বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বাজার ইজারা নিয়ে উত্তেজনা, বিপাকে ইজারাদার

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ৪ মে, ২০২৫, ১০:৫২ পিএম
বাজার ইজারা নিয়ে উত্তেজনা, বিপাকে ইজারাদার
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা বাজার সরকারিভাবে প্রথমবারের মতো তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বাজারটির ইজারা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করে পৌর কর্তৃপক্ষ, যাতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পান আব্দুল মতিন নামের এক ব্যবসায়ী।
তবে ইজারা পাওয়ার পর থেকেই বিপাকে পড়েছেন ইজারাদার আব্দুল মতিন। বাজারে থাকা মৎস্য আড়ৎদাররা তার কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত খাজনা দিতে অস্বীকৃতি জানান। খাজনা আদায় নিয়ে একাধিক বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। বরং ইজারাদারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসক, থানা ও সেনাবাহিনী ক্যাম্পে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেন আড়ৎদাররা।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এআরএম জাহিদ হাসান জানান, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভাটিয়ালপুর বাজার ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। ইজারাদারের খাজনা আদায়ের বৈধতা রয়েছে। আড়ৎদারদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৎস্য আড়ৎদাররা শতকরা দুই শতাংশ হারে সরকারি খাজনা দিতে নারাজ। তাদের দাবি, খাজনা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা সম্ভব নয়। এমনকি, ইজারাদার যখন মাত্র ০.৫০ পয়সা খাজনা দাবি করেন, তখনও আপত্তি জানান তারা। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ইজারাদার আব্দুল মতিন বলেন, “আমি সরকারি নীতিমালার বাইরে কিছু দাবি করিনি। বরং খাজনা হার অনেক কম রেখেছি। তবুও আড়ৎদাররা মিথ্যা অভিযোগ করে প্রশাসনে আমাকে হয়রানি করছে।”
এ বিষয়ে ভাটিয়ালপুর এলাকার সাবেক কমিশনার নজরুল ইসলাম জানান, “মতিন আমার সাথে আলোচনা করে খাজনা আদায়ের বিষয়ে সম্মতি নিয়েছিল। আমি আড়ৎদারদের পক্ষ নিয়ে সর্বনিম্ন হারেও খাজনা দিতে বলি, তবুও তারা রাজি হয়নি।”
বাজারের কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা অন্যান্য বাজারে খাজনা দিয়ে ব্যবসা করি। এখানে কেন এত সমস্যা, বুঝতে পারছি না।”
সচেতন মহলের মতে, বাজারটি নতুনভাবে ইজারা দেওয়ার আগে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো যেত। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটিয়ে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান।
পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ আইন অমান্য করলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।