বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচরে খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল শিশুর

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি প্রকাশিত: বুধবার, ৭ মে, ২০২৫, ৮:৩২ পিএম
হাইমচরে খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল শিশুর
হাইমচর উপজেলার মহজমপুর গ্রামে আজ বুধবার (৭ মে) সকালে পুকুরের পানিতে ডুবে মোঃ মাহমুদুল হাসান (৩) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মাহমুদুল ওই গ্রামের মোঃ ইসমাইল হোসেন খানের একমাত্র পুত্র সন্তান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশু মাহমুদুল বাড়ির পাশে কোতোয়াল মোড় সংলগ্ন খান বাড়ির পুকুরে খেলা করছিল। এক পর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। পরে শিশুটির মা মাহমুদুলকে পানিতে ভাসতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে এলাকার লোকজন সহ হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
শোকার্ত পিতা ইসমাইল খান জানান, তিনি কাজের জন্য বাইরে ছিলেন। হঠাৎ ছেলের দুর্ঘটনার খবর শুনে দ্রুত বাড়ি ফিরে যান এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন তার আদরের একমাত্র ছেলে আর নেই। তিনি এই অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
হাইমচর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সমীর কুমার জানান, খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শিশুটির বাড়িতে গিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। যেহেতু পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই, তাই এই ঘটনায় কোনো অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়নি।
শিশু মাহমুদুলকে জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।