রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

হাজীগঞ্জের ওড়পুরে শরীফ আতঙ্কে গ্রামবাসী!

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৫, ৯:৪৫ পিএম
হাজীগঞ্জের ওড়পুরে শরীফ আতঙ্কে গ্রামবাসী!

হাজীগঞ্জ উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ওড়পুর গ্রামের আতঙ্ক ও ভয়ঙ্কর এক চরিত্রের নাম শরিফুল ইসলাম। তিনি এলাকায় উশৃঙ্খল শরিফ নামে পরিচিত। এলাকায় গড়ে তুলেছেন ত্রাসের রাজত্ব এবং জড়িয়ে পড়েছেন নানা অপকর্মে। পদ-পদবী না থাকলেও গত জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি বিএনপির নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত কর্মী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে এলাকায় ও নিজ গ্রামে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

তিনি গায়ে পড়ে মানুষের সাথে ঝগড়া-বিবাদ করেন এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মানুষকে মারতে আসেন। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ কিংবা তার বিরুদ্ধে বলার সাহস রাখেন না। যার ফলে এলাকার লোকজনসহ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ তার ভয়ে আতঙ্কিত। তাই, নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকার লোকজন ও গ্রামবাসী। তারা তদন্তপূর্বক শরীফের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানান।

অভিযুক্ত শরীফ উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ওড়পুর গ্রামের হাজী বাড়ির মৃত আবু তাহেরের ছেলে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে দেড় লাখ ও ভেকু জসিম নামের অপর এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩৯ হাজার টাকা আদায় করেছেন শরীফ। এলাকার আরো দুই ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ১০ লাখ করে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি মানুষের সাথে গায়ে পড়ে ঝগড়া-বিবাদ করে থাকেন। কেউ প্রতিবাদ করলে কিংবা তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাকে তেড়ে আসেন এবং মারধর করেন।

Model Hospital

কথায় কথায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন। ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস না পেলেও সম্প্রতি ইউপি সদস্যের সাথে শরিফের বিবাদের জেরে মানুষ একে একে মুখ খুলতে শুরু করেছেন এবং কয়েকজন ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের কাছে বক্তব্য দিয়েছেন। যদিও সবারে চোখে মুখে ছিলো, ভয় ও আতঙ্কের চাপ। তবে বেশিরভাগ ব্যক্তিই নিরাপত্তাহীনতায় এবং তার ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে নারাজ।

শরীফের আপন চাচা বয়োবৃদ্ধ জাকির হোসেন জানান, সে শুধু গায়ে পড়ে ঝগড়া-বিবাদ করে। এ পর্যন্ত আমাকে কতবার মারধর করেছে, তার হিসাব নেই। কিছুদিন আগে আমার ছেলেকে পানিয়ে চুবিয়ে (ডুবিয়ে) মারতে গেছে, কিন্তু লোকজনের কারণে মারতে পারেনি। আমরা তার কাছে অসহায়। কেউ তার ভয়ে মুখ খোলে না।

ওই এলাকার জসিম ভুইয়া জানান, সে (শরিফ) মানুষকে ধরে ধরে মারে। মানুষকে মানুষ করে না। দা, কোদাল (দেশীয় অস্ত্র) পিটায়। কেউ প্রতিবাদ করলে, তাকে আওয়ামী লীগের দালাল বলে হুমকি-ধমকি দেয়। যে প্রতিবাদ করবে কিংবা তার বিরুদ্ধে বলবে, তার নিরাপত্তা নেই।

আকবর হোসেন জানান, সে মানুষের প্রতি জুলুম-অত্যাচার করে, চাঁদাবাজি করে। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে, সে তাকে একা কিংবা নিরিবিলি পেলে ধরে বসে। যার কারণে সবাই নিরাপত্তাহীনতা ভুগে। আপনাদের (সংবাদকর্মী) কাছে বক্তব্য দেওয়ার কারণে, আমিই এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেছি।

