বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাকরিতে পূণর্বহালসহ স্থায়ী করার দাবিতে

চাঁদপুর পৌরসভার কর্মচারীদের আমরণ অনশন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:১০ পিএম
চাঁদপুর পৌরসভার কর্মচারীদের আমরণ অনশন

চাঁদপুর পৌরসভার চাকুরীচুত্য কর্মচারীদের পূণর্বহালসহ স্থায়ী করার দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেন কর্মচারীরা।

চাকরিতে পূণর্বহালসহ স্থায়ী করার দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন চাঁদপুর পৌরসভার চাকুরীচুত্য কর্মচারীরা।

রোববার (৬ এপ্রিল) সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত পৌরসভার সামনে এই আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করে চাঁদপুর পৌরসভার সাধারণ চাকুরীচুত্য কর্মচারীরা।

এসময় “চাকুরী মোদের ফিরিয়ে দে,নইলে মুখে বিষ দে”আমরা কেন বৈষম্যের স্বীকার হলাম, হয় চাকরি দিন, না হয় বাঁচতে দিন; চাকরি ফেরত চাই, দিতে হবে’ বিভিন্ন লেখা সম্বলিত নানা স্লোগান দিচ্ছেন কর্মচারীরা।

অনশনে নাজমা আক্তার, রাজু পাটওয়ারী, রিয়াদ পাটওয়ারী, মোহাম্মদ হোসেন, সেলিম হোসেন, বিল্লাল হোসেন, রবিন চৌধুরী, সোহেল, সাখাওয়াত, সার্ভেয়ার হাসান, সাইফুল ইসলামসহ বেশ কিছু চাকুরীচুত্য কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

চাকুরীচুত্য কর্মচারীরা বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৭ থেকে ১৮ বছর এই পৌরসভায় চাকরি করে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আমাদেরকে প্রশাসক মৌখিকভাবে বাদ দিয়ে দেয়। তারপর আমরা পৌর সচিব স্যারের কাছে গিয়ে আমাদেরকে বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চাই। তখন তিনি আমাদের জানান মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী আমাদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে কোন চিঠি আমরা পাইনা। আর যদি মন্ত্রনালয়ের নিয়ম অনুযায়ী বাঁধ দিতে হয় তাহলে তো সবাইকে বাদ দিতে হবে, আমাদের কয়েকজনকে কেন টার্গেট করা হলো। আমরা চাই এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আমাদেরকে যেন চাকরিতে পূণর্বহাল করে নেওয়া হয়। চাকরিতে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আমাদের আমরণ শান্তিপূর্ণ অনশন কর্মসূচি চলবে।

এবিষয়ে চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক গোলাম জাকারিয়া বলেন, তারা সবাই পৌরসভায় দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে ছিল। এটি সম্পূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ, অপ্রয়োজনীয় লোকবল থাকবে না। এখানে আমার কিছু করার নেই।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় হাজীগঞ্জের শিক্ষকক জুয়েলক বাধ্যতামুলক ছুটি

চাঁদপুরের মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করায় তাকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। ওই শিক্ষকের নাম মোঃ জুয়েল তালুকদার। তার বাড়ী হাজীগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দসার গ্রামে। তার পিতার নাম আলী আজম। মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। এক বছর আগে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি।

জানা গেছে, শিক্ষক জুয়েল তালুকদার তার নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যাঙ্গ করে এবং কুরুচিপূর্ণ ও সমালোচনামুলক একাধিক পোস্ট করেন ওই শিক্ষক। বিগত কয়েক মাস যাবৎ ‘জুয়েল তালুকদার ‘ নামের ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছাড়াও বিএনপির সাবেক মহাসচিব বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি দিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নজরে আসলে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃস্টি হয় এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।

তাৎক্ষণিক মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি কেএম ইশমাম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক জুয়েল তালুকদারকে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম থেকে বাধ্যতামুলক ছুটিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Model Hospital

মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মিরাজ মাহমুদ জিসান বলেন, ‘ওই শিক্ষক সরকারের সুবিধা ভোগ করে তার ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা করে আসছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।’

মতলব পৌর বিএনপির সভাপতি শোয়েব আহমেদ সরকার বলেন,‘ওই শিক্ষক মতলবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অন্তরালে সরকারের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান তিনি।’

ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে জুয়েল তালুকদার বলেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি পরবর্তীতে ডিলিট করে দিয়েছি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি কেএম ইশমাম বলেন, ‘শিক্ষককে বাধ্যতামুলক ছুটির পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ কার্যদিসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।’