বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ধর্মীয় নীতি আদর্শ চর্চা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণেই যুবসমাজ মাদকাসক্ত হচ্ছে : জয়নাল আবেদীন

মাদকাসক্ত রাষ্ট্র ও সমাজকে ক্ষতবিক্ষত করছে : ওসি বাহার মিয়া

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫, ১:৩৬ এম
মাদকাসক্ত রাষ্ট্র ও সমাজকে ক্ষতবিক্ষত করছে : ওসি বাহার মিয়া

ইব্রাহীমপুরে মাদক ইভটিজিং চাঁদাবাজী ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধক শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ বাহার মিয়া।

ইব্রাহীমপুরে মাদক, ইভটিজিং, চাঁদাবাজী, চুরী ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধক শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৬ এপ্রিল) বিকেলে ইব্রাহীমপুর ঈদগাহ বাজার বাস স্ট্যান্ড মাঠে ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের সচেতন উলামা ঐক্য পরিষদ এই আলোচনা সভার আয়োজন করেন।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জননেতা মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মাদক, ইভটিজিং ও চাঁদাবাজী প্রতিরোধে সমাজের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সচেতন হতে হবে। মাদক সেবীদের কে বারবার পুলিশ আটক করে নিলেই এর স্থায়ী সমাধান হবে না।
মাদক নির্মূলে স্থায়ী সমাধান করতে হলে সমাজের প্রত্যেকটি ঘরের অভিভাবকদেরকে সচেতন হতে হবে। মাদক আমাদের সমাজে ক্যান্সারের আকার ধারণ করেছে। এই ক্যান্সার থেকে আমাদের সমাজকে মুক্ত করতে হলে ধর্মীয় অনুশাসন গুলো মেনে চলা জরুরি।
তিনি বলেন, ধর্মীয় নীতি আদর্শ চর্চা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণেই যুবসমাজ মাদকাসক্ত হচ্ছে।
যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সীমান্তে মাদক প্রবেশ এবং মাদকের সকল ট্রানজিট গুলো বন্ধ করতে পারে এবং এর সাথে আমরা সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে পারি তাহলে মাদক নির্মূল।
ইব্রাহীমপুরে মাদক ইভটিজিং চাঁদাবাজী ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধক শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন শেখ মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন।
আমরা আমাদের সন্তানদের কে ধর্মীয় অনুশাসন গুলো মেনে চলতে ছোট থেকেই তদারকি করতে হবে। তবেই মাদকমুক্ত সুন্দর একটি সমাজ বিনির্মাণ করা সম্ভব।
ইব্রাহীমপুর ইউনিয়ন সচেতন উলামা ঐক্য পরিষদের নেতা মুফতি আব্দুল কাদির এর পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ বাহার মিয়া।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে মাদক নেই, মাদককে আমরা একেবারে নির্মূল করতে পারবো না। কিন্তু কন্ট্রোল করতে পারব। মাদক নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সর্বপ্রথম চাই আপনাদের সহযোগিতা। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া কোনভাবেই মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারবোনা। মাদকের ক্ষেত্রে আমরা থানা পুলিশ জিরো টলারেন্স। সে যেই হোক, কোন চার নেই। সে রাজনৈতিক ব্যক্তি হোক কিংবা কোন বিজ্ঞ আলেম হোক কিংবা গরীব কৃষক হোক সে যেই হোক মাদকের ক্ষেত্রে তার কোন চাড় হবে না। কোন প্রকার মাদককেই আমরা সমর্থন করিনা। আপনাদের প্রতি অনুরোধ, যে ঘরে, যে বাড়িতে অথবা যে এলাকায় মাদক সেবী ও মাদক ব্যবসায়ী পাবেন আমাকে ফোন দিবেন। আপনারা কেউ আইন নিজের হাতে তুলবেন না, শুধু আমাকে জানাবেন স্যার একটা মাদক ব্যবসায়ী ধরেছি, ছাড়বেন না।
তিনি আরো বলেন, কিশোর গ্যাং কারা আপনার আমার সন্তানরা। আপনারা আপনাদের সন্তানদেরকে দেখভাল করবেন, আপনার সন্তানরা কোথায় যায়, কার সাথে মিশে পড়ালেখা করে কিনা একটু দেখবেন।
বাল্যবিবাহ নিয়ে তিনি বলেন , আপনারা আপনাদের মেয়েকে ১৮ বছরের আগে কখনোই বিয়ে দিবেন না। এতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
এছাড়াও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাফরাবাদ হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান মুফতি হাফেজ মাওলানা মুফতি ত্বোহা খান, ইসলামী আন্দোলনের জেলা জয়েন সেক্রেটারি শাহ জামাল গাজী সোহাগ, ইব্রাহীমপুর ইউনিয়ন সচেতন উলামা ঐক্য পরিষদ নেতা ও আদালত পাড়া মারিফুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা নাসির উদ্দিন, সাংবাদিক এইচ.এম নিজাম, ইব্রাহীমপুর ইউনিয়ন সচেতন উলামা ঐক্য পরিষদ নেতা মুফতি আল আমিন, মুফতি সুলতান মাহমুদ, মাওলানা হাসান জামিল, জামাত নেতা হাফেজ মোহাম্মদ মোস্তফা, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ রাসেল।
এছাড়াও সচেতনতা সভায় স্থানীয় সকল ওলামায়ে কেরাম, মসজিদের খতিব ও গণ্যমান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।