শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

বাঙলা সংস্কৃতির বৈশাখী মেলা বসেনি এবার শতবর্ষী মহামায়া বাজারে

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৫, ১১:০৯ পিএম
বাঙলা সংস্কৃতির বৈশাখী মেলা বসেনি এবার শতবর্ষী মহামায়া বাজারে

যুগ যুগ ধরে ঐতিহ্যের স্বাক্ষী বৈশাখী মেলা বিহীন চাঁদপুর সদরের মহামায়া বাজার থেকে তোলা।

বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যের ধারায় মেলা অন্যতম অনুষঙ্গ। মেলা বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোকজ উৎসব। মেলা শব্দটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনে আনন্দের অনুভূতি হয়। বাঙালির এক অনুপম উপদান হলো বাঙালি সংস্কৃতি। বাঙালির এমন সংস্কৃতি যুগ যুগ ধরে চলে এসেছিল চাঁদপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র মহামায়া বাজারে।
জনগুরুত্বপূর্ণ এই বাজারটিতে প্রতি বছরই বসেছে বৈশাখী মেলা। কিন্তু এবছর এর কোন কিছুই চোখে পড়েনি।
সরকারি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বাংলা নতুন বছর এসেছে গত ১৪ এপ্রিল সোমবার। কিন্তু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের বৈশাখী উৎসব পালন করেছে ১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার। তাদের উৎসবের দিনেই প্রতি বছর খুব উৎসাহ উদ্দীপনায় মহামায়া বাজারে বসতো গলিয়া নামের এই বৈশাখী মেলা। জানা যায়, বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে চাঁদপুর সদরের এই মহামায়া বাজারের নাম। এখানে বৈশাখী মেলা নামের গলিয়া না বসায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অনেকে আবার স্মৃতিচারণও করেছেন এই মেলা নিয়ে।
প্রতি বছরের গলিয়ায় বিভিন্ন মুখরোচক খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি ভুভুজেলা, বাঁশি, পুতুল, ঝুনঝুনি, প্লাস্টিকের হাড়ি-পাতিলসহ শিশুদের জন্য নানা ধরনের খেলনা বিক্রি করা হতো। মেলায় পাওয়া যেতো রঙ-বেরঙের পোশাক, হস্তশিল্প পণ্য, মাটির তৈজসপত্র, মাটির গয়নাসহ নানা রকম অলঙ্কার। ঐতিহ্যবাহী মুড়ি-মুড়কি, বাতাসা, মোয়া, লাড্ডু, কদমাসহ বিভিন্ন মিষ্টান্নও বিক্রি হয়নি এবছর। ছিল না কোন দর্শনার্থী কিংবা শিশু কিশোরের হৈ-হুল্লোড়। বাজারে দেখা যায়নি এর কোন কিছুই।
এ নিয়ে মনির পাটওয়ারী নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেন, ছোট কালে মহামায়া বাজারে পহেলা বৈশাখের দিন ঘুরতে যাওয়া, হরেক রকমের জিনিস পত্রের কেনার মাঝে যে আনন্দ টা পেতাম, সেই আনন্দ কোন কিছু দিয়ে পূরণ করা সম্ভব না। আজ সেই ঐতিহাসিক বাজারে পহেলা বৈশাখের আমেজ নেই শুনে সত্যি অনেক খারাপ লাগে। স্বপ্নিল পবন নামে আরেকজন লিখেন, একসময় প্রতিবছর সেই মেলায় গিয়ে আম কাটার ছুরি, খেলনা কিনার জন্য মুখিয়ে থাকতাম।
আহ কি স্মৃতি। বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের এই বাজারে প্রতি বছর মেলা বসে এসেছে। আশ পাশের মধ্যে এ বাজারেই মেলা হতো। দূর দূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের এই বৈশাখী মেলায় সমাগম হতো। কিন্তু এবছর মেলা না হওয়ার কারন কি, কোন কিছুই বুঝি না। তবে মেলাটি যাতে হারিয়ে না যায়, সেজন্য প্রশাসনের সুর দৃষ্টি কামনা করছি।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।