শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

এক রাতে বিদ্যুতের ২০টি শিল্প মিটার চুরি

চোরের বিকাশে টাকা পাঠিয়ে মিলছে চুরি যাওয়া বৈদ্যুতিক মিটার

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫, ১২:৩০ এম
চোরের বিকাশে টাকা পাঠিয়ে মিলছে চুরি যাওয়া বৈদ্যুতিক মিটার

শেষ পর্যন্ত চোরের চাহিদা অনুযায়ী বিকাশে টাকা পাঠিয়ে ফেরত আনা হয়েছে রাতের বেলা চুরি হয়ে যাওয়া পল্লী বিদ্যুতের ৩টি শিল্প মিটার। চুরি যাওয়ার রাত শেষে দিনেই টাকা পেয়ে বিভিন্ন স্থানে মিটারগুলো রেখে যায় চোরেরা। স্ব স্ব মিল মালিকগণ স্ব-প্রণোদিত হয়ে চোরের সাথে যোগাযোগ করে মিটার ফিরে পাবার ব্যবস্থা করে সফলতা লাভ করে। এর আগে চুরি যাওয়া প্রতিটি মিটারের পাশে একটি মুঠেফোন নাম্বার রেখে যায় চোরেরা। সেই নাম্বারে যোগাযোগ করে একাধিক স’ মিল মালিক।

এদিকে এক রাতে এতো শিল্প মিটার চুরির ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ হাজীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ ও ২-এর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকা থেকে গত বুধবার দিবাগত রাতে (২৩ জানুয়ারি ২০২৫) প্রায় ২০টি শিল্প মিটার তথা স’ মিল ও তুলা তেরির মিলের শিল্প মিটার চুরি হয়। চোরের দল চুরি করা প্রতিটি মিটারের পাশে একটি মুঠোফোন নাম্বার কাগজে লিখে তা পলিথিনে মুড়িয়ে ঝুলিয়ে রেখে যায়। সেই নাম্বারে একাধিক ব্যবসায়ী যোগাযোগ করে কয়েকজন সফলতা লাভ করেন।

দেবপুর বাজার থেকে ভুট্টোর এবং মহামায়া বাজার থেকে শরীফ হোসেন ও বিল্লাল মিজির শিল্প মিটার চুরি হয়। পরে বুধবার চোরের দেয়া নাম্বারে ফোন করেন ক্ষতিগ্রস্ত এই তিন ব্যবসায়ী। তিনজনেই ১০ হাজার টাকা করে চোরের দেয়া বিকাশ নাম্বারে পাঠানোর পরে মিলের কিছু দূরে পাওয়া যায় চুরি হওয়া মিটারগুলো।

Model Hospital

বিকাশে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে মিটার ফিরে পাওয়া মহামায়া বাজারের স’ মিল মালিক বিল্লাল মিজি জানান, আমি চোরের সাথে যোগাযোগ করলে তারা আমারে একটা ভিন্ন বিকাশ নাম্বার দেয়। সেই নাম্বারে ১০ হাজার টাকা পাঠানোর কিছু পরে মিলের সিকি কিলোমিটারের মধ্যে সড়কের পাশে আমার মিটারটি আমি পাই। আমার মতো টাকা পাঠিয়ে ভুট্টো ও শরীফ হোসেন তাদের মিটার পেয়েছে। পরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে জানানো হয়েছে যে, আমরা মিটারগুলো পেয়েছি।

এ দিকে হাজীগঞ্জ তথা চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে মিটার চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলেও উল্লেখিত ৩ জন ছাড়া কেউ চুরি যাওয়া মিটার আর ফিরে পাননি।

বাকিলার স’ মিল মালিক শুকুর আলম জানান, চোরের সাথে আমার কথা হয়েছে। তারা ১০ হাজার চেয়েছে, আমি রাজি হইনি। তিনি আরো জানান, নতুন শিল্প মিটার আনতে গেলে ১০ হাজার টাকার মতোই লাগে। চোরের ১০ হাজার টাকা দিয়ে মিটার ফেরত আনার পর তা যদি নষ্ট হয়ে থাকে তাহলে ডাবল খরচ হবে। তাই আমি নতুন মিটারই আনবো।

বলাখাল সাবস্টেশন অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ সুজন দেবনাথ জানান, আমাদের বলাখাল সাবস্টেশনের আওতাধীন কোনো মিটারই ফেরত পাওয়া যায়নি। এ দিকে ঘটনার দিন আমরা হাজীগঞ্জ থানায় ডায়েরি করেছি।

উল্লেখ্য, গত বুধবার দিবাগত রাতে চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের গোগরা থেকে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার মিঠানিয়া ব্রিজ পর্যন্ত মোট ৭ টি মিলিয়ে হাজীগঞ্জ থেকে প্রায় ১১টি মিটার চুরি হয়েছে। যার মধ্যে দু-একটি বাদে সব মিটার শিল্প মিটার তথা স’ মিল ও গার্মেন্টস্ জুট কাপড় থেকে তুলা তৈরি করার মেশিনের মিটার।

চুরি হওয়া মিটারগুলো ছিলো: বাকিলা পশ্চিম বাজারের শুকুর আলমের স’ মিল, পূর্ব বাজারের তাহেরের স’ মিল, মোস্তফার স’ মিল, মহামায়া এলাকার শরীফ হোসেনের স’ মিল, বিল্লাল মিজির স’ মিল ও দেবপুরের ভুট্টো বকাউলের স’ মিলের মিটারসহ প্রায ২০/২২ টি মিটার। সব মিটার চুরির ঘটনা একই রাতে ঘটে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে এক ব্যবসায়ী চোরের দেয়া ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করলে নতুন করে আরেকটি বিকাশ ফোন নাম্বার দিয়ে বলা হয় ১০ হাজার টাকা দিলে মিটারটি সময়মতো পৌঁছে দেয়া হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital