বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

১৩ দিনের মাথায় চাঁদপুরের দুই ভাই চলে গেল না ফেরার দেশে

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১০:৪৫ পিএম
১৩ দিনের মাথায় চাঁদপুরের দুই ভাই চলে গেল না ফেরার দেশে

জাহাঙ্গীর আলম (বাঁয়ে) ও তাঁর ছোট ভাই রুবেল সর্দার। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে কয়েক দিন আগে রুবেল সর্দার (২৭) নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এর ১৩ দিনের মাথায় তাঁর বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম সর্দারের (৫৫) মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারটি বলছে, ছোট ভাইয়ের এমন মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেছে জাহাঙ্গীরও।

জাহাঙ্গীর ও রুবেল মতলব উত্তর উপজেলার আদুরভিটি গ্রামের হাবিল সর্দারের ছেলে। ছয় ভাই ও এক বোনের মধ্যে জাহাঙ্গীর সবার বড় ও রুবেল ছোট। জাহাঙ্গীরের পরিবারে চার সন্তান আছে। রুবেল অবিবাহিত ও উচ্চশিক্ষার জন্য তাঁর দেশের বাইরে যাওয়ার কথা ছিল। দেশে তিনি একটি ওষুধ কোম্পানিতে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন।

রুবেল ও জাহাঙ্গীরের আরেক ভাই চান মিয়া জানান, রুবেলের মৃত্যুর পর জাহাঙ্গীর আলম শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। আগে থেকেই তাঁর হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের রোগসহ নানা শারীরিক সমস্যা ছিল। ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর শোকে তাঁর অসুস্থতা আরও বাড়তে থাকে। গতকাল রাত ১০টার দিকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। রুবেলের কবরের পাশেই জাহাঙ্গীরের লাশ দাফন করা হয়। ১৩ দিনের মধ্যে দুই ভাইকে হারিয়ে তিনিসহ পরিবারের সবাই শোকে মুহ্যমান। পরপর দুই স্বজনের মৃত্যুর ভার নিতে পারছেন না স্বজনেরা। এ কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

Model Hospital

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুবেল স্নাতকোত্তর শেষ করার পর একটি ওষুধ কোম্পানিতে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি নেন। তাঁর কর্মস্থল ছিল নোয়াখালী জেলা সদরে। চাকরির পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষা নেওয়ার জন্য মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ১১ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) মালয়েশিয়ার উদ্দেশে তাঁর রওনা দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে নোয়াখালীর কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশে বের হন রুবেল। সেখানে না গিয়ে ওই দিন এক বন্ধুসহ চাঁদপুর শহরের বিপণিবাগ এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন। ২ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই হোটেলের এক কর্মচারী রুবেলের কক্ষের দরজা খোলা পান। ভেতরে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ দেখতে পান। তবে ওই বন্ধু সেখানে আর ছিলেন না। পরে চাঁদপুর মডেল থানা-পুলিশ সেখান থেকে রুবেলের লাশ উদ্ধার করে।

রুবেল সর্দারের ভাই চান মিয়া দাবি করেন, তাঁর রুবেলকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছেন তাঁর বন্ধু। এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, রুবেলের মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটির আপাতত তদন্ত চলছে। রুবেলের সঙ্গে থাকা ওই ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পরিবারের দুই সদস্যের পর পর মৃত্যুতে গোটা পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রুবেল ও জাহাঙ্গীরের মা ভুলু আক্তার বলেন, ‘১৩ দিনের মাথায় আমার দুইটা বুকের ধন চইলা গেল। আমি অনে বাঁচুম ক্যামনে? দুই পোলার মরণ আমার সব শেষ কইরা দিল। তাঁগো আগে আমি মরলাম না কেন?’

এদিকে মতলব উত্তর থানার ওসি মো. রবিউল হক বলেন, অল্প দিনের ব্যবধানে এক পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুর খবরটি তিনি জেনেছেন। এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ হয়নি।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital