বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলা ছাত্র জমিয়তের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৫, ৯:০৯ পিএম
চাঁদপুর জেলা ছাত্র জমিয়তের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

চাঁদপুর জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরিফুল ইসলাম বলেছেন, পবিত্র রমজান মাস।

মুমিনের তাকওয়া ও পূন্য অর্জনের পূন্যময় মাস। রমজান আল্লাহ তা’য়ালার কাছে খুবই প্রিয়। শুধু রমজানেই নয়; একজন সফল মুমিনের জন্য তাকওয়াপূর্ণ জীবন সর্বদাই জরুরি। আল্লাহ তা’য়ালার ভয় হৃদয়ে না থাকলে প্রবৃত্তির গোলাম হতে হয়। প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে হয়। তাকওয়া বান্দার হক নষ্ট করা থেকেও বিরত রাখে। অন্যায়, অশ্লীলতা, পঙ্কিলতা, অপকর্ম, পাপাচার, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি ইত্যাদি সকল প্রকারের গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখে।

আজ শনিবার (২৯ মার্চ) চাঁদপুর শহরের এলিট চাইনিজ রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি সেন্টারে মাহে রমজানের তাৎপর্য ও গুরুত্ব শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।

জেলা ছাত্র জমিয়তের সহসভাপতি আশরাফ শাহীনের সভাপ্রধানে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে রাখেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাউসার আহমাদ। এসময় তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতন হলেও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থেমে নেই। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা জীবনবাজি রেখে ফ্যাসিবাদকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছে। অতএব অতিদ্রুত সময়ে জুলাই আগস্টের গণহত্যার বিচার করতে হবে এবং আমরা যদি সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে পারি তাহলে যেকোনো ষড়যন্ত্রকে আমরা মোকাবিলা করতে পারবো। জুলাই-আগষ্টের অভ্যুত্থান কোনো একক সংগঠনের কোনো ক্রেডিট নয় বরং তা হয়েছিলো জাতীয় ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমে। তাই ঐক্যের বিকল্প নেই।

Model Hospital

সভাপতির বক্তব্যে আশরাফ শাহীন বলেন, চাঁদপুর জেলা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, চাঁদপুর নিয়ে নতুন করে কোন প্রকার ষড়যন্ত্র ছাত্র-সমাজ মেনে নিবেনা। কঠোর হস্তে প্রতিরোধ করবে। যদি তারুণ্যের এই শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি আমরা তাহলে আগামীর বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছবে।

ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা জমিয়তের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ওমর ফারুক বাদশাহ, জেলা জমিয়তের প্রচার সম্পাদক মুফতি আরিফ বিল্লাহ কাসেমী, জেলা ছাত্র জমিয়তের সাবেক সভাপতি মাওলানা মঈনুদ্দিন মানিক, জেলা যুব জমিয়তের সদস্য সচিব মাওলানা মাজহারুল ইসলাম।

বন্ধু প্রতিম ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী ছাত্র মজলিস বাইতুল মাল সম্পাদক মো. রফিউর রহমান, ইসলামি ছাত্র আন্দোলন চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক একেএম মাসউদুর রহমান, ছাত্র অধিকার পরিষদ চাঁদপুর জেলার খলিলুর রহমান, আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ফয়সাল আহমাদ।

সর্বশেষ জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরিফুল ইসলাম দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে প্রোগ্রাম সমাপ্ত করেন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।