শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জিলানী চিশতী উবি’তে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ানুষ্ঠান সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১, ৭:০৭ পিএম
জিলানী চিশতী উবি’তে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ানুষ্ঠান সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের শাহতলী জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে শিক্ষাউপকরণ বিতরণ,আলোচনা সভা ,মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৬ নভেম্বর (শনিবার) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: শাহাদাত হোসেন এর সভাপতিত্বে ও ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবুল কালাম আজাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

প্রধান অতিথি বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী বক্তব্যে বলেন, আজকের দিনটি পরীক্ষার্থীর জন্য স্মরণীয় দিন। আল্লাহর রহমতে করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব কমায় তোমাদের এসএসসি পরীক্ষা হচ্ছে।তোমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে তোমরা পরীক্ষার হলে যাবে। অত্যন্ত ৩০মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবস্থান করবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে তোমাদের পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করায় আমি ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এমপিকে। অটোপাশ থেকে সরাসরি পরীক্ষা তোমাদের জন্য অনেক ভালো। তোমরা এসএসসি পাস করে পাশ্ববর্তী জিলানী চিশতী কলেজে ভর্তি হবে। সেখানে সকল বিষয়ে অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষক রয়েছে। অবকাঠামোগত দিক থেকে অনেক উন্নত জিলানী চিশতী কলেজ। কম্পিউটার শিখার জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব। জিলানী চিশতী কলেজটি মাদক, সন্ত্রাস, রাজনীতি মুক্ত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মেয়েদের জন্য নিরাপদে শিক্ষা গ্রহনের অভয়ারন্য জিলানী চিশতী কলেজ।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনির কাছে কৃতজ্ঞ। এ বিদ্যালয়সহ এখানকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ করেছেন। উন্নয়ন হয়েছে সমগ্র দেশসহ চাঁদপুরেও।

এসময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জিলানী চিশতী কলেজের অধ্যক্ষ মো: হারুন-অর রশিদ, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নয়ন চন্দ্র দাস, ৩০নং মধ্য শাহতলী কাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা: তহমিনা আক্তার।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জিলানী চিশতী কলেজের প্রভাষক মো: হানিফ মিয়া, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ফাহিমা জাহান, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো: দিদার হোসেন মিজি, সহকারি শিক্ষক মাওলানা শহিদুল ইসলাম, সহকারি শিক্ষক মো: ফজলুল করিম খান।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জিলানী চিশতী কলেজের প্রভাষক মো: জহিরুল ইসলাম খান মুরাদ, প্রভাষক মো: মানিক মিয়া, প্রভাষক মো: শাহাদাত হোসেন, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক লুৎফুর রহমান, বিপুল চন্দ্র নন্দী, সহকারি শিক্ষক মো: সাইফুল ইসলাম, সহকারি লাইব্রেরীয়ান শিক্ষক মো: রবিউল আউয়াল খান, কম্পিউটার অপারেটর মো: মোস্তফা কামালসহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানে এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদীসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
পরীক্ষার্থীদের জন্য দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠানে মুনাজাত করেন বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা শহীদুল ইসলাম ।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: শাহাদাত হোসেন। তিনি বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’