পারভেজ নামের অপর এক ব্যক্তি জানান, সে ইচ্ছেকৃতভাবে মানুষের সাথে ঝগড়া লাগে। কথায় কথায় মানুষকে গালাগালি ও মারধর করে। যারা আওয়ামী করে তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে।

বৃদ্ধ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সে ভালো লোক না। তার বিরুদ্ধে যে কথা বলবে, তাকেই সে সাইজ করে দিবে। এখন আমি আপনাদের (সংবাদকর্মী) কাছে বক্তব্য দিয়ে মনে হয় বিপদে পড়ে গেছি।

সেলিম হোসেন নামের এক ব্যক্তি জানান, শরীফ ইচ্ছেকৃতভাবে তার ১৫/২০টা গরু ছেড়ে দেয় এবং সেই গরুগুলো মানুষের গাছ-গাছালি ও ফসল খেয়ে পেলে। আমার ৩০ হাজার ক্ষতি করেছে। আমি প্রতিবাদ করায়, সে আমাকে গালাগালি করে এবং মারতে আসে। আমি তার সাথে শক্তিতে পারবো না বলে মেম্বারকে জানিয়েছি।

হাদিস নামের এক দোকানদার জানান, তার দোকানে চার বছর ধরে বাকি খাচ্ছে শরীফ। কিন্তু টাকা দেয়না। তিনি বাকি বন্ধ করে দেওয়ার কারণে শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালাগালি ও মারধর করতে আসেন। এসময় তিনি আরো জানান, তার ভাই পারভেজ ও চাচা মাসুদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে শরীফ।

বৃদ্ধ আবুল বাসার ভুইয়া জানান, বিদ্যালয় মাঠে খেলার একটি বিষয় নিয়ে শরীফ গায়ে পড়ে তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন এবং তাকে মারধর করার জন্য তেড়ে আসেন।

এদিকে দেড় লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত শরীফ জানান, আওয়ামী লীগের আমলে ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমার কাছ থেকে ওই সময়ে টাকা নিয়েছে, ৫ আগস্টের পর আমি আবার সেই টাকা ফেরৎ নিয়েছি। তাছাড়া ওই সময়ে আমার বাড়ি-ঘরে হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। যারা এসব কাজ করেছে, আমি তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চেয়েছি।

অপর অভিযোগগুলো অস্বীকার করে এবং এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলে আমার পদ নেই। তবে আমি বিএনপি করি এবং আমি প্রতিবাদী। আল্লাহকে ছাড়া কাউকে ভয় করিনা। যার কারণে, কোথাও অন্যায় দেখলে আমি প্রতিবাদ করে থাকি। আমি কোন হারাম কাজের সাথে জড়িত নই (না)। তাছাড়া আমি এমনিতেই কথা বলি (কণ্ঠস্বর ছড়া)। তাই, অনেকে মনে করে আমি ঝগড়া-বিবাদ করে থাকি।

তিনি ইউপি সদস্য মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তার সাথে আমার সমস্যা হয়েছে। এই সমস্যা কারণে সে (ইউপি সদস্য) এলাকার লোকজনকে আমার বিরুদ্ধে লাগিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুনুর রশিদ বলেন, তার (শরীফ) বিরুদ্ধে লোকজন অহরহ অভিযোগ নিয়ে আসে। শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে কিছু বিষয় সমাধান করে দেয়েছি, আবার কিছু করতে পারি নাই। কারণ, সে বেপরোয়া টাইপের। ডাক-দোহাই (নিষেধ কিংবা বারণ) দিলে শুনে না এবং মানে না। আর এই ডাক-দোহাইয়ের কারণে, সে আমার সাথেও বিষেধাঘার করছেন এবং আমার সাথেও খারাপ আচরন করছেন।

কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, শরীফ উশৃঙ্খল টাইপের। দলে তার কোন পদ-পদবি নেই।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, কিছুদিন পূর্বে সে একটি বিষয়ে মুছলেকা দিয়ে গেছে। এখন আবার তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ শুনেছি, বিষয়গুলো আমরা তদন্ত করে দেখছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো, ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।