বাজার ইজারা নিয়ে উত্তেজনা, বিপাকে ইজারাদার
এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ৪ মে, ২০২৫, ১০:৫২ পিএম
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা বাজার সরকারিভাবে প্রথমবারের মতো তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বাজারটির ইজারা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করে পৌর কর্তৃপক্ষ, যাতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পান আব্দুল মতিন নামের এক ব্যবসায়ী।
তবে ইজারা পাওয়ার পর থেকেই বিপাকে পড়েছেন ইজারাদার আব্দুল মতিন। বাজারে থাকা মৎস্য আড়ৎদাররা তার কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত খাজনা দিতে অস্বীকৃতি জানান। খাজনা আদায় নিয়ে একাধিক বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। বরং ইজারাদারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসক, থানা ও সেনাবাহিনী ক্যাম্পে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেন আড়ৎদাররা।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এআরএম জাহিদ হাসান জানান, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভাটিয়ালপুর বাজার ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। ইজারাদারের খাজনা আদায়ের বৈধতা রয়েছে। আড়ৎদারদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৎস্য আড়ৎদাররা শতকরা দুই শতাংশ হারে সরকারি খাজনা দিতে নারাজ। তাদের দাবি, খাজনা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা সম্ভব নয়। এমনকি, ইজারাদার যখন মাত্র ০.৫০ পয়সা খাজনা দাবি করেন, তখনও আপত্তি জানান তারা। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ইজারাদার আব্দুল মতিন বলেন, “আমি সরকারি নীতিমালার বাইরে কিছু দাবি করিনি। বরং খাজনা হার অনেক কম রেখেছি। তবুও আড়ৎদাররা মিথ্যা অভিযোগ করে প্রশাসনে আমাকে হয়রানি করছে।”
এ বিষয়ে ভাটিয়ালপুর এলাকার সাবেক কমিশনার নজরুল ইসলাম জানান, “মতিন আমার সাথে আলোচনা করে খাজনা আদায়ের বিষয়ে সম্মতি নিয়েছিল। আমি আড়ৎদারদের পক্ষ নিয়ে সর্বনিম্ন হারেও খাজনা দিতে বলি, তবুও তারা রাজি হয়নি।”
বাজারের কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা অন্যান্য বাজারে খাজনা দিয়ে ব্যবসা করি। এখানে কেন এত সমস্যা, বুঝতে পারছি না।”
সচেতন মহলের মতে, বাজারটি নতুনভাবে ইজারা দেওয়ার আগে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো যেত। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটিয়ে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান।
পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ আইন অমান্য করলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





