোট ভাই রেজাউল করিম বলেন, গতকাল বিকেলের পর খবর আসে বড় ভাই এবং মামা জাহাজে খুন হয়েছেন। রাতেই ফরিদপুর থেকে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে আসি। পরে মরদেহ দেখে শনাক্ত করি। মরদেহ দেখে পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড মনে হচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।

এদিকে দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল থেকে মরদেহ পরিবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম এস ইকবাল বলেন, তদন্ত ছাড়া এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্বশত্রুতার রেশ ধরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। এরইমধ্যে আমাদের টিম কাজ শুরু করেছে। পরিবার মামলা না করলে পুলিশ মামলা করবে। যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে চাঁদপুর মেঘনা নদীতে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা এম়ভি আল বাখেরা লাইটার জাহাজের ৭ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।